দৃঢ় করুন আপনার পারিবারিক বন্ধনকে, অনুসরণ করুন এই পরামর্শগুলো

Strengthening-Family-Relationships

আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন দিন দিন আমাদের ব্যস্ততা বাড়ছে। জীবনের এই ব্যস্ততার সাথে সাথে আমরা একদিকে যেমন কর্মমুখর থাকছি অপর দিকে দূরে সরে যাচ্ছি আমাদের সম্পর্কগুলোর কাছ থেকে। পাশাপাশি একই পরিবারে বসবাস করেও আমরা অনুভূতি ভাগাভাগি করা থেকে বিরত থাকছি। যা একটি পরিবারের সব সদস্যদের মধ্যেই নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।

পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় না থাকার ফলে নতুন প্রজন্ম সরে যাচ্ছে নিজ সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ থেকে। এই দূরত্ব কমাতে সম্পর্কগুলোর যত্ন নিতে হবে। পরিবারের ছোট বড় সব সদস্যকে তার প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার কথা বলার মত পরিবেশ তৈরি করে দিন। সারাদিনে একটা সময় বেছে নিন যখন শুধুমাত্র একজন আরেকজনের মন থেকে আসা কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনব। হতে পারে অল্প সময় কিন্তু তবু মতামত ও অনুভূতি প্রকাশের জন্য জায়গা করে দিন।

  • পিতা-মাতা কোন রকম শর্ত ছাড়াই সন্তানের ভাল দিকগুলো নিয়ে কথা বলুন। উৎসাহ দিন। শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভাল ফল বা তার অর্জনগুলোকে নয়, মানুষ হিসেবে তার যে ভাল গুণাবলিগুলো রয়েছে সেগুলো খুঁজে বের করুন এবং প্রশংসা করুন।
  • স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে তার নিজের ভাল ও খারাপ লাগাগুলো বলুন। কোন শর্ত আরোপ না করে ভালবাসি বলুন। এই সময় পাওয়া না পাওয়া নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
  • পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের কাজের প্রশংসা করুন। কারণ তারা একটা সময় আপনার দেখাশুনার দায়িত্বে ছিলেন। তাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব সেভাবেই চেষ্টা করেছেন আপনাকে গড়ে তুলবার। এখন আপনি তাদের পাশে থেকে পুরনো সম্পর্কটাকেই নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসুন। বিশেষ দিনগুলোতে তাদের উপহার দিন।
  • পরিবারের প্রত্যেককে তার বিনোদনের যথাযথ ব্যবস্থা করে দিন। এক্ষেত্রে একেকজনের পছন্দ নাও মিলতে পারে। সাধ্যের বাহিরে কোন কিছু হলে সেটা আক্রমণাত্মক না হয়ে বন্ধু সুলভ পরিবেশ বজায় রেখে বলার চেষ্টা করুন।
  • একসাথে পরিবার সদস্যরা কোথাও বেড়াতে যেতে পারেন। তা সম্ভব না হলে মাসে একদিন বাড়িতেই পিকনিক করতে পারেন। সবাইকে সবার সাথে মিশতে দিন, কথা শেয়ার করতে দিন।

আমরা যখন বুঝব আমি নিজেই সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছি তখনই আবার জড়তা কাটিয়ে সেই সম্পর্ক যত্ন নিতে নিজ থেকে উদ্যোগী হতে হবে। কারো কথায় আঘাত পেয়ে মন খারাপ হলে আমরা আশা করে থাকি যে সেই ব্যক্তিটি তার ভুল বুঝবে এবং আমার মান ভাঙ্গাবে। কিন্তু এটা না করে যদি নিজে উদ্যোগ নিয়ে আমার খারাপ লাগার অনুভূতি ও কারণটা তাকে জানাই এতে আরও কার্যকর ভাবে সম্পর্কের উন্নতি হবে ।

মনে রাখবেন সম্পর্ক শুধুমাত্র পরিবারে নয় সমাজের বিভিন্ন স্তরে তৈরি হয়ে থাকে। সেই সম্পর্কগুলোকেও আপনার প্রধান্যতার বিবেচনায় যত্ন নিন। অফিসের কলিগ, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও সমাজের অন্য মানুষগুলোর প্রতিও আমাদের সম্পর্ক হতে পারে বন্ধু ভাবাপন্ন। এতে কারো অমঙ্গল তো নেই শুধুমাত্র আমাদের একটু সচেতন মানসিকতা প্রয়োজন।

এ ধরণের আরও লেখা পড়ুনঃ

Leave a Reply