সেবাদানকারী ব্যক্তির নিজের সেবায় করণীয়ঃ পর্ব-৫

responsibilities of care givers

কথায় আছে ’যিনি রাঁধেন তিনি চুলও বাঁধেন’। অর্থাৎ যিনি আরেকজনকে খাওয়াবেন তাকে নিজের যত্ন নিতেও জানতে হবে। তাই আজকে সেবা দানকারী ব্যক্তি নিজের যত্নে কি করবেন সেটি নিয়ে বলব। সেবা দানকারী ব্যক্তির দায়িত্ব ও কর্তব্য পর্বে দেখেছি যে তাকে কাজ এর ব্যবস্থাপনা জানতে হবে। তাকে নিজের যত্নের জন্য তাকে আলাদা সময় রাখতে হবে।

১. প্রতিদিন নিজেকে অনুপ্রেরনা যোগায় এমন কিছু ইতিবাচক আত্ম-সমালোচনা করুন। আমাদের করণীয় ভাল কাজগুলো স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের অনেক উৎসাহ দেয় যেন আরও ভাল কিছু আমরা করতে পারি। আর আমাদের করণীয় অপ্রত্যাশিত মন খারাপ করা আচরণগুলো আমাদের কষ্ট দেয়। যেহেতু যিনি সেবা দান করবেন তাকে সুস্থ মানসিক শক্তি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে তাই তাকে নিজের আচরণের ইতিবাচক দিকগুলোই ভাবতে হবে। আমরা নিশ্চয়ই জানি ইতিবাচক চিন্তা আমাদের জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করে এবং অপরদিকে নিজ আচরণ নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা আমাদের দুর্বল করে দেয়।

২. ঘুম থেকে উঠেই যখন কাজে নামতে হবে তখন খানিকটা সময় হাতে নিয়ে উঠুন যেন নিজের ব্যক্তিগত যত্নের কাজগুলো আগেই সেরে নিতে পারেন। নাস্তা তৈরি বা রোগীর পথ্য দেয়ার আগেই নিজে কিছু খেয়ে নিন। যেন কাজে স্বতঃস্ফূর্ত থাকতে পারেন।

৩. বয়স্ক মা-খালা বা নানী-দাদীরা অনেক সময়ই গুল বা সাদাপাতা বা পান খেয়ে থাকেন। এই সব তামাকজাত দ্রব্য বর্জন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ এই দ্রব্যগুলো আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে কোন ভূমিকা রাখে না। এসবরে পরিবর্তে লেবুর শরবত, গুড়ের শরবত, আচার, বড়ই বা কামরাঙ্গা খান।

৪. মাঝেই মাঝেই গল্প করুন। রোগীর সাথেও মন খুলে গল্প করুন। তবে অবশ্যই রোগীর জন্য অস্বস্তিকর কোন পরিবেশ যেন তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৫. পরিবারে যখন কাজের বণ্টন করে দিবেন তখন যেন সবাই এ ব্যাপারে সহযোগী মনোভাব রাখতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। যখনই কারো মনে অসন্তোষ তৈরি হবে সেটি নিয়ে তার সাথে আলোচনা করুন। এতে করে নিজের উপরে মানসিক ক্লান্তি বা অতিরিক্ত দায়বদ্ধতার চাপ কমে আসবে।
রাতে ঘুমাতে যাবার পূর্বে কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। এটি আরামদায়ক ঘুমের জন্য অনেক উপকারী।

৬. সপ্তাহে বা মাসে যখনই মন চাইবে বাহিরে ঘুরে আসুন। অনেক সেবা দানকারী মনে করেন তিনি যদি বিনোদন করেন তাহলে রোগীর যত্নে অবহেলা হবে বা লোকে তাকে খারাপ ভাববে। কিন্তু যেহেতু আপনি রোগীর সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করছেন। তাই আপনার সুস্থতা অনেক বেশী জরুরী। আর বিনোদন সুস্থ থাকতে সহযোগিতা করে। আপনার নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস আর বিনোদন আপনাকে অনেক সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে।

আসুন পরিবারে ও অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে আমরা যারা সেবা দানকারী রয়েছি তারা যেন নিজের যত্নে যে কাজগুলো করা দরকার তা করতে সচেতন হই। ঝেড়ে ফেলি হীনমন্যতা ও অন্যে কি বলল এই সংকোচগুলোকে। নিজে সুস্থ থাকি ও পরিবারের সুস্থতার জন্য সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের শক্তি অর্জন করি।

