নিয়ন্ত্রণ করুন নিজের রাগ ও এর বহিঃপ্রকাশের ধরণ

coltrol anger

আমাদের অন্যান্য অনুভূতিগুলোর মতই রাগ অনেক স্বাভাবিক এবং শক্তিশালী একটি অনুভূতি। তবে অতিরিক্ত রাগ ও এর অনিয়ন্ত্রিত বহিঃপ্রকাশ নিজের জন্যে এবং অন্যজনের জন্যেও ক্ষতিকর। রাগ হওয়ার সাথে সাথেই আমাদের মধ্যে কিছু শারীরিক, মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন হয়ে থাকে। আমরা যদি জানতে পারি আমাদের পরিবর্তনগুলো কিভাবে হচ্ছে এবং ক্ষতিকর দিকগুলো কি তাহলে সহজ হয়ে যাবে জীবন-যাপনের জটিলতা।

রাগে একজন ব্যক্তির শারীরিক পরিবর্তনঃ

  • ঘাম হয়, শরীর কাঁপতে থাকে
  • হৃৎপিণ্ডে দ্রুত রক্ত চলাচল ঘটে
  • মাথা ভার হয়ে যায়
  • দ্রুত নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ঘটে
  • অতিরিক্ত রাগে কখনও কখনও হার্ট-এট্যাক, ব্রেইন-স্ট্রোক হতে পারে।

রাগে ব্যক্তির মানসিক পরিবর্তনঃ

  • নিজের ও অন্যদের উপর বিরক্তি তৈরি হয়
  • সম্পর্ক ও বিশ্বাস বিনষ্ট হয়
  • আত্ম-সম্মানবোধ কমে যায়
  • আক্রমণাত্মক মনোভাব তৈরি হয়

রাগে ব্যক্তির আচরণগত পরিবর্তনঃ

  • আক্রমণাত্মক অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ পায়( যেমন- আঙ্গুল তুলে কথা বলা, আঘাত করা)
  • কণ্ঠস্বর তীব্র ও কর্কশ হয়ে যায়
  • কাজ-কর্মে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়
  • নিজেকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে ( হাত কাটা, মাদক গ্রহণ, আত্মহত্যা)
  • অন্যদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে (মারধোর করা, ভয় ভীতি দেখানো, ত্রাস সৃষ্টি করা)
  • ভাংচুর করে পরিবেশ নষ্ট করে
  • আইন নিজের হাতে তুলে নেয়

এমনটা হলে আমাদের জানতে হবে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো অভ্যন্তরীণ ভাবে হতে থাকে। এবং আচরণগত পরিবর্তনটা আমরা নিজেরা করে থাকি। তাই রাগ প্রকাশ করার আচরণ কি হবে সেটা আমাদের নিজেদের নির্ধারণ করতে হবে। এখানে সংক্ষিপ্ত কিছু কৌশল দেয়া হল এর বাইরেও অনেক কৌশল রয়েছে যা ব্যক্তিকে তার আচরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে।

রাগ বহিঃপ্রকাশে আচরণ নিয়ন্ত্রণের কৌশলঃ

    ১. নিজের রাগ কখন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে হচ্ছে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে নির্দিষ্ট ধারণা রাখা।

    ২. রাগ এর পরিমাণ সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। যখন রাগ করছি তখন কতটা রেগে যাচ্ছি সেটাকে একটা নম্বর দেয়া।

    ৩. রাগ হওয়ার সময় সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া না করে কিছুক্ষণ বিরতি নেয়া। ২ থেকে ৩ মিনিট সময় নেয়া যেতে পারে। কিংবা রাগের মাত্রার উপর নির্ভর করে আরও সময় বাড়ানো কমানো যায়। আমি কিভাবে রাগ প্রকাশ করছি এবং এতে আশেপাশে কেউ বা নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি কিনা বিশ্লেষণ করা। যদি এমন আচরণ শনাক্ত করা যায় তাহলে এর পরিবর্তে অন্য কোন আচরণটা যুক্তিসঙ্গত ভাবে আমার রাগ প্রকাশ করবে এবং অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না সেটা বাছাই করা। ( যেমন কেউ কেউ ঐ স্থান থেকে সরে গিয়ে নিরিবিলি বসে থাকে, অন্য কোন কাজে মনোযোগ দেয়, পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলে, রাগ হওয়ার কারণটা স্পষ্ট করে বলে ইত্যাদি)।

