জেনে নিন ইতিবাচক চিন্তা করার পদ্ধতি ও এর সুফল সম্পর্কে

The Secrets of Positive Thinking

ইতিবাচক চিন্তা এমন একটি মানসিক মনোভাব যার জন্য আমরা ভাল এবং সন্তোষজনক ফলাফল আশা করে থাকি । অন্যভাবে বলা যায় যে, ইতিবাচক চিন্তা হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা আমাদেরকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাথা ঠাণ্ডা রেখে চিন্তা করতে সহায়তা করে । সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে ইতিবাচক চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

Mayo clinic in Rochester এর ১টি গবেষণায় কিছু রোগীকে পারসোনালিটি টেস্ট করা হয় যেখানে তাদের optimism ( আশাবাদ ) and pessimism ( দুঃখবাদ ) পরিমাপ করা হয় । ৩০ বছর ধরে এই রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং গবেষণার ফলাফলে এটা পাওয়া গেছে যে, optimistic দের গড় আয়ু বেশী এবং pessimistic দের গড় আয়ু তুলনামূলক কম । গবেষকেরা এটা খুঁজে পেয়েছেন যে, optimism মানুষের immune system কে শক্তিশালী করে এবং সুস্থ জীবন যাপনে সহায়তা করে । যারা optimistic তারা নিজেদের সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা করে এবং নিজেদের যত্ন নেয় । কিন্তু pessimistic রা অযথা নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা করে যা তঁদেরকে অসুস্থ করে ফেলে এবং তারা উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতায় ভুগে থাকে ।

অনেক গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে, যখন কেউ ইতিবাচক চিন্তা করতে থাকে তখন সে নিজেকে অনেক বেশী সুখী ভাবতে পারে এবং সে অনেক কিছুই অর্জন করতে পারে সহজেই । আসুন জেনে নেওয়া যাক যে আমরা কিভাবে ইতিবাচক চিন্তা করতে পারি ।

১. সময় নিনঃ

যখন আপনার সাথে খারাপ কিছু ঘটবে, সেই সময়টা অতিবাহিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন । নিজেকে সময় দিন। এটা আপনার ভেতরে ইতিবাচক চিন্তা তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এটা আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । সময় ক্ষত সারাতে সহায়তা করে এবং এটা আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে ।

২. ইতিবাচক মানুষের সাথে মিশুনঃ

এমন কিছু মানুষের সাথে মিশুন যারা আপনাকে আশা দেখায়, গঠনমূলক কাজ এবং আলোচনায় সাহস যোগায় । এমন মানুষের সঙ্গ পরিত্যাগ করুন যারা প্রতিনিয়ত আপনাকে আশাহত করে এবং আপনাকে নেতিবাচক চিন্তা করতে উৎসাহিত করে।

৩. অন্যদের সাহায্য করুনঃ

আপনার সাধ্যমত অন্যদের সাহায্য করুন । অন্যদের সাহায্য করলে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় যা আপনাকে আপনার জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক হতে সাহায্য করবে ।

৪. আপনার যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুনঃ

আপনার যা কিছু আছে প্রতিদিন ৫টি করে সেগুলোর নাম লিখুন এবং সেজন্য সন্তুষ্ট থাকুন কারণ আপনার যা আছে অনেকেরই তা নেই । আর যদিও বা থেকে থাকে তবে তাও চিন্তা করে দেখুন যে আপনার দুঃখিত হবারও কোন কারণ নেই যেহেতু অন্যদের যা আছে আপনারও তাই আছে । এটি আপনাকে ইতিবাচক হতে সাহায্য করবে । Joseph Campbell এর মতে,“Find a place inside where there’s joy, and the joy will burn out the pain. অর্থাৎ এমন কিছু খুঁজে বের করুন আপনার প্রতিদিনের জীবন যাপন থেকে যা আপনাকে সুখের অনুভূতি দিবে এবং আপনার কষ্টগুলোকে দূরে রাখবে ।

৫. ইতিবাচক উক্তি পড়ুনঃ

প্রতিদিন কিছু ইতিবাচক উক্তি পড়ুন । ইতিবাচক উক্তি পড়লে আশা জাগে,নিজের ভেতরের ভয় দূর হয়। আবার ইতিবাচক উক্তি আমাদের বিষণ্ণতাকেও দূর করে । নিচে কিছু ইতিবাচক উক্তি দেয়া হল উদাহরণস্বরূপঃ

“Work hard for what you want because it won’t come to you without a fight . You have to be strong and courageous and know that you can do anything you put your mind to. If somebody puts you down or criticizes you, just keep on believing in yourself and turn it into something positive.” (Leah LaBelle ).

