কর্মক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা – জেনে নিন প্রয়োজনীয়তা ও কিভাবে হবেন সময়ানুবর্তি

How To Be Punctual In The Workplace২০১১ সালের একটি সমীক্ষাতে জানা যায়, ২০% আমেরিকান সপ্তাহের কোন একদিন কর্মক্ষেত্রে পৌঁছতে দেরি করে ফেলেন। আর আমাদের দেশের দিকে তাকালে এর বিপরীতটা চোখে পড়ে। বেশিরভাগ বাংলাদেশি সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই দেরি করে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছান। ঠিক সময়ে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছানোটা (punctuality is important) প্রমাণ করে আপনি কাজের প্রতি আন্তরিক, আগ্রহী এবং দায়িত্ব নিতে সক্ষম।

ঠিক সময়ে সবাই যখন কর্মক্ষেত্রে পৌঁছায় তখন উপস্থিত সবার মধ্যেই কাজ করার স্পৃহা বৃদ্ধি পায়। কর্মক্ষেত্রে কোন মিটিং এর জন্য সময় নির্ধারণ করা হলো সকাল ৯ টায়। আপনি যদি দেরিতে সেখানে পৌঁছান তবে স্বাভাবিক ভাবেই সকলের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হবে এবং আপনার প্রতি বিরক্ত হবে। কিন্তু সেই মিটিং এ যদি সবাই সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকে তাহলে মিটিং এর উদ্দেশ্য সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং সবাই কাজটিকে গুরুত্বের সাথে নেয়। এছাড়াও সময়ানুবর্তী সহকর্মীকে সবাই শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। কর্তৃপক্ষের সুনজরে থাকা যায় যা পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহায়ক।

সময়ানুবর্তী (punctual) হওয়াটা ব্যক্তিগত রুচির উপর নির্ভর করে। আপনি যদি এই ধারণা পোষণ করেন “একটু দেরিতে গেলে কিছু হবে না”। তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য নয়। কিন্তু যদি দেরি হয়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে নিজেকে শুধরে নিতে চান (punctual to work) তাহলে নিচের পয়েন্টগুলো আপনাকে সাহায্য করবেঃ

১. তৈরি হতে কতটা সময় লাগে তা বিশ্লেষণ করুন (analyze how much time you need):

অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হওয়ার সময়টুকু বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেরই ধারণা থাকে না তার তৈরি হতে কতটা সময় প্রয়োজন, যার ফলাফল দেরিতে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছানো। ঘুম থেকে উঠার পর গোসল, খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে অফিসে পৌঁছাতে কতটা সময় লাগে তা প্রথমে সঠিকভাবে হিসাব করে নিন। এর পর সেই সময়টুকু সাথে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট যোগ করুন।

২. কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার প্রস্তুতি (preparation):

যে পোশাক পরে কর্মক্ষেত্রে যাবেন তা আগের দিন রাতেই ঠিক করে রাখুন। শার্ট থেকে শুরু করে মোজা সবই নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন যাতে অফিসে যাওয়ার সময় তা খুঁজতে না হয়। অফিসে খাবার নিয়ে গেলে তা আগের দিন রাতে বা ভোরে লাঞ্চ বক্সে নিয়ে নিন। ভাংতি টাকার জন্য বিপদে পড়তে হয় প্রায়ই, তাই ভাল হয় মাসের শুরুতেই বেশ কিছু টাকা একসাথে ভাংতি করে বাসায় রেখে দিলে। এছাড়া ওয়ালেট, টাইপিন, হাতঘড়ি এসব খুঁজতে গিয়ে বেশ বড় একটা সময় নষ্ট হয়। এসব জিনিস একটি বাক্স বা ঝুড়িতে ঢুকিয়ে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায় এমন স্থানে রাখুন।

৩. ঘুম থেকে উঠুন সঠিক সময়ে (sleeping habits):

ঘুম থেকে উঠতে গিয়ে দেরি হয়ে যায় প্রায়ই। এক্ষেত্রে এলার্ম ঘড়ি বা মোবাইল এমন দূরত্বে রাখুন যাতে আপনাকে বিছানা থেকে উঠে তা বন্ধ করতে হয়ে। স্নুজ বাটনে ক্লিক করে আরেকটু ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন কারণ এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তবে নিশ্চিত করুন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা সময় আপনি ঘুমাতে পারছেন কি না। প্রয়োজনে রাতে একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন।

৪. যানবাহন এবং জ্যাম (traffic):

কর্মক্ষেত্রে দেরিতে পৌঁছানোর অজুহাত হিসেবে অনেকেই ট্রাফিক জ্যামের কথা বলেন। অনেকের ক্ষেত্রে তা মিথ্যা হলেও কারো কারো বেলায় সত্যি। বাস বা সিএনজি পেতে কতটা সময় লাগতে পারে, বাসা থেকে অফিসের দূরত্ব, জ্যামে পড়লে কতটা সময় লাগতে পারে তা অল্প কয়েকদিনেই বুঝে ফেলা যায়। এই সময়টুকুর সাথে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট যোগ করুন। কাঁটায় কাঁটায় সময় হাতে নিয়ে বের হলে দেখা যাবে প্রায়ই আপনাকে দেরিতে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে হচ্ছে (be punctual at work)

এ ধরণের আরও লেখা পড়ুনঃ

 

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

Leave a Reply