    ৪. নিজে থেকেই রাগের মুহূর্তের বাছাইকৃত আচরণটাকে অনুশীলন করা এবং স্বেচ্ছায় পরিবর্তিত আচরণটা করার প্রত্যয় গ্রহণ করা।

    ৫. যখন কোন ক্ষেত্রে দেখলেন পরিবর্তিত আচরণ করতে পেরেছেন তখন নিজেকে মনে মনে প্রশংসা করা।

রাগের মুহূর্তে অন্যদের কিছু কাজ আমাদের আরও রাগিয়ে দেয়। সে সময়ে মনে রাখতে হবে, রাগ যেহেতু স্বাভাবিক অনুভূতি তাই একজন মানুষ হিসেবে আমরা তো রাগ করবই। কিন্তু রাগ প্রকাশ করার আচরণ এর উপর আমাদের নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সুতরাং আমরা একটু সচেতন হলেই এই আচরণ ইতিবাচক ভাবে বদলে ফেলতে পারি।

এ ধরণের আরও লেখা পড়ুনঃ

অতি আবেগগ্রস্তদের স্থির রাখার সহজ ৪ টি উপায়

sensitiveঅতি আবেগগ্রস্ত মানুষগুলো কিছুটা এমন যে নিজের আনন্দ আর উচ্ছ্বাস নষ্ট করার সাথে সাথে আশেপাশের মানুষগুলোর আনন্দ উচ্ছ্বাসও স্পঞ্জের মতো শুষে নেয়। এরা নিজেরা দুঃখবিলাসিতায় জীবন অতিবাহিত করে আর নিজের আপনজন আর ভালোবাসার মানুষগুলোর জীবনও সেই দুঃখের জোয়ারে ভাসিয়ে তোলে।

অনেক সময় আমরা জেনে বুঝেও এই অতি আবেগ থেকে বের হয়ে আসতে পারি না। কিন্তু জীবন তো কারও জন্য থেমে থাকেনা। আর জীবনের প্রয়োজনে আমাদের আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হয়। কাজটা সহজ নয় তবে অসম্ভবও নয়। শুধু আপনাকে জানতে হবে কিছু কার্যকরী কৌশল।

এই আর্টিক্যালে সেইসব আবেগগ্রস্ত মানুষগুলো যাতে তাদের এই অতি আবেগ থেকে বের হয়ে আসতে পারে সে সম্পর্কে কিছু টিপস দেবো।

পর্যাপ্ত ঘুমান

অতি আবেগগ্রস্ত লোকের সাধারণ সমস্যা হল এরা আবেগকে এতো বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন যে ঘুম কিংবা বিশ্রাম নামক শব্দটা এরা সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করে। কিন্তু শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও ঘুমের কোন বিকল্প হয়না। তাই যদি আপনার অতি আবেগ প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে চান তাহলে রাতে পর্যাপ্ত ঘুমান। দেখবেন আপনাকে আবেগ প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে এই ঘুমই আপনাকে সাহায্য করবে।

পরিকল্পনা করুন

অতি আবেগগ্রস্থ মানুষের আরও একটি সাধারণ সমস্যা হল এরা কোন কিছুই ঠিকমতো করতে পারেনা। গুছিয়ে কোন কাজ করার জন্য সবার আগে যা দরকার তা হল সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে কাজের পরিকল্পনা তৈরি করা। তাই আপনি যদি চান যে আপনার এই অতি আবেগগ্রস্থ স্বভাব থেকে বের হয়ে আসবেন তাহলে কাজের পরিকল্পনা করতে শিখুন। তাড়াহুড়ো করে কোন কাজ করতে গেলে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে আর যার ফলে মানসিক স্থিরতা বা স্থৈর্য নষ্ট হয়। আর যদি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে করে কাজের জন্য এগোন তাহলে সফলতার সম্ভাবনা বেড়ে যাই আর মানসিক স্থিরতাও বজায় থাকবে।