“Take chances, make mistakes. That’s how you grow. Pain nourishes your courage. You have to fail in order to practice being brave.” – (Mary Tyler Moore)

“Hope is a waking dream.” – (Aristotle)

“Today is a new beginning, a chance to turn your failures into achievements & your sorrows into so goods. No room for excuses.” – (Joel Brown)

“If you think you can do a thing or think you can’t do a thing, you’re right.” –( Henry Ford )

“No matter what the situation, remind you “I have a choice.” – (Deepak Chopra)

“We are all here for some special reason. Stop being a prisoner of your past. Become the architect of your future.” – (Robin Sharma)

৬. নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুনঃ

কোন এটা ভুল হলে আমরা নিজেদের অনেক দোষারোপ করি । নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনা । এতে করে আমাদের মধ্যে নেতিবাচক চিন্তা আরও দৃঢ় হয় । সবার আগে নিজেকে নিজে ক্ষমা করা শিখতে হবে। যখন আমরা নিজেকে ক্ষমা করতে পারব তখন আমরা অন্যদের সম্পর্কেও ইতিবাচক হতে পারব । আমরা যদি নিজেরা নিজেদের ভুলের জন্য নিজেকে ক্ষমা করতে না পারি তাহলে অন্যদেরও ভুলের জন্য ক্ষমা করতে পারবনা । যদি এটা ভাবা যায় যে ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে তাহলে নিজেকে ক্ষমা করাটা সহজ হয় ।

এ সম্পর্কে John Wooden বলেছেন, “If you’re not making mistakes, then you’re not doing anything. I’m positive that a doer makes mistakes.”
অর্থাৎ,তুমি যদি ভুল না কর তবে তুমি কোন কাজই করোনা । আমি মনে করি কর্মঠ লোকেরাই ভুল করে । কোন কাজ করতে গেলে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ আমরা কেউই সম্পূর্ণ নিখুঁত নই, তাই এ কথাটা মেনে নিলে ক্ষমা করাটা সহজ হয় ।

৭. খুঁজে দেখুন ভুলটা হচ্ছে কোথায়ঃ

ইতিবাচক চিন্তা করার অর্থ এই নয় যে, আপনি আপনার ভুলগুলো এড়িয়ে যাবেন,ভুলগুলো শোধরানোর চেষ্টা করবেন না । বরং ইতিবাচক চিন্তা করার অর্থ হচ্ছে বর্তমানে যে সমস্যা হচ্ছে তা বোঝার জন্য সময় নেয়া, কোথায় এবং কেন ভুলগুলো হচ্ছে তা খুঁজে বের করা যেন ভবিষ্যতে সফলভাবে এসব সমস্যা এড়ানো যায় । তাই কোন নেতিবাচক বিষয় ঘটতে থাকলে তার পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধান করার চেষ্টা করুন আর যদি সমাধান করার কোন পথ খুঁজে না পাওয়া যায় তবে হতাশ না হয়ে সেই সময়টা কেটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন দুঃসময়য়ের পর সুসময় আসবেই ।
“You’re going to go through tough times – that’s life. But I say, ‘Nothing happens to you, it happens for you.’ See the positive in negative events.” ( Joel Osteen ).

