সেবাদানকারীর যত্ন কিভাবে নেবেনঃ পর্ব-২

take care of nursesগত পর্বে আমরা জেনেছি সেবা দানকারী ব্যক্তিটি কে এবং তার যত্নের কেন প্রয়োজন। আজকে এরই ধারাবাহিকতায় জানব যিনি নিজেই সেবা দান করছেন তার যত্নের জন্য বা সেবার জন্য আমাদের করণীয় কি এবং তা কিভাবে করব।

আমাদের সমাজের একটা প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে কোন ব্যক্তি যদি নিজের অধিকার বা প্রয়োজনটুকু চিন্তা করে তাহলে সে স্বার্থপরতা দেখাচ্ছে, শুধুমাত্র আরেকজনের জন্য ভাবতে হবে নিজের জন্য ভাবা ঠিক না ইত্যাদি ইত্যাদি। এ কারণে আমাদের পরিবারের যিনি সেবা দানকারী হয়ে থাকেন তিনি বেশিরভাগ সময়ই কিন্তু নিঃস্বার্থ মনোভাব বজায় রাখতে আরেকজনের জন্য নিবেদিত প্রাণ হন। সে কারণে সেবার বিষয়টি তিনি শুধু দিয়ে যাবেন কিন্তু নিতে পারবেন না এমনটাই বদ্ধমূল হয়ে থাকে।

আর এ কারণেই আপনি যখন সেবা দানকারীর যত্ন নেয়ার কথা বলবেন বা করতে যাবেন সেটি পরিবারের অন্যরা হয়ত ভাল ভাবে নাও নিতে পারে কিংবা সেবা দানকারী ব্যক্তিটি নিজেও হেসে উড়িয়ে দিতে পারে বা সংকোচ করতে পারে। তাই এই বিষয়টি যত সহজ মনে হচ্ছে অতটা সহজ নয়। একজন সেবা দানকারী ব্যক্তির যত্নে তাই আশেপাশের মানুষকে সচেতন হতে হবে। আসুন জেনে নেই সচেতন হয়ে আমরা কি করতে পারি।

  • সেবা দানকারী ব্যক্তিটিকে মাঝে মাঝেই ছুটি দিতে পারেন। তার অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে তাকে কিছুটা অব্যাহতি দিয়ে ঘুরতে যেতে বলতে পারেন। কিংবা বিশ্রাম নেয়ার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করে দিন। যেন তার নিজেকে দেয়ার মত সময়টা তিনি পান।
  • অসুস্থ যে ব্যক্তির সেবায় তিনি নিয়োজিত আছেন সেই ব্যক্তির সাথে রক্তের বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়ে থাকলে ঐ ব্যক্তির অসুস্থতা নিয়ে তার মনেও অনেক হতাশা, কষ্ট রয়েছে। তাই তার সেই না বলা কথা গুলো শুনতে হবে মনোযোগ দিয়ে।
  • অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে তার শরীরে যে পুষ্টির ঘাটতি হচ্ছে তা সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • সেবা দানকারী ব্যক্তির স্বাভাবিক চাহিদা ব্যাহত হচ্ছে কিনা দেখতে হবে। যদি অসুস্থ ব্যক্তির সাথে তার এমন কোন বিষয় জড়িত থাকে যা সে মেটাতে পারছে না তাহলে সেটি কিভাবে সে অন্য কোন উপায়ে সমাধান করতে পারে বা মানিয়ে নিতে পারে সেটিও পরামর্শ বা সহযোগিতা করতে হবে।
  • অসুস্থ ব্যক্তির যদি কোন সংক্রামক রোগ থাকে তাহলে অবশ্যই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে অনেক সেবা দানকারী ব্যক্তিও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকেন। তাই একে সহযোগী বিবেচনায় এনে তাকেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতন রাখতে সহযোগিতা করতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা অনেক সংকোচ করি কারণ মনে করি যে অসুস্থ ব্যক্তিটি এত আপন অথচ তার অসুখে নিজেকে এত সচেতন রাখতে হবে কেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে ব্যক্তিটি আপনার আপন কিন্তু রোগটি নয়। সুতরাং অবশ্যই রোগীর প্রতি সম্পর্কের সবটুকু সম্মান বজায় রেখে আমাদের রোগ ও ব্যাধিগুলো নিয়ে সচেতন হতে হবে।
  • একটি পরিবারে কেউ অসুস্থ হয়ে থাকলে এর প্রভাব পুরো পরিবারেই পরে থাকে। তাই শুধুমাত্র সেবা দানকারী ব্যক্তিটিই নয় পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও নিজেদের প্রতি যত্নবান হতে হবে।

