সেবাদানকারী ব্যক্তির নিজের সেবায় করণীয়ঃ পর্ব-৫

responsibilities of care givers

কথায় আছে ’যিনি রাঁধেন তিনি চুলও বাঁধেন’। অর্থাৎ যিনি আরেকজনকে খাওয়াবেন তাকে নিজের যত্ন নিতেও জানতে হবে। তাই আজকে সেবা দানকারী ব্যক্তি নিজের যত্নে কি করবেন সেটি নিয়ে বলব। সেবা দানকারী ব্যক্তির দায়িত্ব ও কর্তব্য পর্বে দেখেছি যে তাকে কাজ এর ব্যবস্থাপনা জানতে হবে। তাকে নিজের যত্নের জন্য তাকে আলাদা সময় রাখতে হবে।

১. প্রতিদিন নিজেকে অনুপ্রেরনা যোগায় এমন কিছু ইতিবাচক আত্ম-সমালোচনা করুন। আমাদের করণীয় ভাল কাজগুলো স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের অনেক উৎসাহ দেয় যেন আরও ভাল কিছু আমরা করতে পারি। আর আমাদের করণীয় অপ্রত্যাশিত মন খারাপ করা আচরণগুলো আমাদের কষ্ট দেয়। যেহেতু যিনি সেবা দান করবেন তাকে সুস্থ মানসিক শক্তি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে তাই তাকে নিজের আচরণের ইতিবাচক দিকগুলোই ভাবতে হবে। আমরা নিশ্চয়ই জানি ইতিবাচক চিন্তা আমাদের জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করে এবং অপরদিকে নিজ আচরণ নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা আমাদের দুর্বল করে দেয়।

২. ঘুম থেকে উঠেই যখন কাজে নামতে হবে তখন খানিকটা সময় হাতে নিয়ে উঠুন যেন নিজের ব্যক্তিগত যত্নের কাজগুলো আগেই সেরে নিতে পারেন। নাস্তা তৈরি বা রোগীর পথ্য দেয়ার আগেই নিজে কিছু খেয়ে নিন। যেন কাজে স্বতঃস্ফূর্ত থাকতে পারেন।

৩. বয়স্ক মা-খালা বা নানী-দাদীরা অনেক সময়ই গুল বা সাদাপাতা বা পান খেয়ে থাকেন। এই সব তামাকজাত দ্রব্য বর্জন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ এই দ্রব্যগুলো আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে কোন ভূমিকা রাখে না। এসবরে পরিবর্তে লেবুর শরবত, গুড়ের শরবত, আচার, বড়ই বা কামরাঙ্গা খান।

৪. মাঝেই মাঝেই গল্প করুন। রোগীর সাথেও মন খুলে গল্প করুন। তবে অবশ্যই রোগীর জন্য অস্বস্তিকর কোন পরিবেশ যেন তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৫. পরিবারে যখন কাজের বণ্টন করে দিবেন তখন যেন সবাই এ ব্যাপারে সহযোগী মনোভাব রাখতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। যখনই কারো মনে অসন্তোষ তৈরি হবে সেটি নিয়ে তার সাথে আলোচনা করুন। এতে করে নিজের উপরে মানসিক ক্লান্তি বা অতিরিক্ত দায়বদ্ধতার চাপ কমে আসবে।
রাতে ঘুমাতে যাবার পূর্বে কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। এটি আরামদায়ক ঘুমের জন্য অনেক উপকারী।

৬. সপ্তাহে বা মাসে যখনই মন চাইবে বাহিরে ঘুরে আসুন। অনেক সেবা দানকারী মনে করেন তিনি যদি বিনোদন করেন তাহলে রোগীর যত্নে অবহেলা হবে বা লোকে তাকে খারাপ ভাববে। কিন্তু যেহেতু আপনি রোগীর সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করছেন। তাই আপনার সুস্থতা অনেক বেশী জরুরী। আর বিনোদন সুস্থ থাকতে সহযোগিতা করে। আপনার নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস আর বিনোদন আপনাকে অনেক সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে।