৮. ব্যর্থতাকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুনঃ

কথিত আছে, failure is the pillar of success . আসলেই কিন্তু তাই । মাঝে মাঝে আমাদের জীবনের সব চেয়ে নেতিবাচক ব্যর্থতাগুলো আমাদেরকে বড় বড় সাফল্য অর্জনের পথ তৈরি করে দেয়। যেমনঃ যখন আপনি আপনার চাকরি হারাবেন তখন সুযোগ তৈরি হয় নিজের কোন ব্যবসা শুরু করার যা থেকে আপনি অনেক বেশী লাভবান হতে পারবেন অথবা আরও সম্মানজনক কোন কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন । ভেবে দেখুন আপনার জীবনেও এমন কিছু ব্যর্থতা আছে যার কারণে আপনি পরবর্তীতে আরও বড় কিছু সাফল্য হয়ত পেয়েছেন যা আপনি হয়ত কখনই ভাবেননি ।

সুতরাং ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে সেই ব্যর্থতার পেছনের সাফল্য আসার জন্য অপেক্ষা করুন । এ সম্পর্কে Marla Gibbs বলেছেন,
“I truly believe that everything that we do and everyone that we meet is put in our path for a purpose. There are no accidents; we’re all teachers – if we’re willing to pay attention to the lessons we learn, trust our positive instincts and not be afraid to take risks or wait for some miracle to come knocking at our door.”

সুতরাং ইতিবাচক চিন্তা করুন,ইতিবাচক কাজ করুন এবং অন্যদের প্রতিও ইতিবাচক হন তাহলে আপনিও ইতিবাচক ফল পাবেন । আর গবেষণায় প্রমাণিত যে, ইতিবাচক চিন্তার মানুষ অনেকদিন বেঁচে থাকে,অনেক রোগ থেকে মুক্তি পায় । শুধু ইতিবাচক চিন্তা করলেই যদি এত উপকার পাওয়া যায় তাহলে ইতিবাচক চিন্তা করাটাই তো বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক ।

এ ধরণের আরও লেখা পড়ুনঃ

নিজের যে নেতিবাচক চিন্তাগুলো আপনাকেই করে তুলছে অসুখী

 

These-Little-Things-Are-Making-You-Unhappy-compressorনিজে নিজেকে অসুখী ভাবার চেয়ে যন্ত্রণাকর কষ্ট মনে হয় পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি হয় না। যেখানে আমরা সবাই জানি নিজে নিজেকে অসুখী ভাবা মোটেই ভালো কোন কাজ নয় তারপরও প্রতিনিয়ত আমরা এই কাজটিই নিজের অজান্তেই করে চলছি।

যার ফলাফল হতাশা আর অবসাদ গ্রস্থ একটি জীবন যাপন। আর অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে আমরা অনেকে না বুঝেই এমন অনেক চিন্তা ভাবনা করে চলেছি যেগুলো আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে বাধা প্রদান করে চলছে।

আসুন আজ আপনাদের সাথে পরিচয় করে দিই এমন কিছু চিন্তাধারা যা আমাদের প্রতিনিয়ত অসুখী করে তুলছে

নিজেকে মূল্যহীন ভাবা

আমার কোন ভালো গুণ নেই, আমি খুব সামান্য একজন মানুষ! কথাটা ভীষণ ছোট কিন্তু আমাদের জীবনে এই ছোট্ট কথাটার প্রভাব অনেক বেশী। আপনি যখনই নিজেকে মন থেকে মূল্যহীন ভাবা শুরু করবেন তখন আপনি আর কখনোই সুখী হতে পারবেন না। তাই আজ থেকেই নিজেকে মূল্যহীন বা ছোট ভাবার প্রবণতা ত্যাগ করুন। দেখবেন জীবনে সুখের অভাব হবেনা।

অন্যের সাথে নিজের তুলনা

এই পৃথিবীতে কেউ কারো মতো নয়। আপনি যদি নিজেকে সব সময় অন্যের সাথে তুলনা করতে থাকেন তাহলে কখনই সুখী হতে পারবেন না। নিজেকে যতবেশি অন্যের সাথে তুলনা করবেন আপনার আত্মবিশ্বাস এর ততবেশি ঘাটতি হতে থাকবে। তবে কেন শুধু শুধু নিজের উপর থেকে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে ফেলবেন। তাই নিজে সুখী রাখতে আজই নিজের তুলনা অন্যর সাথে করা বন্ধ করুন।

