সেবাদানকারী ব্যক্তির নিজের সেবায় করণীয়ঃ পর্ব-৫

responsibilities of care givers

কথায় আছে ’যিনি রাঁধেন তিনি চুলও বাঁধেন’। অর্থাৎ যিনি আরেকজনকে খাওয়াবেন তাকে নিজের যত্ন নিতেও জানতে হবে। তাই আজকে সেবা দানকারী ব্যক্তি নিজের যত্নে কি করবেন সেটি নিয়ে বলব। সেবা দানকারী ব্যক্তির দায়িত্ব ও কর্তব্য পর্বে দেখেছি যে তাকে কাজ এর ব্যবস্থাপনা জানতে হবে। তাকে নিজের যত্নের জন্য তাকে আলাদা সময় রাখতে হবে।

১. প্রতিদিন নিজেকে অনুপ্রেরনা যোগায় এমন কিছু ইতিবাচক আত্ম-সমালোচনা করুন। আমাদের করণীয় ভাল কাজগুলো স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের অনেক উৎসাহ দেয় যেন আরও ভাল কিছু আমরা করতে পারি। আর আমাদের করণীয় অপ্রত্যাশিত মন খারাপ করা আচরণগুলো আমাদের কষ্ট দেয়। যেহেতু যিনি সেবা দান করবেন তাকে সুস্থ মানসিক শক্তি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে তাই তাকে নিজের আচরণের ইতিবাচক দিকগুলোই ভাবতে হবে। আমরা নিশ্চয়ই জানি ইতিবাচক চিন্তা আমাদের জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করে এবং অপরদিকে নিজ আচরণ নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা আমাদের দুর্বল করে দেয়।

২. ঘুম থেকে উঠেই যখন কাজে নামতে হবে তখন খানিকটা সময় হাতে নিয়ে উঠুন যেন নিজের ব্যক্তিগত যত্নের কাজগুলো আগেই সেরে নিতে পারেন। নাস্তা তৈরি বা রোগীর পথ্য দেয়ার আগেই নিজে কিছু খেয়ে নিন। যেন কাজে স্বতঃস্ফূর্ত থাকতে পারেন।

৩. বয়স্ক মা-খালা বা নানী-দাদীরা অনেক সময়ই গুল বা সাদাপাতা বা পান খেয়ে থাকেন। এই সব তামাকজাত দ্রব্য বর্জন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ এই দ্রব্যগুলো আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে কোন ভূমিকা রাখে না। এসবরে পরিবর্তে লেবুর শরবত, গুড়ের শরবত, আচার, বড়ই বা কামরাঙ্গা খান।

৪. মাঝেই মাঝেই গল্প করুন। রোগীর সাথেও মন খুলে গল্প করুন। তবে অবশ্যই রোগীর জন্য অস্বস্তিকর কোন পরিবেশ যেন তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৫. পরিবারে যখন কাজের বণ্টন করে দিবেন তখন যেন সবাই এ ব্যাপারে সহযোগী মনোভাব রাখতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। যখনই কারো মনে অসন্তোষ তৈরি হবে সেটি নিয়ে তার সাথে আলোচনা করুন। এতে করে নিজের উপরে মানসিক ক্লান্তি বা অতিরিক্ত দায়বদ্ধতার চাপ কমে আসবে।
রাতে ঘুমাতে যাবার পূর্বে কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। এটি আরামদায়ক ঘুমের জন্য অনেক উপকারী।

৬. সপ্তাহে বা মাসে যখনই মন চাইবে বাহিরে ঘুরে আসুন। অনেক সেবা দানকারী মনে করেন তিনি যদি বিনোদন করেন তাহলে রোগীর যত্নে অবহেলা হবে বা লোকে তাকে খারাপ ভাববে। কিন্তু যেহেতু আপনি রোগীর সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করছেন। তাই আপনার সুস্থতা অনেক বেশী জরুরী। আর বিনোদন সুস্থ থাকতে সহযোগিতা করে। আপনার নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস আর বিনোদন আপনাকে অনেক সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে।

আসুন পরিবারে ও অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে আমরা যারা সেবা দানকারী রয়েছি তারা যেন নিজের যত্নে যে কাজগুলো করা দরকার তা করতে সচেতন হই। ঝেড়ে ফেলি হীনমন্যতা ও অন্যে কি বলল এই সংকোচগুলোকে। নিজে সুস্থ থাকি ও পরিবারের সুস্থতার জন্য সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের শক্তি অর্জন করি।

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ুনঃ