শীতে খাবারের তালিকায় রাখুন টমেটো

featuredimage1বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালেও টমেটো পাওয়া গেলে শীতকাল আর টমেটো এই দুয়ের চিরন্তন বন্ধুত্ব। কারণ টমেটো আমাদের দেশের অন্যতম একটি শীতকালীন সবজি। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে টমেটো একটি ফল হলেও, সবজি হিসেবেই সারা বিশ্বে টমেটো পরিচিত। সবজি এবং সালাদ হিসেবে ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ টমেটোর বেশ চাহিদা।

এ সবজিতে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি রয়েছে।টমেটোতে লাইকোপেন নামে বিশেষ উপাদান রয়েছে, যা ফুসফুস, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কোলন, স্তন, মূত্রাশয়, প্রোস্টেট ইত্যাদি অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

আসুন আজ আপনাদের বলবো যে কারণে প্রতিদিন আপনার খাবারের টেবিলে রাখবেন টমেটো।

এই শীতে নিয়মিত টমেটো খেলে আপনার ত্বক সুন্দর আর লাবণ্যময় থাকবে।  বিশেষ করে টমেটোই উপস্থিত বেটা ক্যারোটিন  উপাদান আমাদের ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি ও অন্যান্য ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করে। এমনকি টমেটো আমাদের ত্বকে বয়সের ছাপ ফেলতে দেয়না, ত্বকের বলিরেখা রোধ করে ত্বক তরুণ রাখে।

হাড় শক্ত রাখে

টমেটো আমাদের দেহের হাড় মজবুত করে। টমেটোর ভিটামিন কে ও ক্যালসিয়াম উপাদান হাড়ের স্থায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া টমেটোর লাইকোপিন উপাদান হাড়ের মজ্জার ঘনত্ব বাড়ায়। তাই আপনার দেহের হাড় শক্ত ও মজবুত রাখতে শীতের সুস্বাদু সবজিটি খাওয়া থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না।

ক্যান্সার প্রতিরোধক

এক কথায় টমেটো প্রাকৃতিক ক্যান্সার প্রতিরোধক। লাইকোপিন প্রাকৃতিকভাবে আমাদের শরীরের ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে এমন সেল নষ্ট করতে সাহায্য করে। শুধুমাত্র টমেটো খাওয়ার মাধ্যমে সার্ভিকাল, মুখ, গলবিল, গলা, খাদ্যনালী, পাকস্থলী, কোলন, রেকটাল, প্রস্টেট এবং ওভারিয়ান ক্যান্সার সহ বেশ কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারেন। শীতকালে সবচেয়ে সুস্বাদু আর টাটকা টমেটো পাওয়া যায়, তাই শীতের টমেটো কে একদমই না বলবেন না।

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ

আমাদের রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে টমেটোর কোন তুলনা হয়না। শীতের আশীর্বাদ হিসেবে আমরা যদি প্রাকৃতিকভাবে রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে ফেলতে চায় তাহলে অন্তত প্রতিদিন আপনার খাবারের তালিকায় টমেটো রাখুন, হতে পারে সেটা রান্না করা কিংবা সালাদ। টমেটো প্রচুর পরিমাণ ক্রোমিয়াম বহন করে যা সহজেই আমাদের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রনে রাখে।

দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে

টমেটো আমাদের দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখে। টমেটোর ভিটামিন এ উপাদান চোখের দৃষ্টি বাড়িয়ে তোলার সাথে সাথেই রাতকানা রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে। তাই শীতে বেশী বেশী করে টমেটো খান আর খুব সহজ উপায়ে চোখের যত্ন নিন।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

টমেটোর নায়াসিন, ফলেট এবং ভিটামিন বি৬ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি সপ্তাহে ৭-১০ কাপ টমেটো খেলে অনেকটা প্রতিরোধ করা যায় হৃদরোগ।আর পরিমিত তেল দিয়ে রান্না করা টমেটো খেলে উপকার বেশি পাওয়া যায়।থ্রম্বোসিসের পরিমাণও কমায় টমেটো।

স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য

শীতে ত্বকের সাথে সাথেই চুলও নিষ্প্রাণ আর মলিন হয়ে পড়ে। তবে এতে চিন্তার কিছু নেই। টমেটো আপনার চুল সুন্দর রাখতে সাহায্য করবে। কারণ টমেটোর ভিটামিন এ উপাদান চুল মজবুত আর উজ্জ্বল রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তাই যদি চুল নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগে থাকেন তাহলে টমেটো খেতে ভুলবেন না।

ওজন কমাতে

আপনার দেহের ওজন কমাতে টমেটোর জুড়ি নেই। আপনি যদি ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপায়ে নিজের দেহের বাড়তি ওজনটুকু কমিয়ে ফেলতে চান তাহলে দেরী না করে খাবার তালিকায় বেশী পরিমাণে টমেটোর পদ রাখতে চেষ্টা করুন। টমেটোর উচ্চপরিমাণ ফাইবার আর জলীয় উপাদান খুব সহজে আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রনে আনে।

আর দেরী কেন টমেটোর সাথে আজই আপনার সখ্যতা আরও একটু বাড়িয়ে তুলুন। আর লক্ষ্য রাখুন শীতের এই সময়টা যেন আপনার একদিনের খাবারও টমেটো ছাড়া সম্পূর্ণ না হয়।

আরো পড়ুন
যে ১৫ টি উপকারিতার জন্য খাবারের তালিকায় রাখবেন টমেটো
লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

Leave a Reply