আসুন পরিবারে ও অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে আমরা যারা সেবা দানকারী রয়েছি তারা যেন নিজের যত্নে যে কাজগুলো করা দরকার তা করতে সচেতন হই। ঝেড়ে ফেলি হীনমন্যতা ও অন্যে কি বলল এই সংকোচগুলোকে। নিজে সুস্থ থাকি ও পরিবারের সুস্থতার জন্য সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের শক্তি অর্জন করি।

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ুনঃ

জেনে নিন ইতিবাচক চিন্তা করার পদ্ধতি ও এর সুফল সম্পর্কে

The Secrets of Positive Thinking

ইতিবাচক চিন্তা এমন একটি মানসিক মনোভাব যার জন্য আমরা ভাল এবং সন্তোষজনক ফলাফল আশা করে থাকি । অন্যভাবে বলা যায় যে, ইতিবাচক চিন্তা হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা আমাদেরকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাথা ঠাণ্ডা রেখে চিন্তা করতে সহায়তা করে । সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে ইতিবাচক চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

Mayo clinic in Rochester এর ১টি গবেষণায় কিছু রোগীকে পারসোনালিটি টেস্ট করা হয় যেখানে তাদের optimism ( আশাবাদ ) and pessimism ( দুঃখবাদ ) পরিমাপ করা হয় । ৩০ বছর ধরে এই রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং গবেষণার ফলাফলে এটা পাওয়া গেছে যে, optimistic দের গড় আয়ু বেশী এবং pessimistic দের গড় আয়ু তুলনামূলক কম । গবেষকেরা এটা খুঁজে পেয়েছেন যে, optimism মানুষের immune system কে শক্তিশালী করে এবং সুস্থ জীবন যাপনে সহায়তা করে । যারা optimistic তারা নিজেদের সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা করে এবং নিজেদের যত্ন নেয় । কিন্তু pessimistic রা অযথা নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা করে যা তঁদেরকে অসুস্থ করে ফেলে এবং তারা উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতায় ভুগে থাকে ।

অনেক গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে, যখন কেউ ইতিবাচক চিন্তা করতে থাকে তখন সে নিজেকে অনেক বেশী সুখী ভাবতে পারে এবং সে অনেক কিছুই অর্জন করতে পারে সহজেই । আসুন জেনে নেওয়া যাক যে আমরা কিভাবে ইতিবাচক চিন্তা করতে পারি ।

১. সময় নিনঃ

যখন আপনার সাথে খারাপ কিছু ঘটবে, সেই সময়টা অতিবাহিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন । নিজেকে সময় দিন। এটা আপনার ভেতরে ইতিবাচক চিন্তা তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এটা আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । সময় ক্ষত সারাতে সহায়তা করে এবং এটা আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে ।

২. ইতিবাচক মানুষের সাথে মিশুনঃ

এমন কিছু মানুষের সাথে মিশুন যারা আপনাকে আশা দেখায়, গঠনমূলক কাজ এবং আলোচনায় সাহস যোগায় । এমন মানুষের সঙ্গ পরিত্যাগ করুন যারা প্রতিনিয়ত আপনাকে আশাহত করে এবং আপনাকে নেতিবাচক চিন্তা করতে উৎসাহিত করে।

৩. অন্যদের সাহায্য করুনঃ

আপনার সাধ্যমত অন্যদের সাহায্য করুন । অন্যদের সাহায্য করলে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় যা আপনাকে আপনার জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক হতে সাহায্য করবে ।

৪. আপনার যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুনঃ

আপনার যা কিছু আছে প্রতিদিন ৫টি করে সেগুলোর নাম লিখুন এবং সেজন্য সন্তুষ্ট থাকুন কারণ আপনার যা আছে অনেকেরই তা নেই । আর যদিও বা থেকে থাকে তবে তাও চিন্তা করে দেখুন যে আপনার দুঃখিত হবারও কোন কারণ নেই যেহেতু অন্যদের যা আছে আপনারও তাই আছে । এটি আপনাকে ইতিবাচক হতে সাহায্য করবে । Joseph Campbell এর মতে,“Find a place inside where there’s joy, and the joy will burn out the pain. অর্থাৎ এমন কিছু খুঁজে বের করুন আপনার প্রতিদিনের জীবন যাপন থেকে যা আপনাকে সুখের অনুভূতি দিবে এবং আপনার কষ্টগুলোকে দূরে রাখবে ।