নিজেকে একা ভাবা

অসুখী হওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হল নিজেকে নিঃসঙ্গ বা একা ভাবা। আমরা সবাই একটি পরিবারের মধ্যে জন্ম নেয় এবং বড় হতে থাকি। আর আমাদের বড় হওয়ার সাথে সাথে আমাদের চারপাশের মানুষের পরিধি ও বাড়তে থাকে। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা তাদের চারপাশে অসংখ্য প্রিয় মানুষ থাকা সত্ত্বেও নিজেকে একা ভাবতে ভালবাসে। যার কারণে সে আস্তে আস্তে অসুখী মানুষে পরিণত হয়। তাই নিজেকে একা ভাবার অভ্যাস বাদ দিন। তাহলে আর নিজেকে অসুখী মনে হবেনা।

নেতিবাচক চিন্তাভাবনা বেশী করা

আমাদের অসুখী হওয়ার আরও একটু অন্যতম কারণ হল সব সময় নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা করা। সব সময় যদি আমরা কেবল খারাপ আর মন্দ নিয়ে ভাবতে থাকি এক সময় শুভচিন্তা আমাদের ভেতর থেকে চলে যাবে। সুখী হতে চাইলে সবার আগে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করতে শিখুন।

নিজেকে নিখুঁত ভাবার চেষ্টা করা

পৃথিবীর কেউ নিখুঁত নয়। এই সত্যটা যতো তাড়াতাড়ি আপনি গ্রহণ করতে পারবেন আপনার জীবনের কষ্ট আর না পাওয়ার যন্ত্রণাগুলো ততো তাড়াতাড়ি আপনার কাছথেকে দূরে সরে যাবে। তাই নিজেকে নিখুঁত ভাবার বা নিখুঁত করার চেষ্টা আপনাকে অসুখী করে তোলে।

নিজেকে দুর্বল ভাবা

অসুখী হতে আপনাকে কোন কিছুই করতে হবে না। কেবল একবার ভেবে নিন আপনি দুর্বল, আপনি অন্যের থেকে ছোট।  আপনার পৃথিবী ভরা কেবল দুঃখ আর কষ্ট ঘিরে আসবে। যদি চান সুখী হবেন তাহলে নিজেকে কখনো দুর্বল আর ছোট ভাববেন না।

পরনির্ভরশীল স্বভাব

অসুখী অনুভব হওয়ার জন্য দায়ী আরেকটি কারণ হল পরনির্ভরশীল স্বভাব। আপনি যদি সব সময় নিজেকে অন্যের উপর নির্ভর করে রাখেন তাহলে কখনোই সুখী হতে পারবেন না। তাই যদি সুখী হতে চান সবার আগে নিজের উপর নির্ভর করতে শিখুন।

নিজের যা আছে যতোটুকু আছে সেটুকু নিয়েই সুখী আর খুশি থাকতে চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনার জীবনে কোন কষ্ট আর দুঃখ ছুঁতে পারছেনা।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

 

এড়িয়ে চলুন ৫ নেতিবাচক চিন্তা, যা অন্যদের সাথে আপনার দূরত্ব সৃষ্টি করে

Negative-Thoughts-that-Push-People-Away-from-You2-compressorস্বাভাবিকভাবেই কোন কিছু সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা আমাদের মনকে যেমন প্রফুল্ল রাখে একইভাবে জীবন যাপনও বেশখানিকটা সহজ আর সাবলীল করে দেয়। ঠিক একইভাবে নেতিবাচক চিন্তা আপনার মনকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তুলবে  একই ভাবে আপনাকে করবে অবসাদগ্রস্ত।

কোন কাজে আপনি সফল হতে পারবেন না। নেতিবাচক চিন্তা পরাজয়ের আগেই আমাদের পরাজয়ের স্বাদ পাইয়ে দেয়। এমন কিছু নেতিবাচক চিন্তা আছে যেগুলোর জন্য অন্যরা আমাদের থেকে দূরে সরে যায় বা আমরা নিজেদের সহজ ও স্বাভাবিকভাবে আর দশটা মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারিনা।