ব্যায়াম করুন

অতি আবেগগ্রস্থ মানুষেরা নিজের মানসিক স্থিরতা ধরে রাখতে যোগ ব্যায়াম করতে পারেন আবার মেডিটেশনও করতে পারেন। মেডিটেশনের থেকে ভালো কিছু আর হয়না নিজের মনকে শান্ত স্থির করতে। তাই অতি আবেগগ্রস্ত মানুষ নিজের আবেগ দমিয়ে স্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে ছোট খাটো ব্যায়াম করতে পারেন।

নিজেকে সময় দিন

শুধু শুধু নিজের থেকে নিজেকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াবেন না। বরং নিজের মুখোমুখি হোন। নিজের সাথে সময় কাটান। আপনি যদি নিজেকেই না বুঝতে পারেন তাহলে আবেগ জয় করবেন কি করে? নিজের আবেগ জয় করে স্থিরতা আনতে নিজের সাথে সময় কাটানো ভীষণ জরুরী। একবার নিজের সাথে সময় কাটানোর অভ্যাস করে দেখুন দেখবেন অতি আবেগ আর আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে না।

অতি আবেগগ্রস্ততা থেকে বের হয়ে আসতে কোনটা আপনার নিজের আর কোনটা আপনার নয় এটা ভালো করে চিনতে শিখুন। অন্যর জিনিসের প্রতি অধিকারবোধ ফলাতে যাওয়া আবেগগ্রস্থ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তাই যদি আবেগ সরিয়ে মানসিক স্থিরতা চান তাহলে নিজের আর পরের জিনিস সম্পর্কে জানতে শেখা দরকারি।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

সম্পর্ক ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বেরিয়ে আসুন অতিরিক্ত রাগ করার প্রবণতা থেকে

angerআচ্ছা, কখনো কি এরকম হয়েছে যে, রাস্তায় ট্র্যাফিক জ্যাম এর কারণে আপনার সারাদিনই প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ছিল? কোন বন্ধু কথা না শুনলে বা না বুঝলে তাকে ইচ্ছামত বকাঝকা করে ফেলেছেন? কিংবা প্রয়োজনের সময় কারো মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলে প্রচণ্ড রাগে নিজের চুল নিজেই টানতে ইচ্ছা করেছে? উত্তরগুলো যদি হ্যাঁ হয়, তবে ঠিক ই ধরেছেন, লিখাটি আপনারই জন্য। আজ লিখছি “রাগ নিয়ন্ত্রন” সম্পর্কে।

“Anger management বা রাগ ব্যবস্থাপনা “কথাটির অর্থ হল, রাগ কে নেতিবাচক কিংবা ক্ষতিকারক ভাবে প্রকাশ না করে ইতিবাচক ভাবে প্রকাশ করা, যাতে নিজের ভেতর কোন অস্বস্তিকর অনুভুতিও না থাকে, আবার ব্যাপারটি শারীরিক, মানসিক, অথবা সামাজিক দিক থেকেও ক্ষতিকারক না হয়।

রাগ খুবই স্বাভাবিক আর স্বাস্থ্যকর একটি আবেগ, যেটা আমি আপনি ছাড়াও প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আছে। শুধু তফাতটা হলো, আমরা কেউ রাগটাকে খুব সুন্দর করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, কেউ হয়তবা এ ব্যাপারে অতটা দক্ষ নই। কিন্তু আমাদের ভেতর যে পরিমাণেই এই রাগ নামক আবেগটি থাকুক না কেন, এর ইতিবাচক প্রকাশ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নয়তো কখনো, কোন এক সময় হয়ত এই অনিয়ন্ত্রিত রাগই যেমন আমাদের স্বাস্থ্যর জন্য হানিকারক হয়ে দাঁড়ায়, সুস্থ পারিবারিক সম্পর্কও বিনষ্ট করে ।

তো, আপনি তৈরি আপনার রাগ কে নিয়ন্ত্রণ করতে? চলুন দেখে নেয়া যাক কয়েকটি পরামর্শ …

বলার আগেই চিন্তা করুন

কোন কথা রাগের বশে বলে ফেলার আগেই চিন্তা করে নিন, এর প্রভাব কি এবং কতদূর পর্যন্ত হতে পারে সে সম্পর্কে । মনে রাখবেন, একটা কথা কিন্তু সেকেন্ড এর মধ্যেই বলে ফেলা যায়, কিন্তু এর প্রভাব অনেক সময় এতই গভীর আর সুদূরপ্রসারী হয়, যে পরবর্তীতে তা ইতিবাচক ভাবে বুঝানো বা সমাধান করা খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। আপনি যা বলছেন, তার দায়ভার যেহেতু আপনাকেই বহন করতে হবে, তো সেটা আগে থেকেই ভেবে নেয়া ভাল না?