৫. ইতিবাচক উক্তি পড়ুনঃ

প্রতিদিন কিছু ইতিবাচক উক্তি পড়ুন । ইতিবাচক উক্তি পড়লে আশা জাগে,নিজের ভেতরের ভয় দূর হয়। আবার ইতিবাচক উক্তি আমাদের বিষণ্ণতাকেও দূর করে । নিচে কিছু ইতিবাচক উক্তি দেয়া হল উদাহরণস্বরূপঃ

“Work hard for what you want because it won’t come to you without a fight . You have to be strong and courageous and know that you can do anything you put your mind to. If somebody puts you down or criticizes you, just keep on believing in yourself and turn it into something positive.” (Leah LaBelle ).

“Take chances, make mistakes. That’s how you grow. Pain nourishes your courage. You have to fail in order to practice being brave.” – (Mary Tyler Moore)

“Hope is a waking dream.” – (Aristotle)

“Today is a new beginning, a chance to turn your failures into achievements & your sorrows into so goods. No room for excuses.” – (Joel Brown)

“If you think you can do a thing or think you can’t do a thing, you’re right.” –( Henry Ford )

“No matter what the situation, remind you “I have a choice.” – (Deepak Chopra)

“We are all here for some special reason. Stop being a prisoner of your past. Become the architect of your future.” – (Robin Sharma)

৬. নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুনঃ

কোন এটা ভুল হলে আমরা নিজেদের অনেক দোষারোপ করি । নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনা । এতে করে আমাদের মধ্যে নেতিবাচক চিন্তা আরও দৃঢ় হয় । সবার আগে নিজেকে নিজে ক্ষমা করা শিখতে হবে। যখন আমরা নিজেকে ক্ষমা করতে পারব তখন আমরা অন্যদের সম্পর্কেও ইতিবাচক হতে পারব । আমরা যদি নিজেরা নিজেদের ভুলের জন্য নিজেকে ক্ষমা করতে না পারি তাহলে অন্যদেরও ভুলের জন্য ক্ষমা করতে পারবনা । যদি এটা ভাবা যায় যে ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে তাহলে নিজেকে ক্ষমা করাটা সহজ হয় ।

এ সম্পর্কে John Wooden বলেছেন, “If you’re not making mistakes, then you’re not doing anything. I’m positive that a doer makes mistakes.”
অর্থাৎ,তুমি যদি ভুল না কর তবে তুমি কোন কাজই করোনা । আমি মনে করি কর্মঠ লোকেরাই ভুল করে । কোন কাজ করতে গেলে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ আমরা কেউই সম্পূর্ণ নিখুঁত নই, তাই এ কথাটা মেনে নিলে ক্ষমা করাটা সহজ হয় ।

৭. খুঁজে দেখুন ভুলটা হচ্ছে কোথায়ঃ

ইতিবাচক চিন্তা করার অর্থ এই নয় যে, আপনি আপনার ভুলগুলো এড়িয়ে যাবেন,ভুলগুলো শোধরানোর চেষ্টা করবেন না । বরং ইতিবাচক চিন্তা করার অর্থ হচ্ছে বর্তমানে যে সমস্যা হচ্ছে তা বোঝার জন্য সময় নেয়া, কোথায় এবং কেন ভুলগুলো হচ্ছে তা খুঁজে বের করা যেন ভবিষ্যতে সফলভাবে এসব সমস্যা এড়ানো যায় । তাই কোন নেতিবাচক বিষয় ঘটতে থাকলে তার পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধান করার চেষ্টা করুন আর যদি সমাধান করার কোন পথ খুঁজে না পাওয়া যায় তবে হতাশ না হয়ে সেই সময়টা কেটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন দুঃসময়য়ের পর সুসময় আসবেই ।
“You’re going to go through tough times – that’s life. But I say, ‘Nothing happens to you, it happens for you.’ See the positive in negative events.” ( Joel Osteen ).