পরিবারে বসবাসকারী প্রতিটি ব্যক্তিই একে অন্যের অনেক বেশী আপন। আর তাই আপন মানুষটিকে যিনি সেবা দিচ্ছেন তার সুস্থতাও নিশ্চিত করা আমাদেরই দায়িত্ব। আসুন নিজের যত্ন নেই এবং সেবা দানকারীকেও যত্ন নিতে শিখি।

এই পর্বের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ুনঃ

 

সেবাদানকারীর সেবা করবেন যেভাবেঃ পর্ব-১

how to take care of nurses

আমরা যখন মানসিকভাবে বা শারীরিকভাবে অসুস্থ হই তখন এমন একজন মানুষ আমাদের পাশে থাকেন যিনি আমাদের যত্ন নেন, সেবা বা শুশ্রূষা করেন। আবার আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে বা জীবন-যাপন সহজতর করতে সেবা দানকারী ব্যক্তিটির অবদান অপরিসীম। আর তাই সেবা দানকারী ব্যক্তিটির সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরী। আসুন পর্যায়ক্রমিকভাবে জেনে নেই সেবা দানকারী সম্পর্কে বিস্তারিত।

একজন সেবা দানকারী ব্যক্তি যে কেউ হতে পারেন। তবে সাধারণত পরিবারের কোন এক বা একাধিক মানুষ যেমন মা অথবা বাবা অথবা ভাই বা বোন এই সেবা দান করে থাকেন। অনেকসময় বয়োজ্যেষ্ঠ নিকটাত্মীয় এই ভূমিকা পালন করে থাকেন যেমন খালা, ফুপু, মামী ইত্যাদি।

আজকে আমরা জানব কি কি কারণে সেবা দানকারী ব্যক্তির সেবা (care) প্রয়োজন।

  • সেবা দানকারী ব্যক্তি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তার সুস্থ থাকাটা আরও অনেক বেশী জরুরি।
  • একজন অসুস্থ ব্যক্তির দিকে মনোযোগ বেশী থাকার কারণে অনেক সময় আমরা সেবা দানকারী ব্যক্তিটির প্রয়োজন বা সমস্যা মেটানোর জন্য তাকে সময় দেয়ার কথা ভুলে যাই। এতে করে সামান্য যত্নের অভাবে বড় কোন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই এই ব্যক্তিটিরও সেবা ও যত্নের প্রয়োজন।
  • কোন পরিবারে সেবা দানকারী ব্যক্তিটি যদি অবহেলিত হন তাহলে তার আত্ম মর্যাদাবোধ ও আত্মতুষ্টি কমে যায়। সে সামাজিকভাবে মিশতে চায় না। এতে করে পরিবারে অশান্তি দেখা দিতে পারে।
  • আমরা মনোযোগ দিলেই দেখব সেবা দানকারী ব্যক্তিটি শুধুমাত্র সেবা দিচ্ছে তা নয়। পরিবারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজও কিন্তু তাকে করতে হচ্ছে। যদি ব্যক্তিটি মা হন তাহলে সেবা দানের পাশাপাশি তাকে ঘরের সব কাজই করতে হয়। একারণে তারও যত্নের প্রয়োজন যেন অন্যান্য কাজেও তিনি সাবলীলভাবে ভারসাম্য রাখতে পারেন। আবার যদি ব্যক্তিটি বাবা হন তাহলে তিনি তার কাজ ও সেবা প্রদান দুটিই গুরুত্ব দিয়ে করে থাকেন বিধায় তাকেও যত্নের আওতায় থাকতে হবে।
  • সেবা দানকারী ব্যক্তি যদি নিকটাত্মীয় কেউ হয়ে থাকেন তাহলে তার নিজ পরিবারের জন্যেও তার দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। আর তখন যদি ব্যক্তিটির মনোযোগ বা যত্নের ঘাটতি হয় সেটি তার জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে যাবে তাই অবশ্যই সেবা দানকারী ব্যক্তির যত্নের প্রয়োজন।