আসুন দেখে নেই এমন কিছু নেতিবাচক চিন্তা যেগুলোর কারণে অন্যরা আমাদের থেকে দূরে সরে যায়।

সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া

একসঙ্গে যখন অনেকগুলো মানুষ আড্ডা কিংবা কোন গল্পে মেতে উঠে তখন এমন অনেক রকম কথাবার্তাই সেখানে আলোচনা হতে পারে যেগুলো হয়তো আপনার সাথে মিলে যায়। আর এই ক্ষেত্রে আপনি যদি ভেবে বসেন এই আলোচনা বা সমালোচনা যেটাই হচ্ছে তার সবটা আসলে আপনাকে শুনিয়ে করা হচ্ছে তাহলে এটি হবে আপনার সবচেয়ে বড় নেতিবাচক চিন্তা। আর আপনার এই চিন্তাধারার কারণে অন্যরা আপনার সঙ্গ ত্যাগ করতে বাধ্য হবে। তাই সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার অভ্যাস বা চিন্তা আপনি নিজেই ত্যাগ করুন।

অন্যকে বদলানোর চেষ্টা

মনে রাখবেন সবার একটি নিজস্ব সত্ত্বা থাকে, একটি নিজস্ব দুনিয়া থাকে। আর কাউকে আপনি ততক্ষণ অবধি বদলাতে পারবেন না যতক্ষণ না সে নিজে থেকে নিজেকে বদলায়। আমাদের একটি খুব বাজে অভ্যাস বা চিন্তা হল নিজের অধিকার অন্যর উপর খাটিয়ে তাকে আমূল বদলে দেওয়ার একটি নিষ্ফল চেষ্টা করা। যার ফলাফল দাঁড়ায়, হতাশা আর অবসাদ। আপনার এই অযাচিত অধিকার বোধ থেকে জন্ম নেওয়া অন্যকে বদলানোর চেষ্টা আপনার হওয়া অন্যতম নেতিবাচক চিন্তা। যার ফলে অন্যরা নিজেকে আপনার থেকে দূরে সরিয়ে নেবে।

নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা

আমাদের করা নেতিবাচক চিন্তাধারার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু মারাত্মক চিন্তা হলো অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করা। আপনি যদি কথায় কথায় নিজেকে আর দশটা মানুষের সাথে তুলনা করতে থাকেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই অন্যরা আপনার প্রতি বিরক্তিবোধ করবে চাইবে আপনাকে এড়িয়ে চলতে। সহজ করে বলতে গেলে বলতে হয় আপনি যা তা সহজেই অন্যরা জানতে পারে তাই কখনোই নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করার কোন বাড়তি দরকার পড়েনা। তাই নিজেকে যদি অন্য সবার সাথে মিলেমিশে রাখতে চান তাহলে অন্যর সাথে নিজের তুলনা করা অভ্যাস বাদ দিন।

অন্যের দোষ ধরা

যখন কেউ আপনার কাছে তার সম্পর্কে বা তার সাথে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে তখন আপনার উচিৎ আগ্রহ নিয়ে তার কথা শোনা বা বোঝার চেষ্টা করা। কিন্তু আপনি এসবে ধারে কাছে না গিয়ে যদি উল্টো করে তার দোষ ধরাতে নিজেকে বেশী ব্যস্ত করে ফেলেন তাহলে অন্যরা আপনাকে সব সময় এড়িয়ে চলতেই চেষ্টা করবে। তাই আপনি যদি চান অন্য সবার মতো আপনার চারপাশটা বন্ধু আর প্রিয় মানুষে ভোরে থাক তাহলে অন্যর দোষ ধরার মতো খারাপ বা নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন।

নিজেকে অপরাধী ভাবা

আপনার সাথে যাই ঘটুক না কেন সব সময় যদি নিজেকে সেই ঘটনার জন্য দায়ী ভাবতে থাকেন একসময় অন্যরা আপনার উপর আপনাআপনি বিরক্তবোধ করতে শুরু করবে। শুধু তাই নয় নিজেকে যেকোন কিছুর জন্য দায়ীভাবা একটি মানসিক রোগ ও বলা যায়। তাই আপনার করণীয় হবে শুধু শুধু নিজেকে কোন ব্যাপারের জন্য দায়ী ভাবা চিন্তাধারা থেকে বের হয়ে আসা।