৮. ব্যর্থতাকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুনঃ

কথিত আছে, failure is the pillar of success . আসলেই কিন্তু তাই । মাঝে মাঝে আমাদের জীবনের সব চেয়ে নেতিবাচক ব্যর্থতাগুলো আমাদেরকে বড় বড় সাফল্য অর্জনের পথ তৈরি করে দেয়। যেমনঃ যখন আপনি আপনার চাকরি হারাবেন তখন সুযোগ তৈরি হয় নিজের কোন ব্যবসা শুরু করার যা থেকে আপনি অনেক বেশী লাভবান হতে পারবেন অথবা আরও সম্মানজনক কোন কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন । ভেবে দেখুন আপনার জীবনেও এমন কিছু ব্যর্থতা আছে যার কারণে আপনি পরবর্তীতে আরও বড় কিছু সাফল্য হয়ত পেয়েছেন যা আপনি হয়ত কখনই ভাবেননি ।

সুতরাং ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে সেই ব্যর্থতার পেছনের সাফল্য আসার জন্য অপেক্ষা করুন । এ সম্পর্কে Marla Gibbs বলেছেন,
“I truly believe that everything that we do and everyone that we meet is put in our path for a purpose. There are no accidents; we’re all teachers – if we’re willing to pay attention to the lessons we learn, trust our positive instincts and not be afraid to take risks or wait for some miracle to come knocking at our door.”

সুতরাং ইতিবাচক চিন্তা করুন,ইতিবাচক কাজ করুন এবং অন্যদের প্রতিও ইতিবাচক হন তাহলে আপনিও ইতিবাচক ফল পাবেন । আর গবেষণায় প্রমাণিত যে, ইতিবাচক চিন্তার মানুষ অনেকদিন বেঁচে থাকে,অনেক রোগ থেকে মুক্তি পায় । শুধু ইতিবাচক চিন্তা করলেই যদি এত উপকার পাওয়া যায় তাহলে ইতিবাচক চিন্তা করাটাই তো বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক ।

এ ধরণের আরও লেখা পড়ুনঃ

এড়িয়ে চলুন ৫ নেতিবাচক চিন্তা, যা অন্যদের সাথে আপনার দূরত্ব সৃষ্টি করে

Negative-Thoughts-that-Push-People-Away-from-You2-compressorস্বাভাবিকভাবেই কোন কিছু সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা আমাদের মনকে যেমন প্রফুল্ল রাখে একইভাবে জীবন যাপনও বেশখানিকটা সহজ আর সাবলীল করে দেয়। ঠিক একইভাবে নেতিবাচক চিন্তা আপনার মনকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তুলবে  একই ভাবে আপনাকে করবে অবসাদগ্রস্ত।

কোন কাজে আপনি সফল হতে পারবেন না। নেতিবাচক চিন্তা পরাজয়ের আগেই আমাদের পরাজয়ের স্বাদ পাইয়ে দেয়। এমন কিছু নেতিবাচক চিন্তা আছে যেগুলোর জন্য অন্যরা আমাদের থেকে দূরে সরে যায় বা আমরা নিজেদের সহজ ও স্বাভাবিকভাবে আর দশটা মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারিনা।

আসুন দেখে নেই এমন কিছু নেতিবাচক চিন্তা যেগুলোর কারণে অন্যরা আমাদের থেকে দূরে সরে যায়।

সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া

একসঙ্গে যখন অনেকগুলো মানুষ আড্ডা কিংবা কোন গল্পে মেতে উঠে তখন এমন অনেক রকম কথাবার্তাই সেখানে আলোচনা হতে পারে যেগুলো হয়তো আপনার সাথে মিলে যায়। আর এই ক্ষেত্রে আপনি যদি ভেবে বসেন এই আলোচনা বা সমালোচনা যেটাই হচ্ছে তার সবটা আসলে আপনাকে শুনিয়ে করা হচ্ছে তাহলে এটি হবে আপনার সবচেয়ে বড় নেতিবাচক চিন্তা। আর আপনার এই চিন্তাধারার কারণে অন্যরা আপনার সঙ্গ ত্যাগ করতে বাধ্য হবে। তাই সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার অভ্যাস বা চিন্তা আপনি নিজেই ত্যাগ করুন।