আমরা নিজের যত্নের কথা ঠিক যেভাবে ভাবি তেমনি সেবা দানকারী ব্যক্তিটির জন্যেও ভাবতে হবে। পরবর্তী পর্বে আমরা দেখব কিভাবে সেবা দানকারী ব্যক্তির যত্ন নিব।

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ুনঃ

যদি পেতে চান ঝলমলে ও আকর্ষণীয় চুল

haircareনারী সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হচ্ছে চুল। ঝলমলে, ঘন, কাল আকর্ষণীয় চুল নারীর সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলে। তাই সুন্দর শরীর ও ত্বক পেতে যেমন যত্ন প্রয়োজন, স্বাস্থ্যোজ্জল সুন্দর চুল পেতে চাইলেও যত্ন ও পরিচর্যার প্রয়োজন। কেননা স্বাস্থ্যোজ্জল, সুন্দর চুল আপনার সৌন্দর্য কে পরিপূর্ণ করে তোলে। আবহাওয়া এবং পরিবেশ চুলের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই সঠিক পরিচর্যা না করলে চুলের সৌন্দর্য হারিয়ে যায়, চুল মলিন ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। তাই সব ঋতুতে চুলের যত্ন নিতে সঠিক পরিচর্যা নেয়া জরুরি।

চলুন জেনে নেয়া যাক স্বাস্থ্যোজ্জল, সুন্দর চুল পেতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী পরামর্শঃ

১. সপ্তাহে তিন দিন চুলে শ্যাম্পু করবেন, তা না হলে ত্বকে ময়লা জমে খুশকি হতে পারে।

২. চুল এবং মাথার ত্বকের উপযোগী একটি শ্যাম্পু নির্দিষ্ট করুন। পাশাপাশি চুলকে নরম, মসৃণ ও ময়েশ্চারাইজ করতে ভাল ব্রান্ডের কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার চুলকে ভেঙ্গে যাওয়া, রুক্ষ হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। চুলকে জটহীন, নরম, মসৃণ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে কন্ডিশনার খুবই জরুরী।

৩. প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ মিনিটের জন্য হলেও আপনার মাথার ত্বক ম্যাসাজ করুন। এর ফলে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে, ত্বকের মৃত কোষ ও খুশকি দূর হবে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

৪. চুলের মলিনতা ও রুক্ষতা দূর করতে সপ্তাহে অন্তত একদিন চুলে কুসুম গরম তেল ম্যাসাজ করুন। এটি চুল ঝরে যাওয়া প্রতিরোধ করে। নারকেল, জলপাই অথবা বাদাম তেল হালকা গরম করে আঙ্গুলের সাহায্যে পুরো মাথায় আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। এক ঘণ্টা রেখে ভাল করে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৫. ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে চুলে একটি স্কার্ফ পেঁচিয়ে নিন। সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি চুলের স্বাভাবিক রঙ ও উজ্জ্বলতা নষ্ট করে ফেলে। এটি আপনার চুলকে ধুলো ও ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করবে।

৬. চুলের ধরন তৈলাক্ত হলে, শ্যাম্পু করার পর এক মগ পানিতে খানিকটা লেবুর রস অথবা খানিকটা ভিনেগার মিশিয়ে পুরো চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল ঝলমলে ও উজ্জ্বল দেখাবে।

এ ধরণের আরও লেখা পড়ুনঃ

শীতে ছেলেদের ত্বকের যত্নে কিছু পরামর্শ

wintercareখুব স্বাভাবিকভাবেই ছেলেদের ত্বক একটু খসখসে আর রুক্ষ হয়ে থাকে। আর সময়টা যখন শীতকাল তখন যেন এই রুক্ষভাবটা একটু বেশীই বেড়ে যায়। সারাদিনের ছোটাছুটির মধ্যে অনেক ছেলেদেরই আর ত্বকের যত্ন নেওয়ার মতো মানসিকতা থাকে না। কিন্তু নিজেকে একটু সুন্দরভাবে উপস্থাপন করাটা যেন এখন সময়ের দাবী হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই এই শীতকালে আপনার ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও ত্বকের প্রতি একটু যত্নবান হতেই হয়।