আগে শান্ত হোন, তারপর প্রকাশ করুন আপনার রাগ

যেকোনো অবস্থায় আপনি যখন রেগে যাচ্ছেন, তখন আপনার স্বাভাবিকভাবেই সেই রাগের প্রতিক্রিয়া কিন্তু আপনার মধ্যে থেকে যায়, আপনার মস্তিস্কে নিঃসৃত অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোন এটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কিছু সময় পর আপনা আপনিই অ্যাড্রেনালিনের পরিমাণ কমে গেলে, যথারীতি রাগের পরিমাণও কমে যায়। তাই প্রচণ্ড রাগের মুহূর্তে কিছুটা যদি সময় দিন নিজেকে, তাহলে রাগের প্রকাশটা হয়ত ততটা ক্ষতিকারক হবে না, যেটা সম্পর্কের সুস্থতার পক্ষে ভাল।

অন্যকে দোষারোপ না করে নিজের সমালোচনা করুন

যখনই কারও উপর রেগে যাবেন, সেই মুহূর্তে সে কি করলে বা বললে ভাল হত সেটা চিন্তা করলে রাগ আরও বাড়বে । বরং ভেবে দেখুন, সেই সময় “আপনি ” কি করলে বা কি বললে পরিস্থিতি এরকম হতোনা। তারপর ইতিবাচক দিক থেকে ব্যাপারটি সমাধান করার চেষ্টা করুন, আর যদি তা পেরে যান, একটি বিশাল ধন্যবাদ দিন নিজেকে, কারণ যা করলেন, তা সবাই করতে পারেনা ।

করতে পারেন ব্রেথিং এক্সারসাইজ

খুব রাগের সময়টাতে, নিজেকে সংযত রাখতে সেখান থেকে চটজলদি সরে যান। এটাকে বলে “টাইম আউট”। লম্বা করে শ্বাস নিন, মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে নিশ্বাস ছাড়ুন। কয়েকবার এরকম প্র্যাকটিস করুন। দেখবেন, রাগ অনেকটাই কমে গেছে।

যুক্তি দিয়ে বিচার করে, পরিণতিটা ভেবে দেখুন

কেন রেগে গেলেন, তার পিছনের কারণ গুলো চিন্তা করুন, ভেবে দেখুন বিষয়টা সত্যিই এতটা রাগ করার মত কিনা। আর যদি বা একবার রেগেই গেলেন, ভেবে দেখুন এই রাগ টা কিভাবে প্রকাশ করলে আপনার পক্ষে এবং যার বা যে সিচুয়েশন এর উপর রেগে আছেন সেটির পক্ষে মঙ্গলজনক হবে। আমরা যেকোনো কাজে যদি একবার পরিণতিটা চিন্তা করি, অনেকাংশেই কিন্তু আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তাইনা?

আপনার অন্যান্য আবেগের মত, রাগটাও আপনার একটি মৌলিক আবেগ। সেই আবেগ কে ইতিবাচক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করাটা তো আপনার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তাইনা? শুভ হোক আপনার প্রচেষ্টা। good luck.

আরো পড়ুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

ঘরোয়াভাবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

control-blood-pressureউচ্চ রক্তচাপ (high blood pressure) একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য হানিকর রোগের নাম। এটি ফলে মানুষ স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হয়। তাই সুস্থ থাকতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। আসুন জেনে নেওয়া যাক যে যে উপায়ে আমরা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আপনার করনীয়ঃ