অন্যকে বদলানোর চেষ্টা

মনে রাখবেন সবার একটি নিজস্ব সত্ত্বা থাকে, একটি নিজস্ব দুনিয়া থাকে। আর কাউকে আপনি ততক্ষণ অবধি বদলাতে পারবেন না যতক্ষণ না সে নিজে থেকে নিজেকে বদলায়। আমাদের একটি খুব বাজে অভ্যাস বা চিন্তা হল নিজের অধিকার অন্যর উপর খাটিয়ে তাকে আমূল বদলে দেওয়ার একটি নিষ্ফল চেষ্টা করা। যার ফলাফল দাঁড়ায়, হতাশা আর অবসাদ। আপনার এই অযাচিত অধিকার বোধ থেকে জন্ম নেওয়া অন্যকে বদলানোর চেষ্টা আপনার হওয়া অন্যতম নেতিবাচক চিন্তা। যার ফলে অন্যরা নিজেকে আপনার থেকে দূরে সরিয়ে নেবে।

নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা

আমাদের করা নেতিবাচক চিন্তাধারার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু মারাত্মক চিন্তা হলো অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করা। আপনি যদি কথায় কথায় নিজেকে আর দশটা মানুষের সাথে তুলনা করতে থাকেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই অন্যরা আপনার প্রতি বিরক্তিবোধ করবে চাইবে আপনাকে এড়িয়ে চলতে। সহজ করে বলতে গেলে বলতে হয় আপনি যা তা সহজেই অন্যরা জানতে পারে তাই কখনোই নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করার কোন বাড়তি দরকার পড়েনা। তাই নিজেকে যদি অন্য সবার সাথে মিলেমিশে রাখতে চান তাহলে অন্যর সাথে নিজের তুলনা করা অভ্যাস বাদ দিন।

অন্যের দোষ ধরা

যখন কেউ আপনার কাছে তার সম্পর্কে বা তার সাথে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে তখন আপনার উচিৎ আগ্রহ নিয়ে তার কথা শোনা বা বোঝার চেষ্টা করা। কিন্তু আপনি এসবে ধারে কাছে না গিয়ে যদি উল্টো করে তার দোষ ধরাতে নিজেকে বেশী ব্যস্ত করে ফেলেন তাহলে অন্যরা আপনাকে সব সময় এড়িয়ে চলতেই চেষ্টা করবে। তাই আপনি যদি চান অন্য সবার মতো আপনার চারপাশটা বন্ধু আর প্রিয় মানুষে ভোরে থাক তাহলে অন্যর দোষ ধরার মতো খারাপ বা নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন।

নিজেকে অপরাধী ভাবা

আপনার সাথে যাই ঘটুক না কেন সব সময় যদি নিজেকে সেই ঘটনার জন্য দায়ী ভাবতে থাকেন একসময় অন্যরা আপনার উপর আপনাআপনি বিরক্তবোধ করতে শুরু করবে। শুধু তাই নয় নিজেকে যেকোন কিছুর জন্য দায়ীভাবা একটি মানসিক রোগ ও বলা যায়। তাই আপনার করণীয় হবে শুধু শুধু নিজেকে কোন ব্যাপারের জন্য দায়ী ভাবা চিন্তাধারা থেকে বের হয়ে আসা।

ভালো খারাপ মিলিয়ে আমাদের জীবন। ভালোটাকে যেমন আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নিতে শিখি একইভাবে খারাপটাও মেনে নেওয়ার মানসিকতা আমাদের তৈরি করা উচিৎ। তবেই হয়তো এইসব নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা আমাদের মধ্যে কোনরূপ খারাপ প্রভাব ফেলতে পারবেনা।

আরো পড়ুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

দুঃখময় অতীতকে ভুলে জীবনে স্বাগত জানান ইতিবাচকতাকে

When You Start To Let Go Of The Past, These Things Will Happenঅতীত আঁকড়ে পড়ে থাকা বা অতীতের সাথে নিত্য বসবাস করা ভীষণ ক্ষতিকর অভ্যাসগুলোর একটি। জীবনে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটতেই পারে তার জন্য সেই ঘটনার গ্লানি আপনি কেন শুধু শুধু আজীবন নিজের সাথে বয়ে নিয়ে বেড়াবেন। অতীত ভুলে বর্তমান ও আগামীর দিনগুলো সুন্দর করে সাজানোর স্বাধীনতা সবার আছে। তাহলে কেন আমরা অতীতকে পেছনে ফেলে আগে বাড়বোনা?