আসুন আজ এই ফিচারে শীতে ছেলেদের ত্বকের যত্নে কিছু কার্যকরী পরামর্শ দেবো।

  • শীতে ছেলেদের ত্বকে একটু বেশীই খসখসে ভাব প্রকাশ পায় তখন যখন শেভ করা হয়। আর তাই শীতে শেভ করার পর অবশ্যই মুখে ক্রিম লাগাতে হবে। এতে করে ত্বকে খুব বেশী শুস্কভাব প্রকাশ পাবে না।
  • শীতে ত্বকে মশ্চারাইজার ধরে রাখতে সবার আগে যেটা নিশ্চিত করতে হবে তা হল সাবান এমন কোন ধরণের হতে হবে যাতে মশ্চারাইজার আর গ্লিসারিনের পরিমাণ বেশী থাকে। এতে ছেলেদের ত্বকের নরমভাব বজায় থাকবে।
  • শীতের কনকনে আবহাওয়ায় এমনিতেই ত্বক খুব দ্রুত নমনীয়তা হারিয়ে ফেলে। আর যেখানে ছেলেদের ত্বক ন্যাচারালই একটু শক্ত ধাতের তাই শীতে ত্বকে ভালো কোন ক্রিম ব্যবহার করার বিকল্প হয়না। ক্রিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ক্রিম বাছাই করার চেষ্টা করুন।
  • শীতে গোসল করতে গিয়ে অনেকেই গরম পানি ব্যবহার করে থাকেন। তবে একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে পানি যেন কখনোই অতিরিক্ত গরম না হয়। শরীরের সঠিক কোমলভাব বজায় রাখতে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। ছেলেরা ত্বক নরম রাখতে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চাইলে মুখে হালকা গরম পানির ভাব নিতেই পারেন।
  • অনেক সময় শীতে ছেলেদের ত্বকের মতো হাত ও পা বেশ খসখসে হয়ে যায়। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সামান্য গ্লিসারিন নিয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হাতে পায়ে ম্যাসাজ করুন। দেখবেন খসখসে ভাব কমে যাবে।
  • অনেক ছেলেদের আবার ত্বক বেশ তৈলাক্ত ধরণের হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনার করণীয় হবে অয়েল ফ্রি ফেসওয়াস ব্যবহার করা। এতে করে ত্বকে অতিরিক্ত তেলভাব কমে আসবে আর ত্বক সুন্দর থাকবে।
  • শীতে ত্বক মসৃণ রাখতে আপনাকে একটু বেশী নজর দিতে হবে ত্বকের কমনীয়তা ধরে রাখার ব্যাপারে। আপনি চাইলে শুধুমাত্র পাকা টমেটো বা কমলালেবু দিয়েই এই কাজটি সেরে ফেলতে পারেন। হ্যাঁ পাকা টমেটো বা কমলালেবু চটকে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন দেখবেন ত্বক সুন্দর ও মসৃণ থাকবে।

নিয়মিত যত্নের অভাবে আপনার সুন্দর ত্বকও নষ্ট হয়ে যেতে বাধ্য। ছেলে বলে ত্বকের যত্ন করার দরকার নেই এই চিন্তা বাদ দিয়ে প্রতিদিন একটু একটু সময় নিয়ে ত্বকের প্রতি যত্নবান হন।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

 

জীবাণুর সংক্রমণ সমস্যা দূর করুন হাতের নাগালে থাকা হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দিয়ে

28-benefits-uses-hydrogen-peroxideহাইড্রোজেন পার অক্সাইড একটি প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক, যা ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাকের মতো জীবাণু বা পরজীবির সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহার করা হয়। বাড়ির কাছের ফার্মেসিতেই তরল আকারে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড পাওয়া গেলেও এর নানা ধরণের ব্যবহার সম্পর্কে অনেকেই জানেন না।

