সেবাদানকারী ব্যক্তির দায়িত্বঃ পর্ব-৪

????????????????????????????????????????

আমাদের অসুস্থতার সময়ে যে মানুষটি সবচাইতে বেশি পাশে থাকেন এবং সেবা করেন তিনি আমাদের খুব আপন একজন। আর তার যত্নের জন্য আমরা বেশকিছু নিয়ম জেনেছি আগের পর্বগুলোতে। সেবা দানকারী ব্যক্তির নিজের ও পরিবারের জন্য রয়েছে বিভিন্ন দায়িত্ব ও কর্তব্য। যিনি নিজে সেবা দান করবেন তিনি কাজ এর ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব সম্পর্কে জানলে দায়িত্ব সমূহ পালন করা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

  • পরিবারের এমন কোন ব্যক্তি যিনি অনেক কাজ করে থাকেন তিনি যদি হন সেবা দানকারী তাহলে তার কাজের চাপ থাকবে অনেক বেশী। কাজের দায়িত্ব সমূহের মধ্যে ঘরের অনেক কাজ যেমন বাজার-সদাই, রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখাশুনা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের যত্ন ইত্যাদি আরও অনেক কাজ। এর পাশাপাশি তিনিই যখন সেবা দানকারী তখন অতিরিক্ত আরও কাজ তাকে করতে হয়। সে ক্ষেত্রে নিজের পূর্ব পরিকল্পিত কিছু কাজের বণ্টন করে দেয়া যেতে পারে। যেমন বাজারের দায়িত্ব অন্য কোন সদস্য নিলো। এমনভাবে কাজের বণ্টন করলে একজনের উপর থেকে চাপ কিছুটা হলেও কমবে।
  • রোগীকে সেবা দান করার সময় ও খাদ্য সরবরাহের সূচি বা তালিকা মেনে চলা যেতে পারে। এতে করে রোগীর ঔষধ দেয়া বা যত্নে যেমন ঘাটতি পড়বে না তেমনি নির্দিষ্ট সময়ে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে।
  • পরিবারের সদস্যদের কাছে অতিরিক্ত কোন কাজের সহযোগিতা চাওয়া যেতে পারে। যেমন কোন বিশেষ ঔষধ কেনা প্রয়োজন কিংবা ডাক্তার দেখানো কাজ গুলো অন্য কেউ করতে পারে। তবে মনে রাখব নিজে করলে আরও ভাল ভাবে করব কিংবা মানুষ কি বলবে এই ভেবে সব কাজের দায়িত্ব নিজের মাথায় না নেয়াই যুক্তিযুক্ত। কিছু কাজ অন্যদের দিয়েও করিয়ে নেয়া যেতে পারে। এতে করে পরিবারের অন্য সদস্যরাও সেবার কাজে অংশ নিতে পারে এবং পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
  • রোগীর কিছু কাজ রোগীকে নিজে নিজে করতে অভ্যস্ত করা যতটুকু করা রোগীর পক্ষে সম্ভব। অনেকসময়ই আমরা খুব বেশি দায়িত্ব পালনের প্রবণতা থেকে রোগীকে কিছু করতে দিতে চাই না এটা রোগীকে হীনমন্যতায় ভুগাতে পারে। তাই তার করণীয় গুলো নিয়েও তার সাথে আলোচনা করা যেতে পারে এবং অবশ্যই তা করতে হবে অত্যন্ত যত্নসহকারে ও তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। নতুবা রোগী নিজেকে অবহেলিত ভাবতে পারে।
  • আমরা জানি বিভিন্ন উৎসবের সময়ে কাজের চাপ আরও বেড়ে যায় তাই আতঙ্কিত না হয়ে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। উৎসবের দিনগুলো রোগীর খাবার তালিকা কি হবে, কি কি কাজ করতে পারবে তার আগে থেকেই আলোচনার মাধ্যমে তালিকা তৈরি করা। এসময় পরিবারের সদস্যরাও সহযোগিতা করতে পারে।
  • পারিবারিক অর্থ বণ্টন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সময়ে আলাদা একটা বাজেট রাখা যেতে পারে যেন অতিরিক্ত ঔষধ বা সেবার খরচটা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হয়। অনেক পরিবারেই আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে অসুস্থ রোগীর চিকিৎসায় অনেক বেশী টাকা খরচ হয়ে যায়। তখন প্রয়োজনের টাকা যোগান দিতে হিমশিম থেতে হয়। তাই এটিও সেবা দানকারী ও পরিবারের সদস্যরা মিলে ঠিক করতে পারে।

আমাদের পরিবারের প্রত্যেকের সহযোগিতার মাধ্যমেই একজন অন্যজনের পাশে থাকতে পারি। সুস্থ শরীর এর পাশাপাশি সুস্থ পারিবারিক বন্ধন গড়তেও সেবা দানকারী ব্যক্তির দায়িত্ব বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ।

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ুনঃ

Leave a Reply