একটা কথা ভুললে চলবে না, অতীতের আত্মগ্লানি যেমন আমাদের মানসিক দিকের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ঠিক একইভাবে অতীতকে উপেক্ষা করতে পারলে তা আমাদের জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এই লেখার মাধ্যমে দেখতে পারবেন অতীত ভুলে গেলে যে যে ইতিবাচক ঘটনাগুলো আপনার সাথে ঘটবে।

আপনি কম উদ্বেগবোধ করবেন (you’ll feel less anxiety)

অতীতের যে প্রভাব আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি পড়ে সেটি হল আপনি যেকোন ব্যাপারে অতি উদ্বেগবোধ করতে থাকেন। আর ঠিক সেকারণেই আপনি যখন অতীত ভুলে যেতে থাকবেন আপনার সাথে ঘটে যাওয়া সব থেকে ইতিবাচক দিকটি হবে আপনি সব বিষয়ে কম উদ্বেগ অনুভব করবেন। আপনার জীবন যাপন অনেক বেশি সহজ আর সতেজ হয়ে উঠবে। আপনি নিজেকে খুব হালকা মনে করতে পারবেন।

আপনি যেকোন সিদ্ধান্ত সহজে নিতে পারবেন (you’ll make decisions more easily)

যখনই আপনি নিজেকে অতীতের বন্ধন থেকে মুক্ত করতে যাবেন আপনার সাথে আরও একটি ইতিবাচক ঘটনা ঘটবে, আপনি আপনার জীবনের যেকোন সিদ্ধান্ত অতীতের পরোয়া না করে আপনার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এর জন্য চিন্তা করে নিতে পারবেন। যেখানে অতীতের পিছুটান আপনাকে ক্লান্ত আর পরিশ্রান্ত করবে সেখানে অতীত ভুলে গেলে আপনি নিজেকে আরও বেশি প্রাণবন্ত অনুভব করবেন।

আপনি আপনার ভবিষ্যৎ এর উপর মনোযোগ দিতে পারবেন(you can focus on the future)

এটা সত্যি যে অতীত নিয়ে সামান্য চিন্তা ভাবনা দোষের কিছু নয়। কিন্তু আপনি যদি আপনার জীবনের সমস্ত কিছু অতীত দিয়ে বিচার করতে যান তাহলে সেটা শুধু দোষেরই নয় বরং আপনার ভবিষ্যতের জন্য হানিকারক। তাই যখনই আপনি আপনার অতীত ভুলতে যাবেন আপনি আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আরও বেশি মনোযোগ স্থাপন করতে পারবেন।

আপনি আরও ক্ষমাশীল হতে পারবেন (you’ll be more forgiving)

সেই মানুষই ক্ষমাশীল মানসিকতার হতে পারে যে অতীত ভুলে বর্তমানকে আঁকড়ে ধরতে পারে। কারও প্রতি অতীতের রাগ, ঘৃণা বা অভিমান পুষে রাখা মোটেও ভালো কথা না। তাই আপনি যদি অতীত ভুলে যেতে থাকেন তাহলে আপনা আপনি ই আপনার মনে মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল মানসিকতার সৃষ্টি হবে।

আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে (your health will improve)

যখনই আপনি মানসিক অবসাদ, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে যাবেন আপনার শরীরে আপনাআপনি এমন সব হরমোনের জন্ম হবে যা আপনার শরীরের উপর খারাপ প্রভাব ফেলবে। আর অতীত এমন একটি জিনিস যা আপনার সব রকম মানসিক সুখ শান্তি কেড়ে নেয়। তাই আপনি অতীত ভুলতে চাইলে আপনার স্বাস্থ্যর উন্নতি হবেই। এক্ষেত্রে একটা কথায় বলা যায় তা হল অতীত ভুললে যদি আপনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও সবল থাকতে পারেন তাহলে কেন অতীত আঁকড়ে পরে থাকবেন।

যারা অতীত আঁকড়ে বাঁচতে চায় তারা জীবনে চলার পথে বার বার ঠোকর খায়, আর এর কারণ সরূপ এরা হয় ভাগ্যকে দায়ী করে আর নতুবা অন্যদের দোষারোপ করে। সেকারণেই আমাদের সুন্দর ও সাবলীল জীবন রচনা করতে অতীত অতীতেই ফেলে এসে আগে চলতে হবে। কারণ জীবনের আরেক নাম গতিময়তা, স্থবিরতা নয়।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

