জেনে নিন ইতিবাচক চিন্তা করার পদ্ধতি ও এর সুফল সম্পর্কে

The Secrets of Positive Thinking

ইতিবাচক চিন্তা এমন একটি মানসিক মনোভাব যার জন্য আমরা ভাল এবং সন্তোষজনক ফলাফল আশা করে থাকি । অন্যভাবে বলা যায় যে, ইতিবাচক চিন্তা হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা আমাদেরকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাথা ঠাণ্ডা রেখে চিন্তা করতে সহায়তা করে । সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে ইতিবাচক চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

Mayo clinic in Rochester এর ১টি গবেষণায় কিছু রোগীকে পারসোনালিটি টেস্ট করা হয় যেখানে তাদের optimism ( আশাবাদ ) and pessimism ( দুঃখবাদ ) পরিমাপ করা হয় । ৩০ বছর ধরে এই রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং গবেষণার ফলাফলে এটা পাওয়া গেছে যে, optimistic দের গড় আয়ু বেশী এবং pessimistic দের গড় আয়ু তুলনামূলক কম । গবেষকেরা এটা খুঁজে পেয়েছেন যে, optimism মানুষের immune system কে শক্তিশালী করে এবং সুস্থ জীবন যাপনে সহায়তা করে । যারা optimistic তারা নিজেদের সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা করে এবং নিজেদের যত্ন নেয় । কিন্তু pessimistic রা অযথা নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা করে যা তঁদেরকে অসুস্থ করে ফেলে এবং তারা উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতায় ভুগে থাকে ।

অনেক গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে, যখন কেউ ইতিবাচক চিন্তা করতে থাকে তখন সে নিজেকে অনেক বেশী সুখী ভাবতে পারে এবং সে অনেক কিছুই অর্জন করতে পারে সহজেই । আসুন জেনে নেওয়া যাক যে আমরা কিভাবে ইতিবাচক চিন্তা করতে পারি ।

১. সময় নিনঃ

যখন আপনার সাথে খারাপ কিছু ঘটবে, সেই সময়টা অতিবাহিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন । নিজেকে সময় দিন। এটা আপনার ভেতরে ইতিবাচক চিন্তা তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এটা আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । সময় ক্ষত সারাতে সহায়তা করে এবং এটা আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে ।

২. ইতিবাচক মানুষের সাথে মিশুনঃ

এমন কিছু মানুষের সাথে মিশুন যারা আপনাকে আশা দেখায়, গঠনমূলক কাজ এবং আলোচনায় সাহস যোগায় । এমন মানুষের সঙ্গ পরিত্যাগ করুন যারা প্রতিনিয়ত আপনাকে আশাহত করে এবং আপনাকে নেতিবাচক চিন্তা করতে উৎসাহিত করে।

৩. অন্যদের সাহায্য করুনঃ

আপনার সাধ্যমত অন্যদের সাহায্য করুন । অন্যদের সাহায্য করলে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় যা আপনাকে আপনার জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক হতে সাহায্য করবে ।

৪. আপনার যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুনঃ

আপনার যা কিছু আছে প্রতিদিন ৫টি করে সেগুলোর নাম লিখুন এবং সেজন্য সন্তুষ্ট থাকুন কারণ আপনার যা আছে অনেকেরই তা নেই । আর যদিও বা থেকে থাকে তবে তাও চিন্তা করে দেখুন যে আপনার দুঃখিত হবারও কোন কারণ নেই যেহেতু অন্যদের যা আছে আপনারও তাই আছে । এটি আপনাকে ইতিবাচক হতে সাহায্য করবে । Joseph Campbell এর মতে,“Find a place inside where there’s joy, and the joy will burn out the pain. অর্থাৎ এমন কিছু খুঁজে বের করুন আপনার প্রতিদিনের জীবন যাপন থেকে যা আপনাকে সুখের অনুভূতি দিবে এবং আপনার কষ্টগুলোকে দূরে রাখবে ।