ভালো খারাপ মিলিয়ে আমাদের জীবন। ভালোটাকে যেমন আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নিতে শিখি একইভাবে খারাপটাও মেনে নেওয়ার মানসিকতা আমাদের তৈরি করা উচিৎ। তবেই হয়তো এইসব নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা আমাদের মধ্যে কোনরূপ খারাপ প্রভাব ফেলতে পারবেনা।

আরো পড়ুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

ব্লগে নেতিবাচক মন্তব্য যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন – ৫টি পরামর্শ

negativeব্লগে অনেকসময়ই কিছু পাঠক নেতিবাচক মন্তব্য করেন (negative blog comments), স্প্যামিং (spamming) করেন। এধরনের মন্তব্যের জন্য সঠিক ব্যবস্থা না নিলে আপনার ব্লগের প্রতি অন্য পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। তাই জেনে নিন ব্লগের নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ন্ত্রণ করার ৫ টি পরামর্শ।

১. এড়িয়ে যান (ignore them):

নেতিবাচক মন্তব্যগুলো (negative comments) ) এড়িয়ে গিয়ে অন্যান্য মন্তব্যের উত্তর দিন। এতে করে যিনি নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তিনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এছাড়া এতে আপনার সময় ও শ্রম বাঁচবে।

২. যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব উত্তর দিন (response quickly):

নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ন্ত্রণের অন্যতম পদ্ধতি হল যতটা দ্রুত সম্ভব তার উত্তর দেয়া। কারণ আপনার অন্যান্য পাঠকও সেই মন্তব্যটি পড়েছেন এবং আপনার উত্তরের অপেক্ষা করছেন। দ্রুত উত্তর দিলে পাঠক বুঝবেন আপনি ব্লগ (blog) এবং তার পাঠকের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন, এতে আপনার প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।

৩. নেতিবাচক মন্তব্য ডিলিট করুন এবং মন্তব্যকারীকে ইমেইল করুন (delete negative comments):

যদি বুঝতে পারেন কোন পাঠক গঠনমূলক সমালোচনা করতে চাইছে, কিন্তু তার মন্তব্য আপনার ব্লগের জন্য ক্ষতিকর তবে তা ডিলিট করে দিন। এবং সেই পাঠকের সাথে ইমেইল বা টেলিফোনে যোগাযোগ করুন। তার মতামত নেতিবাচক ( negative comments) হলেও হয়তো তা আপনার ব্লগের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

৪. প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবেন না (don’t apologize on public):

আপনার ব্লগ যদি অর্থ উপার্জনের ( earn money by blogging) উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে তবে কখনোই কোন নেতিবাচক মন্তব্যের উত্তরে ক্ষমা চাইবেন না। আপনার যদি ভুল হয়েও থাকে তবে নেতিবাচক মন্তব্যের ( negative comments) উত্তরে “আমি বুঝতে পেরেছি”, বা “আমি আপনার সাথে এ ব্যাপারে আরও আলোচনা করতে আগ্রহী” এধরনের বাক্য লিখুন। প্রকাশে দোষ স্বীকার করলে খুব স্বাভাবিকভাবেই বেশ কিছু নিয়মিত পাঠক হারাবেন আপনি।

৫. মন্তব্যের অপশনই বন্ধ করে দিন (disable comments section):

যদিও এটি খুব সাহসী পদক্ষেপ নয়, তবে অতিরিক্ত নেতিবাচক কমেন্ট বা স্প্যামিং হতে থাকলে মন্তব্যের অপশন বন্ধ করে রাখুন। কিছুদিন পর যখন পাঠক আপনার ব্লগের মূল বক্তব্য বুঝতে পারবে তখন মন্তব্যের অপশন আবার উন্মুক্ত করে দিতে পারেন।

ব্লগ নিয়ে পরামর্শ.কম এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।