কিভাবে শুরু করবেন গ্রাফিক ডিজাইনিং

graphic2

গ্রাফিক ডিজাইনিং একটি বিশাল ক্ষেত্র। পেশা বা শখ যেভাবেই এর চর্চা করুন না কেন , সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া এখানে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। লোগো ডিজাইন, পোস্টার-ব্যানার ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ইলাস্ট্রেশন, ইত্যাদি বিষয়ের সমষ্টি এই গ্রাফিক ডিজাইনিং।

তবে বিভিন্ন শাখা থাকলেও গ্রাফিক ডিজাইনিং এর থিওরি এবং ব্যাসিক বিষয়গুলো সবগুলো শাখার জন্য একই। সফল গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে নিজেকে দেখতে চাইলে অবশ্যই প্রথমে ডিজাইনিং এর প্রাথমিক বা ব্যাসিক দিকগুলো জানতে হবে। তাই আজকে আপনাদের জানাচ্ছি গ্রাফিক ডিজাইনিং এর ৬ টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা ডিজাইন এলিমেন্টস সম্পর্কে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান:
১. লাইন (Line)
২. শেইপ (Shape)
৩. কালার (Color)
৪. টেক্সচার (Texture)
৫. ভ্যালু এবং (Value)
৬. স্পেস (Space)

এবার আসুন জেনে নেয়া যাক এই এলিমেন্টসগুলো সম্পর্কে।

১. লাইনঃ

line

লাইন সম্পর্কে আমাদের সকলেরই ধারনা আছে। লাইনের উপস্থিতি ছাড়া আসলে কোন ডিজাইন কল্পনা করা যায় না। বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন সাইজের লাইনের মাধ্যমেই ডিজাইনে বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা হয়।
সঠিক স্থানে লাইনের ব্যবহারের উপর আপনার ডিজাইনের সফলতা নির্ভর করে। মোটা বা বোল্ড লাইন ব্যবহার করা হয় কোন লেখা বা ডিজাইনের অংশকে হাইলাইট করতে বা গুরুত্বপূর্ণ বোঝাতে। অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কোন কিছুকে হাইলাইট করা হয় থিন বা হালকা লাইন দিয়ে। ডিজাইনে একটি অংশের সাথে অন্য অংশের দূরত্ব, এলাইনমেন্ট এসব মাপার জন্যও ব্যবহার করা হয় লাইন। লাইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই আর্টিকেলটি পড়ুন।

২. শেইপঃ

shapes

গ্রাফিক ডিজাইনিং এর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শেইপ। আমরা যে আয়তক্ষেত্র, ত্রিভুজ, বৃত্ত, চতুর্ভুজ দেখি এগুলোই হলো শেইপ। এই শেইপ ছাড়াও আসলে ডিজাইন কল্পনা করা যায় না। যে কোন ডিজাইনে অন্তত একবার হলেও শেইপের ব্যবহার থাকবেই।
ডিজাইনের শেইপের ব্যবহার করা হয় কারণ এর আকার আমাদের আশেপাশের পরিচিত বস্তুর সাথে মিলে। বৃত্ত দিয়ে গতি বা নড়াচড়া বোঝানো হয়, আবার চতুর্ভুজ দিয়ে বোঝানো হয় স্থায়ী কিছুকে। শেইপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এই লেখাটি

৩. টেক্সচারঃ

texture

গ্রাফিক ডিজাইনে টেক্সচারের ব্যবহার নতুন হলেও অন্যান্য ডিজাইনে সুদীর্ঘ সময় ধরে টেক্সচার ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গ্রাফিক ডিজাইনে ঘন ঘন সলিড কালার ব্যবহার করার পরিবর্তে টেক্সচারের ব্যবহার একে খানিকটা ব্যতিক্রম ধর্মী করে তোলে। টেক্সচার ব্যবহারের মাধ্যেমে ডিজাইনে কাগজ, পাথর, ইট, কাপড় ইত্যাদি ফুটিয়ে তোলা যায়। টেক্সচার ব্যবহারের মূল সুবিধা হলো এগুলো যে কোন ডিজাইনেই ব্যবহার করা যায়, আর ডিজাইনের অন্যান্য উপাদানের সাথে মিল রেখে ব্যবহার করলে অসামঞ্জস্যপূর্ণও দেখায় না।

৪. কালারঃ

colors

কালার ডিজাইনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনি যদি সাদা এবং কালোর সমন্বয়ে কোন ডিজাইন করতে চান সেখানেও কালারের উপস্থিতি থাকবে। উপরে যেসব এলিমেন্টস সম্পর্কে বলা হয়েছে যেমন লাইন , শেইপ এগুলোকে বেশিরভাগ সময়ই প্রাকৃতিক বিষয়গুলোর রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কালার এমন একটি বিষয় যা রূপক নয়, বরং সরাসরি প্রাকৃতিক অর্থই প্রকাশ করে। কালারের সাথে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন ইমোশন। যেমন লাল রঙ প্রকাশ করে উত্তেজনা, নীল শান্তি এবং সবুজ প্রতিনিধিত্ব করে প্রকৃতির। সকল রঙ্গেরই কোন না কোন অর্থ রয়েছে। আবার অবস্থা ভেদে একই রঙের রয়েছে একাধিক অর্থ। এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন এই আর্টিকেলটি থেকে।

৫. ভ্যালুঃ

ভ্যালুকে আলাদা একটি এলিমেন্ট হিসেবে দেখানো হলেও আসলে এটি কালারেরই একটা অংশ। সহজ ভাষায় যদি বলি, কালারের গাঢ় বা হালকা অবস্থাকেই বলা হয় ভ্যালু। ভ্যালুর উপর নির্ভর করে মুড এবং ডিজাইনের অর্থ। একই রঙ হালকা অবস্থায় প্রকাশ করে এক রকম অর্থ আবার গাঢ় অবস্থায় অন্য রকম অর্থ। মানুষের মনেও এটি ভিন্ন প্রভাব ফেলে।

৬. স্পেসঃ

space

ডিজাইনের সর্ব শেষ এবং অন্যতম উপাদান হল স্পেস বা খালি জায়গা। একে হোয়াইট স্পেস, নেগেটিভ স্পেস বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য একটি। ডিজাইনকে অর্থবহ এবং দৃষ্টিনন্দন করে তোলা। আপনার চোখের সামনে থাকা কোন ডিজাইন বা বইয়ের পাতাকে এর আশেপাশের খালি জায়গা ছাড়া কল্পনা করে দেখুন। দেখবেন কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তাই গ্রাফিক ডিজাইনিং এ দক্ষতা অর্জনের অন্যতম শর্ত হল কোথায় কিভাবে স্পেস ব্যবহার করতে হবে তা জানা। স্পেস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এই আর্টিকেলটি