৫. ইতিবাচক উক্তি পড়ুনঃ

প্রতিদিন কিছু ইতিবাচক উক্তি পড়ুন । ইতিবাচক উক্তি পড়লে আশা জাগে,নিজের ভেতরের ভয় দূর হয়। আবার ইতিবাচক উক্তি আমাদের বিষণ্ণতাকেও দূর করে । নিচে কিছু ইতিবাচক উক্তি দেয়া হল উদাহরণস্বরূপঃ

“Work hard for what you want because it won’t come to you without a fight . You have to be strong and courageous and know that you can do anything you put your mind to. If somebody puts you down or criticizes you, just keep on believing in yourself and turn it into something positive.” (Leah LaBelle ).

“Take chances, make mistakes. That’s how you grow. Pain nourishes your courage. You have to fail in order to practice being brave.” – (Mary Tyler Moore)

“Hope is a waking dream.” – (Aristotle)

“Today is a new beginning, a chance to turn your failures into achievements & your sorrows into so goods. No room for excuses.” – (Joel Brown)

“If you think you can do a thing or think you can’t do a thing, you’re right.” –( Henry Ford )

“No matter what the situation, remind you “I have a choice.” – (Deepak Chopra)

“We are all here for some special reason. Stop being a prisoner of your past. Become the architect of your future.” – (Robin Sharma)

৬. নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুনঃ

কোন এটা ভুল হলে আমরা নিজেদের অনেক দোষারোপ করি । নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনা । এতে করে আমাদের মধ্যে নেতিবাচক চিন্তা আরও দৃঢ় হয় । সবার আগে নিজেকে নিজে ক্ষমা করা শিখতে হবে। যখন আমরা নিজেকে ক্ষমা করতে পারব তখন আমরা অন্যদের সম্পর্কেও ইতিবাচক হতে পারব । আমরা যদি নিজেরা নিজেদের ভুলের জন্য নিজেকে ক্ষমা করতে না পারি তাহলে অন্যদেরও ভুলের জন্য ক্ষমা করতে পারবনা । যদি এটা ভাবা যায় যে ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে তাহলে নিজেকে ক্ষমা করাটা সহজ হয় ।

এ সম্পর্কে John Wooden বলেছেন, “If you’re not making mistakes, then you’re not doing anything. I’m positive that a doer makes mistakes.”
অর্থাৎ,তুমি যদি ভুল না কর তবে তুমি কোন কাজই করোনা । আমি মনে করি কর্মঠ লোকেরাই ভুল করে । কোন কাজ করতে গেলে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ আমরা কেউই সম্পূর্ণ নিখুঁত নই, তাই এ কথাটা মেনে নিলে ক্ষমা করাটা সহজ হয় ।

৭. খুঁজে দেখুন ভুলটা হচ্ছে কোথায়ঃ

ইতিবাচক চিন্তা করার অর্থ এই নয় যে, আপনি আপনার ভুলগুলো এড়িয়ে যাবেন,ভুলগুলো শোধরানোর চেষ্টা করবেন না । বরং ইতিবাচক চিন্তা করার অর্থ হচ্ছে বর্তমানে যে সমস্যা হচ্ছে তা বোঝার জন্য সময় নেয়া, কোথায় এবং কেন ভুলগুলো হচ্ছে তা খুঁজে বের করা যেন ভবিষ্যতে সফলভাবে এসব সমস্যা এড়ানো যায় । তাই কোন নেতিবাচক বিষয় ঘটতে থাকলে তার পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধান করার চেষ্টা করুন আর যদি সমাধান করার কোন পথ খুঁজে না পাওয়া যায় তবে হতাশ না হয়ে সেই সময়টা কেটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন দুঃসময়য়ের পর সুসময় আসবেই ।
“You’re going to go through tough times – that’s life. But I say, ‘Nothing happens to you, it happens for you.’ See the positive in negative events.” ( Joel Osteen ).