তাই আজকে এর কিছু দারুণ ব্যবহারের কথা আপনাদের জানাবো। চলুন জেনে নেয়া যাক।

  • নখের যত্নে  ব্যবহার – নখের উজ্জ্বলতা কমে গিয়েছে? তাহলে একটি তুলাতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড অল্প একটু নিয়ে নখে ঘষুন। এতে নখের উজ্জলতাও বৃদ্ধির পাশাপাশি ময়লা জমে থাকলে তাও সহজেই পরিস্কার হয়ে যাবে।
  • দাঁতের যত্নে  ব্যবহার – দাঁতের ব্যাথা কমানোর করার জন্য হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দারুণ কাজের। এর জন্য চা চামচের এক চামচ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এক কাপ পরিমাণ পানিতে নিন এবং মুখে নিয়ে ৫-১০ মিনিট কুল কুচা করুন, তবে অবশ্যই গিলে ফেলা যাবেনা। এর পর সাধারণ পানি কুল কুচা করে মুখ পরিষ্কার করে ফেলুন। এটি করলে দাঁতের ব্যথাতেও যেমন উপকার পাওয়া যায় তেমনি দাঁত সাদা করতেও দারুণ উপকারী। এটি দিনে ২ বার করতে পারেন।
  • ছোট কাটা ছেঁড়াতে  ব্যবহার – শরীরের কোথাও কেটে গেছে? হাইড্রোজেন পার অক্সাইডে তুলা ভিজিয়ে তা দিয়ে ক্ষত স্থান পরিষ্কার করে নিন। যেহেতু হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কার্যকরী প্রাকৃতিক অ্যান্টি সেপটিক সুতরাং নিশ্চিন্তে আপনি এটিকে সেভলন বা ডেটল এর মতো প্রচলিত অ্যান্টি সেপটিক এর ভালো বিকল্প হিসেবে  ব্যবহার পারেন।
  • খাবার প্লেট এবং বাটি পরিস্কারে  ব্যবহার – কেই বা চায় তার খাবারের প্লেট আর বাটি গুলো ক্ষতিকর জীবাণুতে পরিপূর্ণ থাকুক? জীবাণু ধ্বংসে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দারুণ কার্যকরী । চা চামচ এর ২-৩ চামচ মিশ্রিত পানিতে আপনার খাবার প্লেট এবং বাটি ডুবিয়ে রাখুন ২০-৩০ মিনিট, এরপর ধুয়ে ফেলুন।
  • শাকসবজি ধোয়াতে  ব্যবহার- শাকসবজি থেকে ক্ষতিকর জীবাণু দূর করতে চান? তবে এক লিটার পানির বোতলে ২ চামচ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড মিশিয়ে শাক-সবজিতে স্প্রে করুন বা অল্প অল্প করে ছিটিয়ে দিন। কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ভালো মতো সবজি ধুয়ে ফেলুন।

আজকে আমাদের জানা হলো হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এর চমৎকার কিছু  ব্যবহার । আশা করছি পরবর্তী পর্বে আরও দারুণ কিছু  ব্যবহার আপনাদের জানাতে পারবো । আপনারা ভালো থাকবেন এই প্রত্যাশায় আজকের মতো এখানেই বিদায় ।

আরো পড়ুন

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

অ্যাকুয়ারিয়ামে শখের মাছের যত্নআত্তি

4-Fish-Aquariumমানুষ বৈচিত্রপিয়াসী। বিচিত্র অথচ নান্দনিক জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ সহজাত। আমরা সাগর দেখতে ভালোবাসি, দেখতে ভালোবাসি পাহাড়, নদী। বিশাল সাগরের দিকে আমরা যখন তাকাই, মনের কোণে একটু হলেও হয়তো সবারই উঁকি দেয় একটা জিজ্ঞাসা, এই বিশাল সাগরের গভীরে কতই না নাম না জানা মাছ আছে! আছে হিংস্র, মাংসাশী মাছ, আছে বিশাল আকারের অদ্ভুত রকম মাছ। আর আছে অসাধারণ সুন্দর অনেক রকম মাছ। অনেকেরই হয়তো ইচ্ছা হয়, এই যে নানান রকম মাছের যে অনিন্দ্যসুন্দর মিলনমেলা, এই দৃশ্য যদি সবসময় চোখের সামনে থাকতো? মনটা একটু খারাপ থাকলে, অথবা ইচ্ছা হলেই জলের সাথে মাছের খেলা দেখে সময় কাটিয়ে দেওয়া যেত?