বাবা-মার কাছ থেকে সমালোচনাকে নিন ইতিবাচকভাবে

How to Deal with Criticism from your Parentsবাবা মার কাছ থেকে সমালোচনা (criticism) শোনা সহজ কাজ নয়। মাঝে মাঝে বাবা মা সন্তানের কল্যাণ কামনা করতে গিয়ে অতিমাত্রায় সমালোচনা করে বসেন, আর তাদের এই সমালোচনা সন্তানদের বিরক্তির কারণ হিসেবে দেখা দেয়।

বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েরা অতিমাত্রায় বিদ্রোহী মনোভাবের হয়ে থাকে যার দরুন বাবা মায়ের সমালোচনার বিপরীতে তারা ভুলভাল জবাব বা কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাই বাবা মায়ের সমালোচনা মোকাবেলা করার উপায় নিয়ে আমাদের জ্ঞান থাকা বেশ দরকারি।

তাদের সাথে কথা বলুন (talk to them)

মুখ বুজে মাথা নিচু করে বসে না থেকে বড় করে একটা শ্বাস নিন, বাবা মায়ের সাথে কথা বলুন। তাদের বোঝান যে তাদের সমালোচনা আপনাকে কতোটা আঘাত করছে, তবে মনে রাখবেন কোনভাবেই রাগ অথবা খারাপ কথা বলা যাবেনা, যাতে পরবর্তীতে তারা আপনার কোন কথা শুনতেই প্রস্তুত না থাকে।

বুঝতে চেষ্টা করুন তারা কি বলতে চাচ্ছে (realize what they are trying to say)

মনে রাখবেন যদিও আপনার বাবা মা আপনার সমালোচনা করছে তথাপি তারা কিন্তু এটা চাচ্ছে যাতে আপনার জীবন যাপন আরো সহজ আরো সাবলীল হয়ে উঠে। তাই তাদের সাথে যুক্তিতর্ক না করে বোঝার চেষ্টা করুন আসলে তারা কি বলতে বা বোঝাতে চাচ্ছে, আপনার এই বুঝতে চাওয়ার মানসিকতা তাদের মনে আপনাকে নিয়ে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেবে।

তারা যেমন তাদের সেভাবে গ্রহণ করুন (accept them for who they are)

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় সন্তানের ভালো খারাপের ধার না ধরেই বাবা মা এক তরফা ভাবে তাদের মতামত চাপিয়ে দিতে বা প্রকাশ করতে বেশী পছন্দ করছে। সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় হবে তারা যেমন তাদের সেভাবেই গ্রহণ করে নেওয়া। দেখবেন একটা সময় তাদের কঠিন সমালোচনাও আপনাকে স্পর্শ করতে পারছে না।

নিজেকে জানুন (know who you are)

যেখানে আপনার পাশে অতিমাত্রায় সমালোচনা প্রিয় বাবা মায়ের আনাগোনা সেখানে আপনি সেসব সমালোচনা মোকাবেলা করতে নিজেকে জানুন, নিজের ভেতরের ইতিবাচক গুনগুলো সম্পর্কে নিজে সচেতন হন আর এটা মাথায় ভালো করে বসিয়ে নিন যে বাবা মা সন্তানের মঙ্গল ছাড়া অমঙ্গল কখনো কামনা করতে পারেনা। দেখবেন তাদের নেতিবাচক সমালোচনা আপনাকে আর কষ্ট দিতে পারবেনা।

সমালোচনা (criticism) কখনো আপনার ক্ষতির জন্য হয়না, আর সেটা যখন আপনার বাবা মায়ের তরফ থেকে আসে তখন শতভাগ নিশ্চিত থাকুন তারা আপনাকে ভালো পথে পরিচালিত করতে চেষ্টা করছেন মাত্র, তাই তাদের কথা শুনুন বুঝুন আর নিজেকে সে অনুযায়ী পরিচালিত করতে চেষ্টা করুন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

অন্যের সমালোচনা ইতিবাচকভাবে মোকাবেলা করুন (৬ টি পরামর্শ)