৮. ব্যর্থতাকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুনঃ

কথিত আছে, failure is the pillar of success . আসলেই কিন্তু তাই । মাঝে মাঝে আমাদের জীবনের সব চেয়ে নেতিবাচক ব্যর্থতাগুলো আমাদেরকে বড় বড় সাফল্য অর্জনের পথ তৈরি করে দেয়। যেমনঃ যখন আপনি আপনার চাকরি হারাবেন তখন সুযোগ তৈরি হয় নিজের কোন ব্যবসা শুরু করার যা থেকে আপনি অনেক বেশী লাভবান হতে পারবেন অথবা আরও সম্মানজনক কোন কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন । ভেবে দেখুন আপনার জীবনেও এমন কিছু ব্যর্থতা আছে যার কারণে আপনি পরবর্তীতে আরও বড় কিছু সাফল্য হয়ত পেয়েছেন যা আপনি হয়ত কখনই ভাবেননি ।

সুতরাং ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে সেই ব্যর্থতার পেছনের সাফল্য আসার জন্য অপেক্ষা করুন । এ সম্পর্কে Marla Gibbs বলেছেন,
“I truly believe that everything that we do and everyone that we meet is put in our path for a purpose. There are no accidents; we’re all teachers – if we’re willing to pay attention to the lessons we learn, trust our positive instincts and not be afraid to take risks or wait for some miracle to come knocking at our door.”

সুতরাং ইতিবাচক চিন্তা করুন,ইতিবাচক কাজ করুন এবং অন্যদের প্রতিও ইতিবাচক হন তাহলে আপনিও ইতিবাচক ফল পাবেন । আর গবেষণায় প্রমাণিত যে, ইতিবাচক চিন্তার মানুষ অনেকদিন বেঁচে থাকে,অনেক রোগ থেকে মুক্তি পায় । শুধু ইতিবাচক চিন্তা করলেই যদি এত উপকার পাওয়া যায় তাহলে ইতিবাচক চিন্তা করাটাই তো বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক ।

এ ধরণের আরও লেখা পড়ুনঃ

২০১৫ সালকে সফল করে তুলতে যা করতে পারেন

success in  2015নতুন বছরের দ্বিতীয় মাস শুরু। সবারই ইচ্ছা তার এ বছরটি যেন গত বছরের থেকে আরো বেশি ভাল ও সুন্দর কাটে। আর আপনার এ নতুন বছরটি সাফল্যমন্ডিত করে তোলার জন্যই পড়তে পারেন এ লেখাটি।

লক্ষ্যকে শুধু ইচ্ছার মাঝে সীমাবদ্ধ রাখবেন না, প্রতিজ্ঞায় পরিণত করুন

ধরা যাক, আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন এ বছরের জুন মাসের মাঝে ওজন কমিয়ে ফেলার। কিন্তু যদি বলেন “আমি আশা করি এটা করবো” তবে দেখা যাবে ২-৩ সপ্তাহ পরে আপনি হাল ছেড়ে দিয়েছেন। যথারীতি খাচ্ছেন জাঙ্ক ফুড। এর চেয়ে ওজন কমাতেই হবে এরকম লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেটাকে আঁকড়ে ধরে কাজ করুন। আপনি সফল হবেনই। এটা শুধু ওজন কমানোই নয়, যে কোন কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

অন্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করুন

যোগাযোগ বা নেটওয়ার্কিং গড়ে তোলা বেশ গুরত্বপূর্ণ মাধ্যম সাফল্য অর্জনের জন্য। আপনি যে কাজে সাফল্য লাভ করতে চান, সে কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করুন। আপনি হয়তো ভালো কোন চাকরি বা কাজের সুযোগ খুঁজছেন। এটার মানে হচ্ছে আপনাকে এরকম কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে বের করতে হবে যে আপনাকে সে সুযোগটি করে দেবে।

কৃতজ্ঞ থাকুন

এই একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনার প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার চাপ হ্রাস পাবে, জীবন হয়ে উঠবে আরেকটু আনন্দময়। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে একটা ছোট ডায়েরিতে দিনে আপনার করা অন্তত একটি জিনিসের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। যেমন হতে পারে দুপুরে যে খাবারটি খেলেন সেটা হয়তো একেবারেই কম মূল্যের, কিন্তু আপনি জানেন কি এই একই পৃথিবীতে বহু মানুষ তিন বেলাই ঠিকভাবে খেতে পায় না? আপনি কি ভাল নেই তাদের থেকে?

