আপনার সন্তানকে যেভাবে বাঁচাতে পারেন বিপথে যাওয়া থেকে

How To Save Your Child From Being Spoiledসোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মলাভের সৌভাগ্য হয় না সবার। প্রকৃতির আদি নীতির মধ্যে দিয়েই ধনী বা দরিদ্র পরিবারে জন্মলাভ করতে হয়। অনেক ঝড়ঝঞ্চার মধ্যে দিয়ে কিছুটা পথ পাড়ি দিয়ে আসলেও থমকে দাঁড়াতে হয় বাকি পথটুকু পাড়ি দেওয়ার জন্য। কিন্তু ভাগ্য ভাল থাকলে বাবা-মাই বাকি পথটুকু পাড়ি দেওয়ার সকল ব্যবস্থা করে যান।

বর্তমান সমাজের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী ভয়াল রূপধারী ভোক্তা। সেদিনের সেই ছোট্ট শিশু আজ তাদের চাওয়া পাওয়া সীমাহীন। কখনোই ভাবে না কোন উৎস থেকে তার পিতামাতা এত কিছুর যোগান দিচ্ছে। তাদের পৃথিবীকে তারা বন্ধু-বান্ধব এবং চারিদিকের রকমারি আলো দিয়ে পরিবেষ্টিত করে রেখেছে।

কিন্তু ব্যস্ততার জন্য পিতা-মাতা অগোচরে সহজেই মেনে নিচ্ছে সন্তানের অপকর্ম। আর অপকর্মের সৃষ্টি পিতা-মাতার কাছে সন্তানের আবদার থেকেই।

বর্তমান সমাজের তরুণ-তরুণীদের পিতামাতার কাছে আবদার (how does problem create?)

• টাকা দাও কলেজে যাব।
• কিছু টাকা দাও তো।
• বই কিনতে হবে। ফোনটা পুরাতন হয়ে গেছে। একটা নতুন ফোন কিনতে হবে।
• ক্লাসের কয়েকজন ফ্রেন্ড একসাথে ট্যুরে যাচ্ছি।
• গ্রুপ স্টাডিতে যাচ্ছি।
[মেয়েরা সাধারণত বাবার কাছে এবং ছেলেরা মায়ের কাছেই আবদার গুলো করে থাকে]

তরুণ-তরুণীদের আবদারের সম্ভাব্য খারাপ প্রভাব (probable negative effects)

• মাদক সেবনের জন্য খরচ করতে পারে।
• বখাটে হয়ে যেতে পারে।
• ফোন দিয়ে অন্যদের বিরক্ত করতে পারে।
• অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে।
পিতা-মাতার অগোচরে তরুণ-তরুনীরা প্রতিনিয়ত এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে। প্রত্যেক পিতা-মাতার উচিত তাদের সন্তানের সবচেয়ে ভাল বন্ধু হওয়া, সন্তানের মনের খবর নেওয়া। কিন্তু শহর অঞ্চলে দেখা যায় মা-বাবা উভয় চাকুরী করে। সন্তানের খোজ খবর নেওয়ার কোন সময় নেই। তারা মনে করে সন্তানের নিত্য দিনের চাহিদা পূরণ করাই তো যথেষ্ট। গ্রামে মা-বাবা উভয় মূর্খ সন্তান যেটা বলে সেটাই সঠিক মনে করে। ফলে তাদের সন্তান কোন পথে হাটছে বুঝতে পারেনা। সন্তানকে সময় দেওয়া মা-বাবার একান্ত দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

সন্তানকে গাইড করার জন্য পিতা-মাতার করণীয়(what can parents do?)

• বাবা-মার যে কোন একজনকে চাকরি করতে হবে। একজনকে অবশ্যই সন্তানের পাশে পাশে থাকতে হবে গাইড করার জন্য।
• সপ্তাহে একবারের জন্য হলেও অভিভাবককে যেতে হবে তার সন্তান যে স্কুল/কলেজে পড়ে সেখানে খোজ খবর নিতে।
• বাবা বা মার যে কোন একজনকে অথবা উভয়কেই তার সন্তানের সবচেয়ে ভাল বন্ধু হতে হবে যেন একজন শাসন করলে অন্যজনের কাছ থেকে আদর পায়।
• পিতা-মাতা উভয়ই একসাথে শাসন করতে পারবেনা।
• সন্তান টাকা চাইলে তার বিস্তারিত জেনে টাকা দেওয়া উচিত।
• কোন কিছু কেনার জন্য টাকা চাইলে, সেটা কিনেছে কিনা তার খোজ নেওয়া।
• গ্রুপ স্টাডিতে যেতে চাইলে, কোন ফ্রেন্ডের বাসায় যাচ্ছে সে বন্ধুর অভিভাবকের সাথে কথা বলতে হবে।
• বন্ধু-বান্ধব মিলে ট্যুরে যেতে চাইলে খুব দরকার না হলে, না যেতে দেওয়ায় ভালো এজন্য মাসে একবার হলেও পরিবারসহ কোথাও বেড়াতে যাওয়া উচিত।
• সকল আবদার পূরণ যাবেনা। মাঝে মাঝে শর্ত দিতে হবে আবদার পূরণ করবেন এই বলে।
• পড়াশুনার চাপ কম থাকলে বা ফ্রি থাকলে ছোট খাট সাংসারিক কাজ করাতে হবে।
• পিতা-মাতা উভয়েরই যথেষ্ট সময় দিতে হবে সন্তানের।

পিতা-মাতা যদি সন্তানকে তাঁদের আর্দশে অনুপ্রাণিত না করে বর্তমান সমাজের বহমান আর্দশে সন্তান বড় হবে বলে মেনে নেন তাহলে অগোচরেই সন্তানের ক্ষতি কামনা করলেন।

মানুষ সমাজ (society) বিবর্জিত নয়। সমাজের সকল নিয়ম-কানুন এবং আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে মানুষকে পথ চলতে হয়। কিন্তু কেউ চলে খারাপ পথে কেউ ভাল পথে যার দুইটায় এই সমাজে বিদ্যমান। সন্তানকে খারাপ পথে ঠেলে দেবে এমন কিছু পিতা-মাতার কাছ থেকে কাম্য নয়। ভবিষ্যৎ সম্মুখীন সন্তানকে নিজের আর্দশে গড়ে তোলার জন্য সচেতন হোন। কথায় আছে “নিজের বুদ্ধিতে ফকির হওয়া ভাল”। সন্তানতো আপনারি, তাই নিজের সন্তানকে সময় দিন।

আরো পড়ূন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

Leave a Reply