Handle Criticism Positivelyযেকোন কাজ করতে গেলে আপনাকে সমালোচনা (criticism) মুখোমুখি হতে হবেই। সমালোচনার জবাবে আমাদের অনেকেরই প্রথম প্রতিক্রিয়া থাকে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায়। সাধারণত সমালোচনা বলতে আমাদের নেতিবাচকদিকগুলোর আলোচনাকেই বোঝায়, তাই অন্যের কাছ থেকে পাওয়া সমালোচনা খুব সহজেই ইতিবাচকভাবে নিতে শেখাটা (handle criticism positively) খুব দরকারি একটা ব্যাপার। আসুন দেখা যাক কিভাবে আমরা সহজেই অন্যের সমালোচনা ইতিবাচকভাবে নিতে পারি।

  • যখন কেউ আপনাকে নিয়ে সমালোচনা করে তখন সেটাকে  এড়িয়ে যাওয়া খুব কষ্টকর একটা কাজ। তবে বুদ্ধিমান হিসেবে আপনার করণীয় হবে যার তার সমালোচনা গায়ে না মেখে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া, কেননা কেউ আপনাকে কিছু একটা বলল বা কোন কিছুতে আপনার উপস্থিতির কথা ব্যাখ্যা করলো এর মানে এই নয় যে আপনি সত্যিকার অর্থেই সে সব বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়ে গেলেন।
  • নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করুন। যখন আপনি নিজে জানেন যে আপনি কি বা কে, তখন অবশ্যই অন্যের বলা কোন শব্দ বা বাক্য আপনাকে বিমর্ষ বা দু;খিত করে ফেলতে পারবেনা। মনে রাখুন যে সমালোচনা আমাদের জীবনের আরেকটি অংশ বিশেষের নাম। তাই যত বেশী এটি ইতিবাচকভাবে মেনে নিতে পারবেন জীবন যাপন তত সহজ হয়ে উঠবে।
  • অন্যের সমালোচনা ইতিবাচকভাবে নেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজেকে বোঝানো যে আপনার পক্ষে একসঙ্গে সবাইকে খুশী করা সম্ভব নয়। আপনার কাজ বা ব্যবহার দ্বারা একই সময়ে কেউ খুশী আর কেউ অখুশী হবে এটাই স্বাভাবিক। সবার প্রাপ্য সম্মান বজায় রেখে নিজের মনের আত্মতৃপ্তি অনুযায়ী কাজ করুন তাতে কারো সমালোচনা আপনার কিচ্ছু করতে পারবেনা।
  • নিন্দুক আপনার সবচেয়ে বড় উপকারী বন্ধু। তাই কারো নেতিবাচক সমালোচনা খুব দ্রুত নিজের মনের মধ্যে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করুন, সমালোচনার বিষয়বস্তু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিজেকে শুধরে নিন। আর সাথে সাথে সমালোচনাকারীর প্রতি মৃদু হেসে একটি ধন্যবাদ দিয়ে দিন।
  • আপনি সমালোচনা থেকে দুইভাবে শিক্ষা অর্জন করতে পারেন। যেমন ১) সমালোচনাকারীর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে নিজের ভুল ত্রুটি শুধরে নিতে পারেন। অথবা ২) সমালোচনাকারীর বক্তব্য গুরুত্বসহকারে মূল্যায়ণ না করে কোন রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না করেই তাকে এড়িয়ে চলে যেতে পারেন। তবে প্রথম পথটি বেছে নেওয়ায় যুক্তিযুক্ত, এতে আত্মশুদ্ধির একটা সুযোগ থাকে।
  • সমালোচনা সঙ্গে মোকাবেলা করা আপনার জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আমাদের জীবনে আগে বাড়ার জন্য গঠনমূলক সমালোচনার কোন তুলনা হয়না।

কিন্তু ভিত্তিহীন সমালোচনা কখনোই কাম্য হতে পারেনা, সেক্ষেত্রে প্রতিবাদ করুন তবে অবশ্যই নিজের সীমার মধ্যে থেকে। আর যতোটা পারেন নিজের নেতিবাচক দিকগুলো ইতিবাচক গুণে রূপান্তরিত করুন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।