সুস্থ থাকুন

যাই ঘটুক না কেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি অবশ্যই যত্ন নেবেন। জীবন যাপনে সব কিছুই নিয়মের মাঝে আনার জন্য দৃঢপ্রতিজ্ঞ হন। বিশ্বাস করুন, এটা কাজে দেবেই।

পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন

ব্যস্ত জীবনে পড়ার সময় নেই? জেনে রাখুন এটাও এক ধরণের ভুল। দিনে অন্তত এক ঘন্টা বই, পত্রিকা বা ম্যাগাজিন অথবা আপনার ভাল লাগে এরকম কিছু পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটা মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে তুলবে, চিন্তা ভাবনা করার শক্তিকে করবে প্রসারিত। এর ফলে সাফল্য লাভের জন্য নিজের কর্মপন্থা ঠিক করা আপনার জন্য সহজ হবে।

নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন

কিছু মানুষ কেন ব্যর্থ হয়? এটার মূল কারণ তারা জানেন না যে তারা আসলে জীবনে কি অর্জন করতে চান, তাদের জীবনের লক্ষ্য কি। এটা অনেকটা কুয়াশা ঢাকা পথে কোন কম্পাস বা দিক-নির্দেশনা ছাড়া হাঁটার মতোই একটি ব্যপার। নিজের জন্য একটি লক্ষ্য ঠিক করুন, হতে পারে সেটা ব্যক্তিগত, পেশাগত বা অন্য যেকোন কিছু নিয়েই। এটা আপনাকে সাফল্যের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

নিজেই নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন

সবারই কোন না কোন দুর্বলতা আছে। সবাই সব কাজে দক্ষ হবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষের অসাধ্য বলে তো কিছু নেই। তাই সাফল্য লাভের জন্য নিজের যে দুর্বলতাগুলো দূর করা দরকার সেগুলো নিয়ে কাজ করুন, চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন যে এগুলো আপনি অতিক্রম করবেনই।

করুন সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা

আপনার অনেক অর্থ থাকতে হবে এরকম কোন কথা নেই। কিন্তু যতটুকুই থাক, সেটা নিয়েই নিজের মতো পরিকল্পনা করুন। নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের জন্য ব্যক্তগত জীবনে একটি নির্দিষ্ট আর্থিক পরিকল্পনা থাকা খুবই জরুরী। আর সেজন্যই বলা হয় “আয় বুঝে ব্যয় কর”।

পরিবার ও সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধ থাকুন

পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয়রা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ অংশ। এ সম্পর্কগুলোর প্রতি বিশ্বাস্ত ও দায়বদ্ধ থাকুন। তাদের সাথে নিজের সুখ- দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ভাগ করে নিন। জীবনে সাফল্য লাভের জন্য কাছের মানুষগুলোর সাথে একটি সুন্দর সম্পর্ক অনেক গুরত্বপূরণ ভূমিকা পালন করে।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

জীবনের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ঝেড়ে ফেলুন নিজের ক্ষুদ্র চিন্তাগুলো

Dream-Big-Goalsআপনার মন আপনার শক্তি আর সম্ভাবনার বিস্তৃত ক্ষেত্র। আপনি যদি আপনার মন থেকে বিশ্বাস করতে শেখেন আপনি যেকোন কাজ করতে পারেন তাহলে আপনি ঠিকই করতে পারবেন আর যদি মনে মনে বিশ্বাস করে ফেলেন আপনি দুর্বল আপনার পক্ষে কোন কিছুই করা সম্ভব না তাহলে কখনই কিছু অর্জন করতে পারবেন না।

ঠিক একইভাবে আপনার সামান্য কিছু ক্ষুদ্র চিন্তা আপনার বড় বড় স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আপনাকে জানতে হবে জীবনে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য সামনে রেখে কোন কোন ক্ষুদ্র চিন্তাগুলো আপনাকে বাদ দিয়ে চলতে হবে।