সুপ্রিয় পাঠক, এটা কোন আকাশকুসুম কল্পনা নয়। আপনি ইচ্ছা করলেই এই পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন। আপনারই বাড়িতে। আর আপনার এই স্বপ্নকে সত্যি করবেঃ অ্যাকুয়ারিয়াম। আপনাদের সবার কাছেই এটি অত্যন্ত পরিচিত। বড় কোন রেস্টুরেন্ট এ অথবা অনেকেরই বাড়িতেই বিভিন্ন সাইজের অ্যাকুয়ারিয়ামের দেখা মেলে। অনেক মনোবিজ্ঞানীর মতে, ঘরে অ্যাকুয়ারিয়াম থাকলে মনও নাকি ভালো থাকে। এদিকে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলেন, অ্যাকুয়ারিয়াম আপনার চোখের পক্ষেও বেশ আরামদায়ক ও উপকারী। এগুলোর বাইরেও নিঃসন্দেহে বলা যায়, একটি অ্যাকুয়ারিয়াম আপনার ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। এতসব গুণের কথা জেনে আপনিও নিশ্চয়ই আগ্রহী হচ্ছেন অ্যাকুয়ারিয়ামের প্রতি। উল্টোদিকে আবার ভাবছেন, মাছের এতসব জটিল যত্ন-আত্তি আপনার পোষাবে না। কিন্তু সত্যি বলতে কি, সামান্য কিছু নিয়ম ছাড়া বাড়তি আর কোনো কিছুই ভাবতে হবে না আপনাকে। সবকিছু বিবেচনা করে ঘরের জন্য যদি অ্যাকুয়ারিয়াম কেনার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, এজন্য কী কী জিনিস লাগবে, আর কী কী করতে হবে।

জায়গা বুঝে অ্যাকুয়ারিয়ামঃ অ্যাকুয়ারিয়াম কেনার আগে প্রথমেই নির্বাচন করতে হবে ঘরের কোথায় সেটি রাখবেন। এ বিষয়ে ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গুলশান নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘ঘরের প্রবেশপথটাই অ্যাকুয়ারিয়াম রাখার উপযুক্ত স্থান। জায়গা না থাকলে ড্রয়িং বা ডাইনিং রুমে রাখতে পারেন। এজন্য ঘরের পুরো একটি দেয়াল অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য আলাদা করতে হবে। দেয়ালের আয়তন ১০ ফুট বাই ২০ ফুট হলে অ্যাকুয়ারিয়ামের আয়তন হবে ২ ফুট বাই ৫ ফুট। এতটা জায়গা একসঙ্গে পাওয়া না গেলে জায়গার আয়তন অনুযায়ী অ্যাকুয়ারিয়াম নির্বাচন করুন। ঘরে যদি একেবারেই জায়গা না থাকে, তাহলে মাছ রাখতে কাচের জারও ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে ঘরের যেকোনো একটি কর্নারে কাচের জারে রাখুন ছোট আকারের মাছ। আরো একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আলো বা দিনের কিছুটা সময় রোদ পড়ে— এমন জায়গায় অ্যাকুয়ারিয়াম রাখা উচিত। এতে মাছ ভালো থাকবে।

শুরুতে যা যা লাগবেঃ একটি অ্যাকুয়ারিয়াম, এয়ার পাম্প, ফিল্টার, কিছু পাথর আর জীবাণুনাশক লাগবে শুরুতেই। সর্বপ্রথম কাজ হলো অ্যাকুয়ারিয়াম নির্বাচন। একসময় কাঁচের অ্যাকুয়ারিয়াম ছাড়া আমরা কল্পনাও করতে পারতাম না। দিন বদলেছে। এখন অধিকাংশ মানুষের পছন্দের অ্যাকুয়ারিয়াম হলো অ্যাক্রিলিক অ্যাকুয়ারিয়াম। এগুলো আসল কাঁচের অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে শ্রেয়তর, কারণ বাস্তবে অ্যাক্রিলিক কাঁচের তুলনায় সতের গুণ শক্তিশালী। অ্যাকুয়ারিয়ামের ভেতরটা সাজাতে নানা রকম খেলনা এবং তাজা গাছ লাগতে পারেন। কোন ধরণের ফিল্টার বা ছাকুনি ব্যবহার করা হবে তা অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। কিছু অ্যাকুয়ারিয়ামের ছাকুনি কেবলমাত্র লোনা পানির জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়, এবং অন্যগুলো মিঠা পানির অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য ব্যবহার করা হয়। অ্যাকুয়ারিয়ামের এই ছাকুনিগুলো ভিন্ন ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে, কিন্তু এগুলোর কাজ একই এবং তা অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করে।