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ুনঃ

জীবনের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ঝেড়ে ফেলুন নিজের ক্ষুদ্র চিন্তাগুলো

Dream-Big-Goalsআপনার মন আপনার শক্তি আর সম্ভাবনার বিস্তৃত ক্ষেত্র। আপনি যদি আপনার মন থেকে বিশ্বাস করতে শেখেন আপনি যেকোন কাজ করতে পারেন তাহলে আপনি ঠিকই করতে পারবেন আর যদি মনে মনে বিশ্বাস করে ফেলেন আপনি দুর্বল আপনার পক্ষে কোন কিছুই করা সম্ভব না তাহলে কখনই কিছু অর্জন করতে পারবেন না।

ঠিক একইভাবে আপনার সামান্য কিছু ক্ষুদ্র চিন্তা আপনার বড় বড় স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আপনাকে জানতে হবে জীবনে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য সামনে রেখে কোন কোন ক্ষুদ্র চিন্তাগুলো আপনাকে বাদ দিয়ে চলতে হবে।

আমার কোন মেধা নেই

মনে রাখুন মেধা কেউ সাথে নিয়ে জন্মায় না বরং এটা নিজেকে তিলে তিলে অর্জন করতে হয়। আপনি নিজেকে নিয়ে বড় কোন স্বপ্ন দেখছেন কিন্তু স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের মেধা নেই এমনটা ভেবে  বার বার নিজেকে স্বপ্নের খুব কাছ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসছেন। আপনার স্বপ্ন পূরণের পথে আপনার এই ক্ষুদ্র চিন্তাই হল সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। সাফল্য অর্জন করতে চাইলে এই ক্ষুদ্র চিন্তা বর্জন করুন।

আমি এখনো প্রস্তুত নই

আপনার কি মনে আপনার জীবনের কোন স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজেকে  তৈরি করার দরকার আছে? যদি আপনার মনে স্বপ্ন পূরণের অদম্য ইচ্ছা কাজ করে তাহলে তা পূরণের জন্য আলাদা করে নিজেকে তৈরি করতে হয়না। বরং সেই স্বপ্ন পূরণের রাস্তায় চলতে গিয়েই দেখবেন আপনি নিজে থেকেই তৈরি হয়ে গিয়েছেন। আপনি আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য এখনো তৈরি নন এই চিন্তা আপনাকে সবচেয়ে বেশী ভোগাবে।

আমার থেকে অন্যরা বেশি যোগ্য

নিজেকে অন্যের সাথে মিলিয়ে দেখবেন না। যোগ্যতা কখনো পরিমাপ করা যায় না যতক্ষণ না আপনি নিজে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে না দেখাতে পারছেন। কোন কাজের জন্য নিজেকে অযোগ্য আর সামনের কাউকে যোগ্য হিসেবে ভাবা আপনার স্বপ্ন পূরণের পথের আরও একটি অন্যতম অন্তরায়। তাই নিজেকে অযোগ্য ভাববেন না।

আমার হাতে সময় কম

আপনার বড় স্বপ্ন পূরণের পথের আরও একটি বাধা হিসেবে আপনার যে ক্ষুদ্র চিন্তাটি আপনাকে ভোগাবে তা হল সময়ের সল্পতা অনুভব করা। আপনি প্রথমেই যদি মেনে যে আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য আপনার হাতে সময় সীমিত তাহলে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। আপনাকে সময়ের দিকে মনোযোগ স্থাপন না করে আপনার লক্ষ্যর দিকে দৃষ্টি স্থির করুন।

আরো পড়ুন
সহজ যে অভ্যাস গুলো আপনাকে বদলে দিবে এই ২০১৫ সালে

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা বন্ধ করুন, কাটিয়ে উঠুন হীনমন্যতা