আমার কোন মেধা নেই

মনে রাখুন মেধা কেউ সাথে নিয়ে জন্মায় না বরং এটা নিজেকে তিলে তিলে অর্জন করতে হয়। আপনি নিজেকে নিয়ে বড় কোন স্বপ্ন দেখছেন কিন্তু স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের মেধা নেই এমনটা ভেবে  বার বার নিজেকে স্বপ্নের খুব কাছ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসছেন। আপনার স্বপ্ন পূরণের পথে আপনার এই ক্ষুদ্র চিন্তাই হল সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। সাফল্য অর্জন করতে চাইলে এই ক্ষুদ্র চিন্তা বর্জন করুন।

আমি এখনো প্রস্তুত নই

আপনার কি মনে আপনার জীবনের কোন স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজেকে  তৈরি করার দরকার আছে? যদি আপনার মনে স্বপ্ন পূরণের অদম্য ইচ্ছা কাজ করে তাহলে তা পূরণের জন্য আলাদা করে নিজেকে তৈরি করতে হয়না। বরং সেই স্বপ্ন পূরণের রাস্তায় চলতে গিয়েই দেখবেন আপনি নিজে থেকেই তৈরি হয়ে গিয়েছেন। আপনি আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য এখনো তৈরি নন এই চিন্তা আপনাকে সবচেয়ে বেশী ভোগাবে।

আমার থেকে অন্যরা বেশি যোগ্য

নিজেকে অন্যের সাথে মিলিয়ে দেখবেন না। যোগ্যতা কখনো পরিমাপ করা যায় না যতক্ষণ না আপনি নিজে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে না দেখাতে পারছেন। কোন কাজের জন্য নিজেকে অযোগ্য আর সামনের কাউকে যোগ্য হিসেবে ভাবা আপনার স্বপ্ন পূরণের পথের আরও একটি অন্যতম অন্তরায়। তাই নিজেকে অযোগ্য ভাববেন না।

আমার হাতে সময় কম

আপনার বড় স্বপ্ন পূরণের পথের আরও একটি বাধা হিসেবে আপনার যে ক্ষুদ্র চিন্তাটি আপনাকে ভোগাবে তা হল সময়ের সল্পতা অনুভব করা। আপনি প্রথমেই যদি মেনে যে আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য আপনার হাতে সময় সীমিত তাহলে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। আপনাকে সময়ের দিকে মনোযোগ স্থাপন না করে আপনার লক্ষ্যর দিকে দৃষ্টি স্থির করুন।

আরো পড়ুন
সহজ যে অভ্যাস গুলো আপনাকে বদলে দিবে এই ২০১৫ সালে

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

গল্প- ভালবাসা, সম্পদ ও সাফল্য

3 old menএক মহিলা তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখলো উঠানের সামনে তিনজন বৃদ্ধ ব্যক্তি বসে আছেন।

তিনি তাদের কাউকেই চিনতে পারলেন না। তাই বললেন, ‘আমি আপনাদের কাউকেই চিনতে পারলাম না, কিন্তু আপনারা হয়তো ক্ষুধার্ত। আপনারা ভেতরে আসুন, আমি আপনাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করছি’।

তারা জিজ্ঞেস করলেন ‘বাড়ির কর্তা কি আছেন?’

মহিলা বললেন, “না। তিনি বাইরে গেছেন।’

‘তাহলে আমরা আসতে পারবো না।’

সন্ধ্যায় যখন বাড়ির কর্তা ঘরে ফিরে সব শুনলেন তখন তিনি বললেন, ‘যাও তাদের বলো যে আমি ফিরেছি এবং তাদের ঘরে আসার জন্যে অভ্যর্থনা জানাচ্ছি।‘

মহিলা বাইরে গেলেন এবং তাদের ভেতরে আসতে বললেন।

কিন্তু তারা বললো, ‘আমরা এভাবে যেতে পারি না।’

মহিলা জিজ্ঞেস করলেন,’ কিন্তু কেন? আবার কি সমস্যা?’