  • লেবু (Lemon)লেবু আপনার রক্ত স্বচ্ছ রাখে ও উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদানগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন লেবুর শরবত পান করার ফলে লেবুতে উপস্থিত ভিটামিন সি আপনার রক্তের উচ্চ চাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্ট অ্যাটাক থেকে আপনাকে রক্ষা করে। তাই উচ্চ রক্তচাপ এড়াতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে গরম পানির সাথে একগ্লাস লেবু শরবৎ পান করুন। ভালো ফলাফলের জন্য এতে লবণ বা চিনি যোগ করা থেকে বিরত থাকুন।
  • তরমুজের বিচি (Watermelon seeds)তরমুজের বিচির প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কিডনির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে ও ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করে। তরমুজের বিচি পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি প্রতিদিন খালি পেটে খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • রসুন (Garlic)সমীক্ষায় দেখা গেছে রান্না করা রসুন আমাদের শরীরের কলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়। রসুনের রস ও ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ফোঁটা রসুনের রস পানি দিয়ে সেবন করায় উচ্চ রক্তচাপ আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাছাড়া আপনি হাতে চটকে রসুন খেতে পারেন, আর যদি এই পদ্ধতিতে রসুন খেতে সমস্যা হয় তাহলে এক কাপ দুধের সাথে গ্রহণ করুন।
  • কলা (Banana)আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা কলা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। কলা সোডিয়ামের একটি উচ্চ উৎস যা রক্তের মাত্রা বজায় রাখে ও উচ্চ রক্তচাপ সহনশীল মাত্রায় রাখতে সাহায্য করে। তাই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীরা প্রতিদিন একটি কি দুটি কলা খেতে চেষ্টা করুন।
  • নারিকেল পানি (Coconut water)উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদের শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত অ্যাট গ্লাস পানি পান করা জরুরী আর সব থেকে ভালো হয় যদি তারা দিনে অন্তত একগ্লাস নারিকেলের পানি পান করেন। নারিকেলের পানির পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • গোল মরিচ (cayenne pepper)উচ্চ রক্তচাপে ভোগা মানুষগুলো তাদের খাবার ফল, স্যুপ ও সালাদে একটু একটু করে গোল মরিচ মিশিয়ে খেতে চেষ্টা করুন। এটি উচ্চ রক্তচাপ উত্তমরূপে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

শুধু মাত্র গাদাগাদা ওষুধ আপনাকে সুস্থ রাখবে এমনটা না ভেবে কিভাবে নিজের রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সেই চেষ্টা করুন। কথায় আছে প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ উত্তম।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

ব্লগে নেতিবাচক মন্তব্য যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন – ৫টি পরামর্শ

negativeব্লগে অনেকসময়ই কিছু পাঠক নেতিবাচক মন্তব্য করেন (negative blog comments), স্প্যামিং (spamming) করেন। এধরনের মন্তব্যের জন্য সঠিক ব্যবস্থা না নিলে আপনার ব্লগের প্রতি অন্য পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। তাই জেনে নিন ব্লগের নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ন্ত্রণ করার ৫ টি পরামর্শ।

১. এড়িয়ে যান (ignore them):

নেতিবাচক মন্তব্যগুলো (negative comments) ) এড়িয়ে গিয়ে অন্যান্য মন্তব্যের উত্তর দিন। এতে করে যিনি নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তিনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এছাড়া এতে আপনার সময় ও শ্রম বাঁচবে।

২. যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব উত্তর দিন (response quickly):

নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ন্ত্রণের অন্যতম পদ্ধতি হল যতটা দ্রুত সম্ভব তার উত্তর দেয়া। কারণ আপনার অন্যান্য পাঠকও সেই মন্তব্যটি পড়েছেন এবং আপনার উত্তরের অপেক্ষা করছেন। দ্রুত উত্তর দিলে পাঠক বুঝবেন আপনি ব্লগ (blog) এবং তার পাঠকের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন, এতে আপনার প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।

৩. নেতিবাচক মন্তব্য ডিলিট করুন এবং মন্তব্যকারীকে ইমেইল করুন (delete negative comments):

যদি বুঝতে পারেন কোন পাঠক গঠনমূলক সমালোচনা করতে চাইছে, কিন্তু তার মন্তব্য আপনার ব্লগের জন্য ক্ষতিকর তবে তা ডিলিট করে দিন। এবং সেই পাঠকের সাথে ইমেইল বা টেলিফোনে যোগাযোগ করুন। তার মতামত নেতিবাচক ( negative comments) হলেও হয়তো তা আপনার ব্লগের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

৪. প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবেন না (don’t apologize on public):

