ছোট-খাটো দুর্ঘটনায় যে জিনিসগুলো আপনার উপকারে আসবে

faidধরুন, তরকারি কাটার সময় অসাবধানতা বশতঃ আপনার হাত কেটে গেল। কি করবেন তখন? সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে দৌঁড়াবেন?

কিংবা, বাইরে বাসি ভাজা-পোড়া খাওয়ার জন্য আপনার পেটে গ্যাস জমলো; মাথা-ব্যথা কিংবা ডায়রিয়াও হতে পারে। কি করবেন তখন? হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাবেন?

অথবা ধরুন, আপনার বাসায় ফ্যানের কানেকশান নষ্ট হয়ে গেল, কলিং বেলের তারটি ইঁদুর কেটে দিল, সুইচ বোর্ডের ফিউজ জ্বলে গেল। কি করবেন তখন? কোন ইলেক্ট্রিসিয়ান ডেকে আনবেন?

ছোটখাট এসব সমস্যা চাইলে আপনি কোন এক্সপার্টের সাহায্য না নিয়ে নিজে নিজে সমাধান করে নিতে পারেন। এজন্য আপনার বাসায় সবসময় কিছু সহজলভ্য কিন্তু গুরত্বপূর্ণ জিনিস সংগ্রহ করে রাখুন।

১) ফাস্ট এইড বক্সঃ আপনার আশেপাশের ফার্মেসীতেই এই কিট বক্স পাবেন। যদি পুরো বক্স একসাথে না পান, তবে দরকারি জিনিসগুলো আলাদাভাবে কিনে রাখতে পারেন। ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ, ডেটল অথবা স্যাভলন, ব্যান্ডেজ বাঁধার কাপড়, তুলা ইত্যাদি আলাদা আলাদা ভাবে কিনে বাসায় রাখুন যাতে দরকারের সময় খোঁজা-খুঁজি করতে না হয়। কাটা-ছিড়ার মত দুর্ঘটনা কিন্তু যেকোন সময় ঘটতে পারে।

২) দরকারি মেডিসিনঃ সব ধরনের শারীরিক সমস্যার জন্য আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শের জন্য বসে থাকতে হবে না। কিছু সাধারণ চিকিৎসা আপনি নিজে নিজেই করতে পারেন। যেমন ধরুনঃ জ্বর-মাথা ব্যথার মত সমস্যার জন্য প্যারাসিটেমল গ্রুপের ওষুধ নিতে পারেন। পেটে গ্যাস জমার জন্য ওমিপ্লাজল গ্রুপ এবং পাতলা পায়খানা জনিত সমস্যার জন্য ফ্ল্যাজিল। আপনার যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে তবে প্যারাসিটেমল গ্রুপের ওষুধ খেলে পাশ্বপ্রতিক্রিয়া রোধের জন্য সাথে ওমিপ্লাজল গ্রুপের কোন ওষুধ খেতে পারেন। বাসায় নাফা, ফ্ল্যাজিল, লোসেকটিল কিংবা সেকলো, এন্টাসিড প্লাসের মত ওষুধগুলো সংগ্রহে রাখতে পারেন।

৩) ইঞ্জিনিয়ারিং টুলসঃ সুইচ পালটানো, মাল্টিপ্লাগ ঠিক করা, সকেট ঠিক করা, তার পালটানো, নতুন কোন সংযোগ দেয়া, ফিঊজ বদলানো ইত্যাদি ছোট খাটো কাজ কোন ইলেক্ট্রিসিয়ানের সাহায্য ছাড়াও আপনি নিজে নিজে করতে পারেন। এজন্য আপনার দরকার হবে টেস্টার, কাটিং প্লাস, স্ক্রু ড্রাইভার, প্লাস্টিক টেপের মত ছোটখাট কিছু টুলস। সংগ্রহে রাখুন এসব। তবে একটা জিনিস সবসময় মাথায় রাখবেন- বৈদ্যুতিক লাইনে যে কোন কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ডাবল চেক করে তারপর কাজে হাত দিবেন এবং কাজ করার সময় সবসময় পায়ে রাবারের জুতা পরে থাকবেন।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হলো দুর্ঘটনা ঘটতে না দেয়া। কিন্তু তারপরও কোনক্রমে দূর্ঘটনা ঘটে গেলে চেষ্টা করতে হবে যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বনিম্ন রাখা যায় এবং পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিলে এটা অসম্ভব কিছু নয়।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

Leave a Reply