ফেসবুকে ‘ফ্লার্ট’ করার বিপদগুলো জেনে নিন, যা হয়তো আপনি জানতেন না

happy-flirt-day-7ফ্লার্টিং শব্দটি সাম্প্রতিক হলেও, আদি যুগ থেকে ফ্লার্টিং প্রেমের একটি কৌশল হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু এই যুগে ফ্লার্টিং শব্দটার মানে জানেন না, বোধ করি এরকম কেউ নেই। তবে আমাদের দেশে ফ্লার্টিং শব্দটা অনলাইনে, বিশেষ করে ফেসবুকের জন্য ব্যবহার করা হলেও, অফলাইনেও ফ্লার্টিং হয়। অনেকে গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য চ্যাট করে বা ইনবক্সে মেসেজ দেয়। কিন্তু এখানে যা করবেন, সব গোপন থাকলেও বিপদ কম নয়। ফেসবুকে ফ্লার্টিং এর কি কি রিস্ক থাকতে পারে, সেগুলা নিয়ে কথা বলি। তবে আমি জানি এই আর্টিকেল পড়ার পর থেকে অনেকদিন আপনি ফ্লাটিং বন্ধ রাখবেন। অন্ততঃ ফ্লার্টিং করাকে একটু অন্যচোখে দেখবেন।

আপনার প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা আপনার হাতে নেই

অনেকে ভাবেন যে আপনি প্রাইভেটলি ফ্লার্টিং করছেন। অন্য কেউ টেরটি পাবে না। কিন্তু আপনি কখনও কি ভেবেছেন যে, আপনি যার সাথে ফ্লার্টিং করছেন তার কাছেও একই তথ্য আছে? আপনার সব কথা আপনার ফ্লার্টিং পার্টনারের কাছে রয়ে গেছে। আপনি নিজেও জানেন না আপনার পার্টনার তার যোগাযোগের গোপনীয়তা কিভাবে রক্ষা করে। কিছু কিছু পরিস্থিতি আছে, যাতে করে আপনার গোপনীয়তা অন্য কারো কাছে ফাঁস হয়ে যেতে পারে, যেমনঃ

  • আপনার সঙ্গী ব্যক্তিগত পিসি বা ল্যাপটপ ব্যবহার না করে, কোন পাব্লিক পিসি ব্যাবহার করতে পারে
  • আপনার সঙ্গী যদি অফিসের পিসি ব্যবহার করে থাকে, সেখানে তার অনলাইন এক্টিভিটি পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে
  • অনেকে ব্যক্তিগত মোবাইলের গোপনীয়তা খুব একটা বজায় রাখেন না
  • বাসার পিসিতে একসাথে অনেকে ঢুকতে পারে (যেমনঃ আপনার ফ্লার্টিং পার্টনারের বাবা, মা, ভাই, বোন)
  • নেট চলে গেলে লগআউট করা যায় না বলে অনেকে পিসি ছেড়ে উঠে যায়, কিন্তু পরে অন্য কেউ সেই একই পিসিতে বসতে পারে।

ফেসবুক প্রাইভেসির ক্ষেত্রে অনেকের ভালো ধারণা নেই

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মেয়েদের ফেসবুক প্রাইভেসির ব্যাপারে বেশি ধারণা থাকে না। তবে নানা ঝামেলায় জড়ানোর পর থেকেই ধীরে ধীরে মেয়েরা সাবধান হতে থাকে। কিন্তু, ভালো করে কারো অজ্ঞতার ব্যাপারে ধারণা না নিয়ে,  ভালো লাগার সাথে সাথে ফ্লার্টিং করা শুরু করে দিলে, আপনি হয়তো একটা মহা-বোকামি শুরু করে দিবেন।

  • অনেকে খুব দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে, যার জন্য অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা খুব সহজ হয়ে যায়
  • আপনার ফ্লার্টিং পার্টনারের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে, কেউ যদি ওর সব গোপন মেসেজগুলা ওর ওয়ালে দিয়ে দেয়, তখন আপনি নিজেও বিপদে পড়তে পারেন।
  • অনেকে দুর্বল লগইন অপশন রাখে, যেখানে সেখানে লগইন করে, ও ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখে। সেক্ষেত্রে, একই পিসি ব্যাবহার করে যে কেউ ঢুকে পড়তে পারে আপনার প্রোফাইলে। ।

অশ্লীল ফ্লার্টিং করে পার পেয়ে যাবেন? অতো সহজ না! 

কারো কারো কাছে ফেসবুক হচ্ছে বিপরীত লিঙ্গের কাউকে খুঁজে বের করার মোক্ষম জায়গা। এরকমটা যারা ভাবেন, তাদের জন্য বলছি, আপনাদের কপালে শনি আছে। কারণ-

  • আপনি যার সাথে অভদ্রোচিত ফ্লার্টিং করে আসলেন, সে আপনার ফ্রেন্ড লিস্ট দেখতে পাবে যদি আপনি তা ওপেন রাখেন
  • আপনি ফ্রেন্ডলিস্ট হাইড করলেও, আপনার পোস্টগুলোর লাইক থেকে আপনার ফ্রেন্ডদের খুঁজে বের করা যায়
  • আপনি তাকে ব্লক করে দিলেও, অন্য কোন ফ্রেন্ডকে দিয়ে এই লিস্ট সংগ্রহ করতে পারে
  • আপনি যদি আপনার প্রোফাইলে অফিসের নাম ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আপনার ব্যাপারে অভিযোগ করার আরও একটা জায়গা জানা আছে ওদের
  • আপনি যদি পরিবারের লোকদের যোগ করে থাকেন, তাহলে আরও বেশি অভিযোগ করার সুযোগ খোলা আছে
  • আপনার মেসেজ শুধু ফেসবুকে কাছে রিপোর্ট করা সহ অন্য বিশ্বস্ত কাউকে বা আপনাদের মিচুয়াল ফ্রেন্ডদেরকে মেসেজ পাঠানো যায়
  • আপনি যেসব অভদ্রোচিত ফ্লার্টিং করছেন, তা আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের সবাইকে জানানো কোন ব্যাপার না।