How to Overcome Inferiority Complex)আপনার বন্ধুটি হয়তো খুব ভালো একটা চাকরি করে। মাস শেষে মোটা অঙ্কের বেতন পায়। আর আপনি কোনরকম একটা খেয়ে পরে বাঁচার মতো চাকরি করেন। হতে পারে, আপনার কোন বন্ধু হয়তো মডেলদের মতো দেখতে। সেইরকম হ্যান্ডসাম। অথবা আপনার ঘনিষ্ট কোন বান্ধবী দেখতে অপরূপা সুন্দরী। আপনি তাদের মতো সুন্দর নন। এরকম হাজারো অভিযোগ, হীনম্যনতা আছে অসংখ্য মানুষের। হীনম্যনতা আসা একদম অস্বাভাবিকও নয়। কে ই বা চায়, কারো চেয়ে পিছিয়ে থাকতে? কেউ চায় না। সবাই ভালো থাকতে চায়, সুন্দর থাকতে চায়, সুখী হতে চায়।

কিন্তু আপনি একবারও কি ভেবে দেখেছেন, আপনার শক্তির জায়গাটা কোথায়? আপনার সবই কি দুর্বলতা? আপনি সারাক্ষণই ব্যস্ত থাকেন নিজের নানান দুর্বলতা নিয়ে। কিন্তু একবারও ভাবেন না, আপনার মধ্যেও হয়তো এমন কিছু আছে, যা আর কারো মাঝে নেই। আপনি অনন্য, অসাধারণ। সুন্দরভাবে বাঁচতে গেলে, সুখী হতে গেলে এসব চিন্তাভাবনা আপনাকে বাদ দিতে হবে। কিন্তু কেন?

সারাক্ষণ নেতিবাচক চিন্তা আপনাকে ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যাবেঃ আপনি যদি সারাক্ষণই নিজের কি নেই, অন্যের কি আছে এসব নিয়ে ভাবনার সাগরে ডুবে থাকেন, আপনি ধীরে ধীরে ব্যর্থতার চোরাবালিতে হারিয়ে যাবেন। দেহ আর মন, দুটোর উপরেই নেতিবাচক চিন্তার প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। নেতিবাচক চিন্তা ক্রমাগত করতে থাকলে, হীনম্যনতায় মন আচ্ছন্ন থাকলে আপনার শরীরী ভাষা বদলে যাবে। আপনার মনও সংকুচিত হয়ে থাকবে। আপনি অল্পতেই রেগে যাবেন, অল্পতেই বিষণ্ণ হবেন। অল্পতেই কাঁদবেন। জীবনের কোন অর্থ আপনি খুঁজে পাবেন না। এভাবে আপনি নিজেরই ক্ষতি করবেন। বিপদ ডেকে আনবেন।

হীনম্যনতা আপনার আত্ম-উন্নয়নের অন্তরায়ঃ আপনি যদি সারাক্ষণ হীনম্যনতায় ভোগেন, নেতিবাচক চিন্তায় আপনার মন আচ্ছন্ন থাকে, আপনি নিজেকে সময় দিতে পারবেন না। আপনি যদি ভেবে থাকেন, অন্যের সাথে ক্রমাগত নিজেকে তুলনা করে আপনি নিজেকে তার পর্যায়ে নিয়ে যাবেন, তাহলে আপনি অনেক বড় ভুল করবেন। এভাবে নিজেকে ক্রমাগত অন্যের সাথে তুলনা করে আপনি কখনো তার মতো হতে তো পারবেনই না, উপরন্তু তার মতো হতে না পেরে আপনি হতাশায় মুষড়ে পড়বেন। আপনাকে সময় দিতে হবে নিজেকে উন্নত করার জন্য। নিজের শক্তিশালী দিকগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোকে আরো বেশি শক্তিশালী করার জন্য। আর নিজের দুর্বলতা, অক্ষমতাকে সক্ষমতায় পরিণত করার জন্য।

অহেতুক তুলনা কখনো পার্থক্য লুকাতে পারে নাঃ একজন হয়তো খুব ভালো করে, গুছিয়ে কথা বলতে পারে। যেকোন আড্ডার আসরের মধ্যমণি সে। তাকে নিয়ে সবার কি চাহিদা! আপনি হয়তো একটু চুপচাপ। কথা একটু কম বলেন। নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু আপনারও ইচ্ছা হয়, সবাই যদি আপনাকে নিয়ে মাতামাতি করতো! আপনি যদি কোন আড্ডার মধ্যমণি হতে পারতেন! আপনাকে বলবো, সবাই কি সবকিছু পারে, বলুন? আপনি হয়তো চমৎকার গান করেন, অসাধারণ ছবি আঁকেন। অথবা আপনার লেখার হাত খুব ভালো। আরেকজন হয়তো ভালো অভিনয় করে। ভালো বিতর্ক করতে পারে। নাচতে পারে ভালো। অথবা কেউ অনেক ভালো ক্রিকেট খেলে। একেকজন একেক দিকে পারদর্শী হয়। এখন আপনি যদি সব কিছু নিজের মধ্যে ধারণ করতে না পেরে হা-হুতাশ করেন, আপনি ভুল করবেন। সেই আগের বলা কথাই আবার বলবো, “নিজের শক্তির জায়গা খুঁজে বের করুন। এটা আপনাকেই করতে হবে।“