অ্যাকুয়ারিয়াম স্ট্যান্ডঃ বাজারে হরেক রকমের অ্যাকুয়ারিয়াম স্ট্যান্ড পাওয়া যায়। এগুলো যেকোনো ধরণের কাঠ দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে এবং অ্যাকুয়ারিয়ামের আকৃতির উপর নির্ভর করে এই সকল স্ট্যান্ড নির্বাচন করতে হয়। এক ধরণের স্ট্যান্ড আছে যার উপর অ্যাকুয়ারিয়ামটি সরাসরি রাখা যায় এবং অন্যদিকে ক্যাবিনেট আকৃতির স্ট্যান্ড সম্পূর্ণ অ্যাকুয়ারিয়ামকে চারদিক থেকে বেষ্টন করে রাখে। একটি উন্নতমানের অ্যাকুয়ারিয়াম স্ট্যান্ডের জন্য অ্যাকুয়ারিয়াম স্টোরগুলো হলো আদর্শ জায়গা।

অ্যাকুয়ারিয়ামের আলোকসজ্জাঃ যখন কারও অ্যাকুয়ারিয়ামে আলোকসজ্জার প্রয়োজন হয়, তখন এর জন্য অনেক রকম বিকল্প রয়েছে। কিছু অ্যাকুয়ারিয়ামের আলোকসজ্জা অ্যাকুয়ারিয়ামের ঢাকনাতে ব্যবহার করা হয়। এই অবস্থায় যখন তা চালু করা হয়, তখন তা সমগ্র অ্যাকুয়ারিয়ামটিকে মৃদু আলোয় আলোকিত করে। অ্যাকুয়ারিয়ামে যে সকল লাইট ব্যবহার করা হয় সেগুলোর অধিকাংশই এলইডি লাইট এবং সবসময় এই লাইটগুলোকে চালু না রেখে নিয়ন্ত্রিতভাবে চালু রাখার জন্য টাইমার ব্যবহার করা যায়।

অ্যাকুয়ারিমের সাজসজ্জাঃ যেকোনো অ্যাকুয়ারিয়ামের সজ্জার ক্ষেত্রে অ্যাকুয়ারিয়ামের পাথর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পাথরগুলো মাছের লুকানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলো যেকোনো প্রদত্ত অ্যাকুয়ারিয়ামে একটি অনন্য পরিবেশ নিশ্চিত করে। অনেকে রঙিন পাথর দিয়ে অ্যাকুয়ারিয়াম রঙিন করে তোলেন। অ্যাকুয়ারিয়ামের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ডেকোরেশন পিসও রাখতে পারেন। ঝরনা, বল বা পুতুল বেশ সাজিয়ে তুলবে রঙিন মাছের বাসাটি। অ্যাকুয়ারিয়ামে সামুদ্রিক পরিবেশ আনতে শামুক, ঝিনুক ও বড় পাথর দিতে পারেন। এ ছাড়া সবুজ গাছ বা রঙিন ফুল দিয়েও সাজাতে পারেন পানির জার বা অ্যাকুয়ারিয়াম।

home 13 copyএবার আসা যাক যাকে কেন্দ্র করে এই অ্যাকুয়ারিয়াম অর্থাৎ মাছের কথায়।

অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য মাছঃ সব মাছ অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখা যায় না। বিশেষ কিছু মাছই রয়েছে যেগুলো অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখার জন্যই চাষ করা হয়। আমাদের দেশে অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখার মতো অনেক মাছ পাওয়া যায়। যেমনঃ গোল্ডফিশ, অ্যাঞ্জেল, শার্ক, টাইগার বার্ব, ক্যাটফিশ, গাপ্পি, মলি, ফাইটার, সাকার, সিলভার ডলার, অস্কার, কার্প, হাইফিন নোজ, এলিফ্যান্ট নোজ, টেট্রা, অ্যারোনা, রোজি বার্ব, কমেট, কিসিং গোরামি, ব্ল্যাক অরেন্ডা ইত্যাদি। তবে অ্যাকুয়ারিয়ামে গোল্ডফিশ প্রজাতির মাছ রাখতেই বেশি দেখা যায়। এরা বেশ কষ্টসহিষ্ণু ও অক্সিজেন ছাড়া কয়েক দিন বেঁচে থাকতে পারে। এদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও অন্য মাছের চেয়ে বেশি।