বৃদ্ধ লোকেদের মধ্যে একজন বললেন, ‘আমাদের মধ্যে একজনের নাম সম্পদ। আরেক জনের দিকে নির্দেশ করে বললেন, তার নাম সাফল্য এবং আমি ভালবাসা। এখন আপনি ভেতরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিন আমাদের কাকে আপনি ভেতরে ঢুকতে দেবেন।’

মহিলা যখন ভেতরে গিয়ে সব খুলে বললেন তখন তার স্বামী অত্যন্ত খুশি হয়ে গেলেন এবং বললেন, ‘অসাধারন! চল আমরা সম্পদকে ডাকি, তাহলে আমরা ধনী হয়ে যাব!’ তার স্ত্রী এতে সম্মতি দিলেন না, ’নাহ,আমার মনে হয় আমাদের সাফল্যকেই ডাকা উচিত।’

তাদের মেয়ে ঘরের অন্য প্রান্তে বসে সব শুনছিলো। সে বলে ঠলো, ‘তোমাদের কি মনে হয় না আমাদের ভালবাসাকেই ডাকা উচিত? তাহলে আমাদের ঘর ভালবাসায় পূর্ন হয়ে উঠবে।’

লোকটি বললো, ‘ঠিক আছে আমরা তাহলে আমাদের মেয়ের কথাই শুনবো, তুমি বাইরে যাও এবং ভালবাসাকেই আমাদের অতিথি হিসেবে ডেকে নিয়ে এসো’।

মহিলাটি বাইরে গেলেন এবং বললেন ’আপনাদের মধ্যে ভালবাসা কার নাম? অনুগ্রহ করে তিনি ভেতরে আসুন, আপনিই আমাদের অতিথি।’

ভালবাসা নামের বৃদ্ধ উঠে দাড়ালেন এবং বাড়ির দিকে হাটতে শুরু করলেন, বাকী দুজনও উঠে দাড়ালেন এবং তাকে অনুসরন করতে লাগলেন।

মহিলাটি এতে ভীষন অবাক হয়ে গেলেন এবং বললেন, আমিতো শুধু ভালবাসা নামের বৃদ্ধকে ভেতরে আসার আমন্ত্রন জানিয়েছি, আপনারা কেন তার সাথে আসছেন?

বৃদ্ধ লোকেরা বললো, ‘আপনি যদি সম্পদ আর সাফল্যকে আমন্ত্রণ করতেন তবে আমাদের বাকী দুজন বাইরেই থাকতাম, কিন্তু আপনি যেহেতু ভালবাসাকে আমন্ত্রন জানিয়েছেন, সে যেখানে যায়, আমরা দুইজনও সেখানেই যাই।’

যেখানেই ভালবাসা থাকে, সেখানেই সম্পদ ও সাফল্যও থাকে।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

জীবনের সব প্রতিকূলতাকে জয় করে ছিনিয়ে নিয়ে আসুন সাফল্য

Overcome All Obstacles, Get Success2সবার আগে  বিশ্বাস করুন যে “Everyone has a special skill” ভেবে দেখুন জীবনে যদি সব সময় সব পরিস্থিতি আপনার অনুকূলে থাকতো তাহলে কি কোনদিনও আপনি প্রাপ্তির আনন্দ কি হয় সেটা বুঝতে পারতেন? যেকোন সফলতা অর্জনের আনন্দ তখনই দ্বিগুণ হয় যখন সেটাকে অর্জন করতে আপনাকে সমস্ত কিছুর উপরে গিয়ে লড়তে হয়। আপনি যদি আপনার চিন্তা শক্তি স্থির আর অটুট রাখেন তাহলে যেকোন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গিয়ে আপনি সফল হতে পারবেন।

আর আপনি যদি জীবন যুদ্ধে লড়তে গিয়ে বিরূপ পরিস্থিতি দেখে ভেঙ্গে পড়েন তাহলে এই লিখাটি আপনার জন্য।

