বাচ্চার নাম রাখতে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

child nameবাচ্চার নাম রাখা অনেক আনন্দের এবং একইসাথে একটি কঠিন কাজ। কঠিন এই কারণে নাম রাখার সময় আপনাকে অনেক দিকে লক্ষ্য রাখতে হয়। আপনার দেয়া নামটিই আপনার সন্তান সারা জীবন বহন করবে। তাই নামটি ভাল হচ্ছে নাকি, এর অর্থ কেমন সবকিছু মিলিয়ে বাবা মা ভীষণ মধুর একটা চাপে থাকে। বাচ্চার নাম রাখার আগে হিমশিম খাওয়ার হাত থেকে রেহাই পেতে আমাদের লেখাটি আপনাকে সাহায্য করবে।

১) যেভাবে শুরু করবেনঃ
প্রথমে আপনার সঙ্গীর সাথে আলোচনা করে নিন। আপনারা স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে বেশ কিছু নাম ঠিক করে নিতে পারেন। পরিবারের অন্যদের সাহায্য নিতে পারেন। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বান্ধব এইসব ব্যাপারে ভালই সাহায্য করে।

২) নতুন নাম পেলে লিখে রাখুনঃ
আপনি যখন বাচ্চার নাম খুঁজবেন তখন প্রতিদিনই কিছু না কিছু পাবেন। হয়তো ইন্টারনেটে কিছু নাম পেলেন বা আপনার কোন বন্ধু মেসেজ দিয়ে জানালো। যখনই যে নাম পান না কেন তা অবশ্যই টুকে রাখুন। কেননা এত নামের ভিড়ে হয়তোবা ভাল কোন নাম হারিয়ে যেতে পারে। কোথাও নামগুলো টুকে রাখলে দিন শেষে নামগুলো পড়ে দেখতে পারবেন।

৩) শব্দ করে ডাকুনঃ
নিকনেম বা ডাকনাম বলতে আমরা বুঝি যে নামে সন্তানকে ডাকা হবে। এইরকম নাম ঠিক করার পর শব্দ করে, মানে চিৎকার করে ডেকে দেখুন। আপনার বাচ্চাকে কিন্তু পরে সবাই এভাবে চেঁচিয়েই ডাকবে। শব্দ করে ডাকার সময় নামটা শুনতে কেমন লাগছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

৪)সামঞ্জস্যতা রক্ষা করুনঃ
এই ধাপে আপনার বাচ্চার নামের প্রথম অংশ এবং শেষ অংশের মধ্যে সামঞ্জস্যতা রক্ষার জন্যে একটি দারুণ কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছি। নামের প্রথম অংশের শেষের অক্ষর বা ধ্বনি দিয়ে পরের অংশ শুরু হলে নামটি কিন্তু শুনতে খুব ভাল লাগে। যেমন সামিহা হায়দার, তানজিবা আফরিন। প্রথম নামে সামিহা এর “হা” থেকে পরবর্তীতে হায়দার শুরু। আবার পরের নামটিতে তানজিবা এর শেষে “আ” ধ্বনি থেকে আফরিন সৃষ্টি। এইভাবে নাম সাজিয়ে দেখতে পারেন।

৫) নামের অর্থঃ
সবসময়, সবখানে নাম রাখার সময় নামের অর্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। নামের অর্থ সুন্দর থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। চাকরির ইন্টার্ভিউ বোর্ড থেকে শুরু করে অনেকবারই আপনার সন্তানকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, ‘আপনার নামের অর্থ কি?’
তাই নাম রাখার সময় নামের অর্থ জানা থাকতে হবে। অনেকেই নাম রাখার সময় আরবি নাম পছন্দ করে। সেক্ষেত্রে আরবি নামের অর্থ কোন মৌলানা বা অভিজ্ঞ কারো থেকে জেনে নিতে হবে।

৬) আপনার পছন্দের সাথে থাকুনঃ
আপনি যে কাজটি করতে পছন্দ করেন সেই ধারাতে নামটি রাখতে পারেন। বুঝিয়ে বলছি। যেমন আপনি হয়তো সবুজ প্রকৃতি অনেক পছন্দ করেন এক্ষেত্রে নাম রাখতে পারেন অরণ্য। আবার অনেকে আকাশ পছন্দ করে ছেলের নাম রাখে নীল। জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হক তার মেয়ের নাম রেখেছেন ‘পদ্য।’ এই নামটি যে তার ছড়া কবিতার প্রতি ভালবাসার জায়গা থেকে রাখা তা বোঝায় যায়। সেইভাবে আপনার পছন্দের জায়গা থেকে আপনার বাচ্চার নিকনেম রাখতে পারেন।

৭) সাহায্য নিতে পারেন ইন্টারনেটের
বর্তমানে ইন্টারনেটে নামের বেশ কিছু ভাল সাইট রয়েছে। সে সাইটগুলোর সাহায্য নিতে পারেন। আমরা এখানে জনপ্রিয় কিছু সাইটের নাম দিলাম।
• babynology.com (http://www.babynology.com/)
• Names for muslims (http://www.names4muslims.com/muslim-names.php)
• Abohoman bangla (http://www.abohomanbangla.com/muslim/girl/r.html)

উপরের সব নিয়ম আপনাকে কড়াকড়ি ভাবে মানতে হবে এমন কিছু না। দিন শেষে আপনার সঙ্গী আর আপনি মিলে যে নামটি ঠিক করবেন সেটিই কিন্তু চূড়ান্ত। আপনারা স্বামী স্ত্রী মিলে আপনাদের ছোট্ট সোনামণির জন্যে সুন্দর মিষ্টি একটি নাম রেখে অবাক করে দিন সবাইকে।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

Leave a Reply