তাই, এই কাজ থেকে বিরত থাকুন। আর মেয়েদের বলছি, কেউ এরকম কাজ করে থাকলে, সাথে সাথে তার ফ্রেন্ডলিস্টের লোকজনদের রেকর্ড রাখুন, আর সুযোগ মতো ধরিয়ে দিন। শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া খুবই বোকামি হবে।

আপনাকে বোকা এবং ক্লাউন বানানো খুব সহজ

ফেসবুকের ব্যাপারে ভালো ধারণা থাকায়, অনেকের ধারনা আমি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারি। তাই অনেকে আসে নানা অদ্ভুত আবদার নিয়ে। এরকম একটা আবদারে, অন্য একটা ইনঅ্যাক্টিভ মেয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে (তার ও তার স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে) ৪-৫ জন মিলে খুব ভালো করে চ্যাট করে একটা ছেলেকে ডেটিং পর্যন্ত এনে, তার প্রেমিকাকে প্রমাণ দেখানো হয়েছে। এটা একটা উদাহরন মাত্র। কিন্তু, নানাভাবে এই কাজ অনেকেই করতে পারে।  এই ক্ষেত্রে খুব বিপদজনক ব্যাপার গুলো হলঃ

  • যার সাথে চ্যাট করছেন, তাকে ভালো করে চেনেন কিনা?
  • আপনি যার সাথে ফ্লার্টিং করছেন, তার উদ্দেশ্যের ব্যাপারে আপনি জানেন কি?
  • শুধু ফেসবুকেই যদি তার সাথে কথা হয়ে থাকে, আর তার কন্ঠ স্বর না শুনে থাকেন, আপনি ওর কি নিশ্চিত ওপাশে কোন ছেলে না মেয়ে, না একাধিক লোকজন?
  • আপনি কি বিয়ের জন্য পাত্র/পাত্রী দেখছেন? আপনার হবু স্বামী/স্ত্রীর কোন আত্মীয় এই কাজ করছে নাতো?
  • আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের কেউ দুষ্টামি করছে নাতো? আপনার পেট থেকে কথা বের করে আনার জন্য?
  • আপনার নতুন কোন প্রেমিক বা স্বামী আপনাকে পরীক্ষা করছে নাতো?

সর্বোপরি হতে পারেন তুলোধুনোর শিকার  

ফেসবুক সবাই একভাবে ব্যবহার করে না। আর কারো কারো ক্ষেত্রে এটা “সোশ্যাল মিডিয়া” এর চেয়ে অনেক বেশি “ওপেন মিডিয়া”। আপনি সেখানে ঢুকে ফ্লার্টিং করা শুরু করলে আসল লোকের কাছে ধরা খাবেন। আর ফলশ্রুতিতে খেতেও পারেন ভালো রকম হুমকি অথবা/এবং পেঁদানি। কারণ

  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেসব মেয়েদের প্রেমিক বা স্বামী আছে, তারা তাদের কাছে বিশ্বস্ত থাকার জন্য তাদের অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস তাদের দিয়ে থাকে
  • কোন কোন প্রেমিক বা স্বামী তাদের প্রেমিকা বা স্ত্রীর জন্য নিজে ইমেইল খুলে দিয়ে, সেটা থেকে ফেসবুক তৈরি করে দেয়। সেক্ষেত্রে, তাদের কাছে সেই ইমেইল অ্যাক্সেস থাকলে সব ইঙ্কামিং মেসেজ দেখতে পাবে
  • কিছু কিছু মেয়েরা প্রেমিক বা স্বামীর মোবাইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট ফোন-ভেরিফাই করে। সেক্ষেত্রে, আপনার ফ্লার্টিং পার্টনারের অ্যাকাউন্টেও হানা দিতে পারে তার প্রেমিক বা স্বামী।
  • তার প্রেমিক বা স্বামীকে মজা করেও করে হুমকি দিয়ে থাকলে, তিনি ওইটা ব্যবহার করে আপনার নামে জিডি করতে পারেন
  • ফ্লার্ট করার জন্য অনেকের তালাক হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে, তালাকের নথিপত্রে আপনার নাম লিপিবদ্ধ হয়ে যাবে
  • এছাড়া জড়াতে পারেন আরও অনেক আইনি জটিলতায়।

আর কোন বিপদের কথা যদি আপনার মনে আসে, দয়া করে নিচে কমেন্ট করুন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

3 Replies to “ফেসবুকে ‘ফ্লার্ট’ করার বিপদগুলো জেনে নিন, যা হয়তো আপনি জানতেন না”

  1. আপনার কথাও ঠিক 😉 তবে যেভাবে বিপদের কথা বলেছি, অপরিচিত কারো সাথে ফ্লার্টিং করা উচিৎ না। আবার যাকে ট্রাস্ট করেন, তাকেও সম্মানের সাথে কথা বললে বিপদের কোন সম্ভাবনা নেই। শুধু এটা না, আমি মেয়েদেরকেউ ফালতু ফ্লার্টি লোকজনদের কিভাবে শায়েস্তা করবে, তাও কিন্তু বলেছি।

  2. খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ লিখেছেন। তার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

Leave a Reply