মাছের খাবারঃ মাছকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। মাছের দু’ধরনের খাবার প্রচলিত আছেঃ ১. সজীব খাবার ২. শুকনা খাবার। সজীব খাবারের মধ্যে মাছের প্রিয় খাদ্য কেঁচো। খুব অল্প দামেই বাজারে কেঁচো পাওয়া যায়। তবে অনেকেই কেঁচো সহ্য করতে পারে না। তাদের জন্য বাজারে শুকনা প্যাকেট খাবার বিভিন্ন বাণিজ্যিক নামে পাওয়া যায়, যা দেখতে সরিষার দানার মতো। সাধারণ হিসাবে মাছপ্রতি একটি দানা সকাল ও রাতে খাবার দিতে হবে। কখনোই মাছকে বেশি খাবার দেবেন না। এতে ফল হবে উল্টো।

মাছের যত্নঃ ঠিকমতো যত্ন পেলে মাছ মারা যাবে না। অ্যাকুয়ারিয়ামের পানি মাসে একবার বদল করতে হবে। ১৫ দিন পর পর অর্ধেক পানি ফেলে নতুন পানি দিতে হবে। এক্ষেত্রে ফিল্টার করা সাধারণ তাপমাত্রার পানি দিন। সরাসরি ট্যাপের পানিতে অনেক সময় ব্লিচিং পাউডারসহ নানা রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা মাছের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিবার পানি বদলের পর পানিতে ব্লু, ওয়াটার কেয়ার, ফাঙ্গাস প্রতিরোধক ফানজিডাল ও কিছুটা অ্যাকুয়ারিয়াম সল্ট দিতে হবে। এগুলো অ্যাকুয়ারিয়ামের দোকানেই পাবেন। এতে মাছ সুস্থ থাকবে।

কোথায় পাবেনঃ রাজধানীর কাঁটাবনে রয়েছে অ্যাকুয়ারিয়াম ও রঙিন মাছের বিরাট বাজার। চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কাঁচ বা প্নাস্টিকের জার পাবেন এখানে। একদম ছোট থেকে শুরু করে বিশাল সাইজের অ্যাকুয়ারিয়ামও পেয়ে যাবেন কাঁটাবনে। তবে কেনার সময় ঘরের কোথায় রাখা হবে তা মাথায় রেখে কিনবেন। পাশাপাশি ঘরের আকৃতির কথাও খেয়াল রাখা জরুরি।

দরদামঃ প্রজাতিভেদে বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত মাছের দাম জোড়াপ্রতি ৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আর বাইরে থেকে আমদানি করা প্রতি জোড়া পড়বে ৮০ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। অ্যাকুয়ারিয়ামের বক্সের দাম ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা। চীন থেকে আসা বিভিন্ন বক্স পাওয়া যাবে ১ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায়। কেউ চাইলে পছন্দমতো অ্যাকুয়ারিয়াম বক্স বানিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে অ্যাকুরিয়ামের দোকানে অর্ডার করতে হবে। এছাড়া অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য এয়ারপাম্প ১২০ থেকে ৪ হাজার ৫০০, পাওয়ার ফিল্টার ৩৫০ থেকে ৮০০, কালার টিউব লাইট ১৫০ থেকে ৩৫০, এয়ার এক্সিকিউটর ১৫০ থেকে ৩০০, পাথরকুচি প্রতি কেজি ১৫-২০ ও মাছের প্যাকেটজাত খাবার পাওয়া যাবে ৩০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, যা মনে রাখতে হবেঃ

  • অতিরিক্ত খাবার দেবেন না।
  • মাছ হাত দিয়ে না ধরে নেট ব্যবহার করুন।
  • সাবান দিয়ে অ্যাকুয়ারিয়াম ও অ্যাকুয়ারিয়ামের পাথর পরিষ্কার করবেন না।
  • ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন।
  • লাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, যেন আলো বেশি হয় এবং তাপ কম হয়।
  • শীতের সময় হিটার ব্যবহার করুন।
  • কচ্ছপ এবং মাছ একসঙ্গে রাখবেন না।

তাহলে আর দেরি কেন? আপনার নিজের ঘরেই বানিয়ে নিন একটুকরো সাগর!

(তথ্য ও উপাত্ত সংগৃহীত)

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।