ডিভোর্সের সময় অনেকেই করে থাকেন যে ৩ টি মারাত্মক ভুল

648452-divorceএকটি ভালোবাসা আর বিশ্বাসহীন সম্পর্কের শেষ পরিণতি ডিভোর্স। একটি সম্পর্ক যখন ডিভোর্সের পর্যায়ে এসে দাড়ায় তখন সে সম্পর্কে ঘৃণা, রাগ, ক্রোধ আর অন্ধ ইগো এতবেশি পরিমাণে বেড়ে যাই যে মানুষ না চাইলেও এই সময়টাই অনেক ভুলভাল কাজ করে ফেলে। যার ফলে ডিভোর্স পরবর্তী জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

কিন্তু আমাদের উচিৎ জীবনের এতো বড় একটি সিদ্ধান্ত একটু সময় নিয়ে ভেবেচিন্তে নেওয়া। যাতে পরবর্তীতে আফসোসের কোন জায়গা না থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্যি আমরা এই সময়টাই হিতাহিত জ্ঞানশুন্য হয়ে ভুল কাজের দিকেই বেশী ঝুঁকে পড়ি।

তাই আসুন আজ দেখবো ডিভোর্সের সময় আমরা কোন ভুল কাজগুলো করে ফেলি যা বর্জন করাই শ্রেয়।

সন্তানকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অস্ত্রে রূপান্তর করা

হ্যাঁ একজন আরেকজনের সাথে বনিবনা না হলে ডিভোর্স হতেই পারে। কিন্তু আপনি যদি কোন সন্তানের বাবা বা মা হয়ে থাকেন তাহলে ডিভোর্স নিয়ে আরও একটু ভাবুন। ডিভোর্স করার সময় আমরা সাধারণত যে ভুলটি করে থাকি তা হল নিজের সন্তানকে প্রতিপক্ষের উপর আঘাত হানার অন্যতম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করি।

যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ে সন্তানের মনের উপর, যা কিনা পরবর্তীতে আপনার সন্তানের স্বাভাবিক জীবন যাপনের পথে চূড়ান্ত বাধা হয়ে দাড়ায়। তাই ডিভোর্স নিতে গেলে একটা কথা মনে রাখবেন আপনারা একে অন্যর থেকে আলাদা হচ্ছেন ঠিক কিন্তু এমন কোন কাজ করতে যাবেন না যার কারণে আপনার সন্তান নিজেকে আপনাদের দুইপক্ষের ডিভোর্স নামক যুদ্ধের অস্ত্র মনে না করে।

নিজের মতামতকেই মূল্যায়ন করা

একটি সম্পর্কে যখন টানাপড়েন শুরু হয় তখন সেই সম্পর্কের সব ভালো দিকগুলো ম্লান হয়ে খারাপ দিকগুলো আমাদের সামনে বড় হয়ে দেখা দেয়। তাই এই সময় অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ভুল সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটা বাধ্য হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমদের করণীয় হবে নিজের মতামতকেই শুধুমাত্র মূল্যায়ন না করে পরিবার, বন্ধু বান্ধব ও কাছের মানুষগুলোর মতামতকেও মূল্যায়নে রাখা।

এতে করে ভুল করার সম্ভাবনা কমে যায় অনেকখানি। মনে রাখবেন ডিভোর্স আপনার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, এখানে ভুল করলে ভুল শোধরানোর জায়গা থাকনা। আর সেজন্যই প্রতিটা সিদ্ধান্ত খুব সতর্কতার সাথে নেওয়া দরকার।

আবেগ বহির্ভূত আচরণ করা

আমরা মানুষরা কেউ আবেগ বহির্ভূত নয়। আবেগ অনুভূতি অস্বীকার করে চলা আমাদের কারও জন্য সম্ভব না। কিন্তু সম্পর্কের সবচেয়ে জটিল এই সময়টিতে আমরা নিজেদের সব আবেগ আর অনুভূতি বিসর্জন দিয়ে যান্ত্রিক হওয়ার এক অসম চেষ্টা চালিয়ে যাই। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে দেখা যায় আমরা আমাদের সিদ্ধান্তের বিপরীতে কেবল হাহুতাশ করতে থাকি আর নিজেদের ভাগ্যকে দোষারোপ করে যায়। তাই ডিভোর্স নেওয়ার সময় নিজের আবেগ অনুভূতি সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করবেন না। কেবল নিজের ইগো আর ক্রোধ কে মূল্যায়ন না করে নিজের মনের কথা শুনতে চেষ্টা করুন।

ডিভোর্স মানেই আপনার সম্পর্কের টানা পোড়েনের সমস্যার সমাধান নয়। তাই এই ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু সময় নিন।

আরো পড়ুন
ডিভোর্স দেবেন? সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবে দেখুন এই বিষয়গুলো
লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

Leave a Reply