আপনার ব্লগ যদি অর্থ উপার্জনের ( earn money by blogging) উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে তবে কখনোই কোন নেতিবাচক মন্তব্যের উত্তরে ক্ষমা চাইবেন না। আপনার যদি ভুল হয়েও থাকে তবে নেতিবাচক মন্তব্যের ( negative comments) উত্তরে “আমি বুঝতে পেরেছি”, বা “আমি আপনার সাথে এ ব্যাপারে আরও আলোচনা করতে আগ্রহী” এধরনের বাক্য লিখুন। প্রকাশে দোষ স্বীকার করলে খুব স্বাভাবিকভাবেই বেশ কিছু নিয়মিত পাঠক হারাবেন আপনি।

৫. মন্তব্যের অপশনই বন্ধ করে দিন (disable comments section):

যদিও এটি খুব সাহসী পদক্ষেপ নয়, তবে অতিরিক্ত নেতিবাচক কমেন্ট বা স্প্যামিং হতে থাকলে মন্তব্যের অপশন বন্ধ করে রাখুন। কিছুদিন পর যখন পাঠক আপনার ব্লগের মূল বক্তব্য বুঝতে পারবে তখন মন্তব্যের অপশন আবার উন্মুক্ত করে দিতে পারেন।

ব্লগ নিয়ে পরামর্শ.কম এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

নারীরা যেভাবে রাগ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারেন

ANGERরাগ মানুষের একটি স্বাভাবিক অনুভূতি। রাগ কম-বেশি সবারই আছে। তবে বেশীরভাগ সময়ই রাগ হয় অন্যের কোন কথা বা কাজের জন্য। আর এই মন খারাপের বিষয়টা সত্যি বলতে ছেলেদের চেয়ে আমাদের মেয়েদের একটু বেশিই হয়। কখনও কখনও হঠাৎ করে এই রাগ এমনই বেড়ে যায় যে তা আমরা বুঝে উঠার আগেই বাজে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে যায়। এই রাগের কারণে হয়তো সুন্দর সম্পর্কগুলো অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। রাগ খুবই স্বাভাবিক একটি অনুভূতি। তবে রাগ মানুষের চিন্তা শক্তিকে ব্যহত করে।

  • রেগে গেলে আমরা যা খুশি তাই বলে ফেলি। মাথায় যা আসে তাই করে ফেলি। কিন্তু এর কারণে পরে অসুবিধায় পড়তে হয় এবং নিজের ভিতর একধরণের খারাপ লাগা তৈরি হয়। তাই রেগে গেলে বেশি কথা বলা উচিত না চুপ করে থাকাই শ্রেয়।
  • রাগ উঠবে যখন বুঝতে পারবেন তখন প্রথমে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। কোন কথা না বলে চুপ করে থেকে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।
  • গভীরভাবে শ্বাস নিন। তারপর চুপ করে বসে ভাবুন রাগ উঠার কারণটা কি। রাগ না করার পিছনে যুক্তি বের করতে চেষ্টা করুন। আস্তে আস্তে রাগ কমে আসবে।
  • রাগ উঠলে একা একটি ঘরে গিয়ে হাই ভলিউমে গান শুনতে থাকুন। রাগ আস্তে আস্তে কমে যাবে।
  • রেগে যাওয়ার পর কথা যদি বলার প্রয়োজন হয় তাহলে আগে চিন্তা করুন কি বলবেন তারপর কথা বলুন।
  • কোন কোন ব্যপারে আপনার মেজাজ খারাপ হয় সে ব্যপারগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। তা নাহলে ব্যপারটিকে সহজ ভাবে সমাধান করার চেষ্টা করুন।
  • রাগ কমে গেলে তারপর সে ব্যপারটি নিয়ে কথা বলে সমাধান বের করার চেষ্টা করুন।
  • রাগ বেড়ে গেলে মজার কোন মুভি অথবা ভিডিও দেখতে পারেন।
  • যুক্তি দিয়ে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে রেগে গেলে শুধু নিজেরই ক্ষতি হবে, অন্যের কোন ক্ষতি হবে না। এতে আপনা আপনি রাগ কমে আসবে।

রাগ তো আমরা সকলেই ভালোবাসি। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে সেই রাগ যাতে খারাপ পরিস্থেতিতে না যায়। মনে রাখতে হবে “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন”।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।