  • যখনই কোন কাজের ক্ষেত্রে বা জীবনের কোন সময়ে বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন তাহলে একবার ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখুন সত্যি কি আপনি আপনার চারপাশের পরিস্থিতির মধ্যে এতোটাই আটকে গেছেন যে বের হতে পারছেন না। আপনার চিন্তাশক্তি যদি ঠিক থাকে আর আপনার লক্ষ্য যদি স্থির থাকে আপনাকে আটকে রাখতে পারে এমন কোন কিছুই নেই। আপনি কেবল নিজেকে সঠিক অবস্থানে ধরে রাখুন।
  • মনে প্রাণে বিশ্বাস করুন যে সবার মধ্যেই অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা থাকে। আমরা শুধু সেই ক্ষমতা ঠিকঠাক চিনতে পারিনা এই যা। তাই যদি কোন প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হন তাহলে একবার চোখ বন্ধ করে মন থেকে ভাবুন। খুঁজে বের করুন এমন কোন ঘটনা বা জীবনের এমন কোন অভিজ্ঞতার কথা যা আপনাকে সব সময় অনুপ্রেরণা দেয়। দেখবেন কোন কিছু আপনার সফল হওয়ার স্পৃহাকে আটকে রাখতে পারবে না
  • আপনি একবার যদি মনের দিক থেকে নিজেকে ছোট করে ভাবেন বা নিজের দক্ষতা সম্পর্কে নিজের কাছেই সন্দিহান হয়ে পড়েন তবে সফলতা অর্জন করা মুশকিল হয়ে পড়বে। তাই ভুলেও কখনো নিজেকে ছোট ভাবা চলবে না। কেবল মন্ত্রের মতো মনে মনে জপ করতে থাকুন আপনি পারবেন, আপনার সে যোগ্যতা আছে।  আপনার সফলতার পথে আর কোন প্রতিবন্ধকতা বড় হয়ে দাড়াতে পারবে না।
  • হ্যাঁ এটা সত্যি যে কিছু কিছু মানুষ যেকোন কাজে সফল হওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা নিয়েই জন্মায়। তাই বলে বাকী যে মানুষগুলো সেই অসাধারণ ক্ষমতা প্রাপ্তি করে নি তারা কি জীবনে পিছিয়েই থাকবে? অবশ্যই না। হিসেব করলে দেখা যাবে পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের সংখ্যা ই বেশি যারা নিজের কাজের যোগ্যতাই জীবনে সফলতা অর্জন করেছে। আপনিও সেই সব মানুষের খাতায় নাম লেখাতে পারেন যদি আপনার মনে সফল হওয়ার ইচ্ছা দৃঢ় থাকে।
  • সফলতার পথে যাত্রা করলে সেই পথে বাধা বিপত্তি আসবেই, সাথে আপনি হয়তো বার বার হারতে ও পারেন। তবে সেই হারকে নেতিবাচকভাবে না নিয়ে ইতিবাচকভাবে নিন। আপনি যতবার হারবেন আপনার জেতার সম্ভাবনা তত বেশি বেড়ে যাবে। আর সাথে ফ্রি হিসেবে পাবেন জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার কৌশল। এখানেও আপনার চাই স্থির চিন্তাশক্তি ও অটুট আত্মবিশ্বাস।

আপনার চিন্তাশক্তি অটুট ও স্থির রাখতে দরকার নিজের উপর নিজেরই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা। আপনি নিজেকে কখনো দুঃখী আর নিঃস্ব ভাববেন না। নিজেকে যদি সব সময় দুঃখীদের কাতারের কেউ ভাবতে পছন্দ করেন তাহলে গঠনমূলক চিন্তা ভাবনা কখনোই আপনার মাথায় আসবে না।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