আপনিই আপনার সাফল্যের পরিমাপকঃ জীবনে আপনি কতটুকু সফল, সেটা পরিমাপ করার ক্ষমতা একমাত্র আপনারই আছে। আর কারো নেই। জীবন আপনার। জীবনের আয়নায় নিজের সাফল্য-ব্যর্থতা পর্যালোচনা করার দায়িত্ব, অধিকার সবই আপনার। আপনি যদি মাসে ২০ হাজার টাকা কামাই করে সংসার চালাতে পারেন, নিজের যা আছে এটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে কার সাধ্য আছে আপনাকে অসফল বলার? এমনও তো হতে পারে, যে আপনাকে অসফল বলছে, সে মাসে লাখ লাখ টাকা কামাই করেও সংসার জীবনে চরম অসুখী। নিজেকে নিজেই সুখী রাখতে পারলে, সন্তুষ্ট রাখতে পারলেই আপনি সফল।

জীবনে সুখী হতে গেলে, সফল হতে গেলে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে সবার আগে। “আমার সেইটা নেই” এই কথার পরিবর্তে বলতে হবে “আমার এইটা আছে।“ কথাটা হয়তো খুব ছোট। কিন্তু অর্থ অনেক ব্যাপক। সাফল্যের পথে এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি, বড় পাথেয়।

হীনমন্যতা দূর করা নিয়ে আরো পড়তে চান? রইলো আপনার জন্য আরো কিছু লেখা

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

হীনমন্যতা দূর করে বাড়িয়ে তুলুন নিজের আত্মমর্যাদা

Ways To Forgive Yourselfআত্মমর্যাদা হলো নিজের সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাস যে আপনি কেমন ব্যাক্তি , আপনার ক্ষমতা , নিজের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজের কাছে কি প্রত্যাশা সে সম্পর্কে। অনেক সময় নিজেদের সম্পর্কে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আত্মমর্যাদা কমে যেতে পারে, ফলে আমরা হতাশায় ভুগতে পারি। আর যদি নিজের কাছে নিজের আত্মমর্যাদা দৃঢ় ও ইতিবাচক থাকে তবে তা মোকাবেলা করতে পারি।

