সেবাদানকারীর যত্নে প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাব্য সমাধানঃ পর্ব-৩

আমরা আগের পর্বেই দেখেছি যে শুনতে যতটা সহজ লাগছে যে সেবা দানকারীর যত্ন কিন্তু কাজটি অত সহজ নয়। এখানে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে। কারণ আমরা জানি একটি পরিবারে নানা রকম মতের মানুষের বসবাস এবং দৃষ্টিভঙ্গিও এক এক জনের একেক রকম। আবার তথ্য জানা থাকার ব্যাপারেও কেউ একটু কম জানেন তো কেউ বেশি। তাই মতের অমিল তো হবেই।

আজকে আমরা খুঁজে দেখব একজন সেবা দানকারী ব্যক্তিকে যত্ন নিতে গিয়ে কি কি প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে এবং এর সম্ভাব্য সমাধান কি হতে পারে।

• যদি সেবা দানকারীর পরিবারে মতামত প্রকাশের জায়গা না থাকে- সেই ক্ষেত্রে তিনি চুপচাপ সেবা দিয়েই যান। তার নিজের জন্য তিনি কোন জায়গা দেখতে পান না এবং মনের দিক থেকে নিজেকে ছোট ভাবতে থাকেন। অনেকসময় হতাশাগ্রস্ত হয়ে অনেকেই মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। এসময় আমরা যারা আশেপাশে আছি তারা সচেতন হয়ে তাকে মতামত প্রকাশের জায়গা করে দিতে হবে। যখন তিনি মতামত দিবেন হতে পারে সেটি সর্বসম্মত নয়। তবু তার যে বলবার ও মত প্রকাশে অধিকার রয়েছে এই ভাবনাটিও তাকে মানসিক ভাবে এগিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

• সেবা দানকারী নিজেই যখন নিজের যত্নের ব্যাপারে উদাসীন- ব্যক্তি নিজেই যখন কোন রকম যত্নের প্রয়োজন নেই মনে করেন তখন এটি অনেক কঠিন হয়ে পরে যে তাহলে তার যত্ন নেয়ার পদ্ধতিটি কি হতে পারে। তখন আশেপাশের অন্যান্য সদস্যদের ধৈর্য সহকারে তার পাশে থাকতে হবে। এবং পুরো তথ্য সঠিক ভাবে তাকে জানাতে হবে যে কেন একজন সেবা দানকারীর সেবা প্রয়োজন। যখন পুরো সঠিক তথ্য তাকে দেয়া হবে তখন তিনি নিজেই কিছু কিছু করে যত্নের ব্যাপারে সচেতন হতে পারবেন।

• পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ যখন বাঁধা তৈরি করে- এমনটা ঘটতে পারে যে শ্বশুর-শাশুড়ি বা বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ সেবা দানকারী ব্যক্তিটির যে সেবার বা যত্নের প্রয়োজন সেটি মানতেই নারাজ। কিংবা তার জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ থাকলে এতে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিটি বিরক্ত হন। তখন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সামনে এনে পরিষ্কার করে নেয়া প্রয়োজন। পরিবারে কোন বিষয় না লুকিয়ে অপরের প্রতি সম্মান ও নিজ মনোবল বজায় রেখেই সেবা দানকারী ব্যক্তিটির প্রয়োজন ও চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। এবং আলোচনার মাধ্যমে তার যত্নের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে। কারণ যিনি বাঁধা তৈরি করছেন তিনি হয়ত একদৃষ্টিতে বিষয়টিকে দেখতে পারেন। তাই তার সাথে বিতণ্ডায় না জড়িয়ে অন্য দিক থেকেও যে এই ব্যাপারটি দেখা যায় সেটি বুঝতে ও দেখতে সহযোগিতা করতে হবে।

• সেবা দানকারী ব্যক্তির শারীরিক অক্ষমতা- অনেকসময় অতিরিক্ত কাজের চাপে তার শারীরিক ঘাটতি বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তখন তাৎক্ষণিক তার যত্নের জন্য মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে। এবং তিনি যেহেতু পরিবারে আরও অন্য কারো সেবা করছেন সুতরাং তাকেও নিয়মিত নিজের শরীরের চেকআপ করানো বা ওজন মাপা, খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর খাদ্য সংযোজন ইত্যাদি করতে সহযোগিতা করতে হবে।

• যখন সেবা প্রাপক ব্যক্তিটির সংক্রামক কোন ব্যাধি থাকে- এ সময় সেবা দানকারী ব্যক্তিটি সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা রাখা জরুরি হয়ে পরে। এসময় সেবা দানকারী ব্যক্তি অসুস্থতাকে গ্রহণ করে নেয়ার মানসিক প্রস্তুতি রেখে থাকে। তাই নিজের জন্য সেবা বা ঔষধ ব্যবহারে অনীহা দেখাতে পারে। এক্ষেত্রে পরিবারের অন্যান্য ব্যক্তি ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সহযোগিতায় তাকে সেবা গ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে। একই সাথে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, চিকিৎসকের প্রেসক্রাইব করা ঔষধ সেবন ও বাড়তি যত্ন নিতে হবে।
সেবা দানকারী ব্যক্তির যত্ন নিয়ে জাতীয় উন্নয়নে মানব সম্পদ রক্ষায় আমরা ভূমিকা রাখতে পারি।

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ুনঃ