ব্লগিংকে পেশায় পরিণত করার পূর্বে এই বিষয়গুলো আপনার জানা প্রয়োজন

Things You Need To Know Before Becoming A Full-Time Bloggerআমাদের দেশে ব্লগিং জনপ্রিয় হয়েছে অনেক আগেই। ব্লগ থেকে অনেক সামাজিক কার্যকলাপও পরিচালনা করা হয়েছে যা প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই ব্লগিংকে এখন অনেকে পেশা হিসেবে নেয়ার কথা ভাবছেন (professional blogging)। ব্লগিং অবশ্যই একটি সম্মানজনক পেশা, তবে অন্যান্য পেশার ধরণ থেকে এটি একটু আলাদা। ব্লগিংকে পেশা হিসেবে নেয়ার আগে বেশ কিছু বিষয়ে আপনার স্বচ্ছ ধারণা রাখা প্রয়োজন। নাহলে মাঝপথে গিয়ে হতাশ হতে পারেন।

• ব্লগের সাফল্যের জন্য প্রয়োজন প্রচুর সময়। তাড়াহুড়া করবেন না (it takes time)

আপনার ব্লগকে সফল করে তুলতে চাইলে প্রথমে তৈরি করে নিতে হবে পাঠক (audience), যারা নিয়মিত স্বেচ্ছায় আপনার ব্লগে আসবে। আর এই কাজটির জন্য প্রয়োজন অনেক সময়, ধৈর্য ও প্রচারণার। যদি রাতারাতি ব্লগিং করে সাফল্য পেতে চান তবে সে ধারণা মন থেকে মুছে ফেলুন আজই।

• ব্লগকে সেভাবেই পরিচর্যা করুন যেমনটা করতেন নতুন কোন ব্যবসা শুরু করলে (treat it like a business)

অন্য যে কোন ব্যবসা থেকে ব্লগিং আলাদা নয়। আপনি এর পেছনে আপনার সময় ব্যয় করছেন, পরিশ্রম করছেন, মেধা কাজে লাগাচ্ছেন এবং আশা করছেন মুনাফা লাভের (profit)। তাই অন্য কোন ব্যবসার পেছনে যে পরিমাণ শ্রম, ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তাকে কাজে লাগাতেন, ব্লগিং এর জন্যও তা করতে প্রস্তুত থাকুন।

• ব্লগের কনটেন্টের মতই সমান গুরুত্ব দিন নেটওয়ার্কিংকে (networking is important)

যদি একটি ব্লগের সাফল্যের পেছনে দুটি জিনিসের তালিকা তৈরি করা হয় তাহলে প্রথমে থাকবে কনটেন্ট এবং এর পর পরই থাকবে নেটওয়ার্কিং (networking)। প্রত্যেক সফল ব্লগারই অন্যান্য ব্লগার এবং মার্কেটারের সাথে সুসম্পর্ক রাখেন। আপনি বিভিন্ন পদ্ধতিতে এই কাজটি করতে পারেন। যেমনঃ ইন্টারনাল লিংক এক্সচেঞ্জ, সোশাল মিডিয়া শেয়ার, শেয়ারের অনুরোধ এবং উপদেশ, ব্যক্তিগত পরামর্শ এবং ব্লগের পার্টনার হওয়ার সুযোগ দান ইত্যাদি।

• প্রচুর নতুন পোস্ট তৈরি পরিবর্তে গুরুত্ব দিন মানসম্মত পোস্ট তৈরিতে (valuable content)

অধিকাংশেরই ধারণা প্রতিদিন প্রচুর নতুন লেখাই ব্লগের ভিজিটর বৃদ্ধি করবে। এ ধারণাটি একদিন থেকে যেমন সঠিক আবার অন্য দিক থেকে বিবেচনা করলে সঠিক নয়। প্রচুর নতুন পোস্ট (blog post) তৈরির জন্য আপনাকে অনেক নতুন বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে হবে। নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন না। ফলে পোস্টের মান হবে প্রাথমিক পর্যায়ের। এতে করে পাঠক যা জানতে আগ্রহী তা আপনার লেখা থেকে নাও পেতে পারে। এর পরিবর্তে কোন বিষয়ে অনেক বেশি তথ্য সম্বলিত লেখা একদিক থেকে পাঠকের সম্পূর্ণ চাহিদা যেমন পূরণ করে অপরদিকে তাদের পরিণত করবে নিয়মিত পাঠকে।

এ ধরণের আরও কিছু লেখা

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।