  • তিনটি তালিকা তৈরি করুন, একটি আপনার শক্তিশালী দিক, একটি আপনার অর্জনসমূহ , এমন একটা বিষয় যার জন্য আপনি নিজের প্রশংসা করেন। এটা তৈরি করতে আপনার কাছের মানুষ ও বন্ধুদের সহায়তা নিন। তালিকাটি নিরাপদ জায়াগায় রাখুন ও নিয়মিত পড়ুন।
  • নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা করুন। মনে রাখবেন আপনার সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আপনি ব্যাক্তি হিসেবে একক, বিশেষ ও মূল্যবান। এবং নিজের সম্পর্কে ভাল অনুভব করা আপনার প্রাপ্য। নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা খুঁজে বের করুন এবং তা মোকাবেলা করুন যেমন- আমি কিছু পারি না, আমাকে দিয়ে হবে না, কেউই আমাকে পছন্দ করে না ইত্যাদি।
  • স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন- যেমন আপনার চুলের স্টাইল , নখ কাঁটা , দাঁতের যত্ন নেয়া। সুস্বাস্থ্যের জন্য সুষম খাবার খান, ডায়েট করুন। খাওয়ার সময় টিভি দেখা ও রেডিও শোনা বন্ধ করুন। খাবার টেবিলে এমন খাবার দিয়ে প্লেট সাজান যাতে আকর্ষণীয় লাগে ও খাওয়ার আগ্রহ আসে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন হাঁটুন এবং শক্তি প্রয়োগ হয় ও ঘাম ঝরায় এমন ব্যায়াম করুন।
  • যথেষ্ট ঘুমানো নিশ্চিত করুন। ঘুম ভালো না হলে কাজেও মন বসে না, ভালো লাগে না কিছুই।
  • যা আপনাকে আনন্দ দেয় তাই করুন। অন্তত প্রতিদিন এমন একটা কাজ করুন যা আপনাকে আনন্দ দেয় এবং আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে আপনার এটা প্রাপ্য।
  • এমন কাজকর্ম করুন যা আপনার নিজেকে প্রকাশ করতে ও অন্যদের সাথে ইতিবাচকভেবে যোগাযোগ করতে পারেন। যেমন আঁকাআঁকি , সঙ্গীত , কবিতা ও নাচের মাধ্যমে ।
  • নিজের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন যা আপনি বাস্তবিকভাবে পারেন এবং তা করুন। যেমন যোগ ব্যায়াম করা, গান শেখা অথবা ঘরে ছোট ডিনার পার্টিতে নিজেই রান্না করুন।
  • অন্যের জন্য ভালো কিছু করুন। যেমন বন্ধুকে দেখতে যাওয়া , এলাকায় দান জাতীয় কাজের সাথে যুক্ত হওয়া ।
  • আপনার আশেপাশে বা কাছের যারা আছেন তাদের সাথে সময় বের করুন। মানুষের সাথে সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করুন।

আপনার সমস্যার ক্ষেত্রে পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয়দের সাহায্য নিন, আপনার মধ্যে কি হচ্ছে , কি করতে পারেন তার জন্য উপদেশ ও সাহায্য নিন। অন্যদিকে যে সকল লোক , স্থান , প্রতিষ্ঠান আপনার সাথে খারাপ আচরণ করেছেন বা আপনার খারাপ অনুভুতি হয়েছে তা এড়িয়ে চলুন। যা করা বন্ধ করেছিলেন বা আগে করতেন আবার তা করা শুরু করুন ।

“Until you value yourself, you won’t value your time. Until you value your time, you will not do anything with it. ”

– M. Scott Peck

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

এড়িয়ে চলুন ৫ ধরণের চিন্তা যা আপনাকে হীনমন্যতায় ভোগায়

20-Habits-Of-Happy-People-003-550x291একজন মানুষ দিনে গড়ে ৫০০০০ চিন্তা করে থাকে পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে। যার ৮০ ভাগই হয়ে থাকে নেতিবাচক যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর। আমরা এগুলো না বুঝেই করে থাকি। আসুন এমন কিছু নেতিবাচক চিন্তা আজ থেকেই বন্ধ করে দিন যা আপনাকে হীনমন্যতায় ভোগায় সারাক্ষণ।

১) আপনি সবসময় সুখী হবেন বা ১০০ ভাগ সুখে থাকবেন- এমন চিন্তা বাদ দিন। সুখ এবং দুঃখ মিলিয়েই মানুষের জীবন তাই বাস্তবতা বুঝেতে চেষ্টা করুন।

২) আপনি সাফল্যের যে অবস্থানে থাকতে চেয়েছেন সে অবস্থানে নেই– এমন চিন্তা না করা। আপনার পরিশ্রম এবং চেষ্টার সাথে মিলিয়ে দেখুন। অযথা এমন চিন্তা করলে আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যাবে।

৩) সবসময় ভাবা আপনার কারণেই সফল হয়নি– এমটা না ভাবা। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার পর ও সবসময় সবকিছু সফল হয় না। তাই এমন চিন্তা করা বাদ দিন।

৪) আপনি নিজেই সমস্যার একটা অংশ– এমন চিন্তা না করা। প্রতিটি সমস্যাই বাক্তি, সমাজ, পারিপার্শ্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তৃত। তাই স্বাভাবিক ভাবে নিন এবং সমস্যার সমাধান করুন।

৫) আপনার ও একই রকম সাফল্য হবে– এমন চিন্তা করা বাদ দিন। সৃষ্টিকর্তা সবাইকে আলাদা ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য দিয়ে তৈরি করেছেন। আপনার মেধা, পরিশ্রম এবং চেষ্টা অনুযায়ী সাফল্য পাবেন, অন্য সবার মতো নয়।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।