নিজেই দেখুন মানচিত্র, খুঁজে নিন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য

map-1অনেক সময় এমন হয়, আমরা কোথাও ভ্রমণে গিয়ে সঠিক রাস্তা খুঁজে পাই না। অথবা রাস্তায় চলতে চলতেই এমন কোন জায়গায় গিয়ে পড়ি, যেখান থেকে গন্তব্যে ফিরে আসতে যথেষ্ট প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়, যদি সঠিক রাস্তা জিজ্ঞেস করার মতো বিশ্বস্ত লোক খুঁজে পাওয়া না যায়। আপনাকে কারোর উপরই ভরসা করতে হবে না, যদি আপনি নিজেই আপনার সঠিক গন্তব্য চিনে নিতে পারেন। আর সেজন্য আপনাকে খুব বেশি কিছু করতে হবে না। শুধুমাত্র একটু কষ্ট করে মানচিত্র দেখাটা শিখে নিতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে দেখবেন মানচিত্র?

১ম ধাপ-সঠিক মানচিত্র চিহ্নিতকরণ

মানচিত্র হরেক রকমের হতে পারে-

• হাইওয়ের ড্রাইভারদের জন্য একরকম মানচিত্র
• ট্যুরিস্টদের জন্য একরকম মানচিত্র
• যারা পাহাড়ে অথবা দুর্গম কোন অঞ্চলে হাইকিং করেন, তাদের জন্য একরকম মানচিত্র
• পাইলটদের জন্য বিশেষ মানচিত্র
• অনলাইন মানচিত্র
আপনার সর্বপ্রথম কাজ হবে, আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মানচিত্রটি বেছে নেওয়া।

২য় ধাপ-মানচিত্রের সীমারেখা পর্যবেক্ষণ

map-2বেশিরভাগ মানচিত্রই উত্তর দিকে উর্ধ্বমুখী করে আঁকা থাকে। প্রায় সব মানচিত্রেই এটা উল্লেখ করা থাকে। যদি না থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে উত্তর- উর্ধ্বমুখী করেই এটি আঁকা হয়েছে।

৩য় ধাপ-মানচিত্রের সীমারেখা বোঝা

মানচিত্রের সীমারেখা (Map Scale) দ্বারা কোন নির্দিষ্ট স্থানের Map Distance এবং Real Distance এর অনুপাত প্রকাশ করা হয়। এই অনুপাত বিভিন্ন মানচিত্রভেদে বিভিন্ন হতে পারে। আমরা যদি কোন মানচিত্রের নীচের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাবো সেখানে মানচিত্রের Scale রয়েছে। সেখানে থাকতে পারেঃ 1:100,000. এই অনুপাতের একটি নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে। এর অর্থঃ এই মানচিত্রের 1 Unit, বাস্তবজগতের 100,000 Unit/ এককের সমান। সাধারণভাবে নিম্নোক্ত অনুপাতগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকেঃ

• পায়ে হাঁটা দূরত্বের জন্য- 1:25,000
• ড্রাইভিং এর জন্য- 1:190,000
• পুরো পৃথিবী দেখার জন্য- 1:24,000,000

map-3আপনার গন্তব্যের দূরত্ব কতটুকু, সেটা বোঝার জন্য আপনাকে আপনার জন্য উপযোগী মানচিত্রে দুটি Point Selection করতে হবে। যে Point এ আপনি আছেন, সেটিকে A ধরুন। আর যেখানে যেতে চান, সেটিকে B ধরুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ব্যবহৃত মানচিত্রের Scale 1:25,000. Point-A থেকে Point-B এর দূরত্ব 6 inches (15.2 cm)।তাহলে Total Distance হবেঃ 6 * 250,000 = 1,500,000 inches (3,810,000 cm). এখানে উল্লেখ্য, ১ মাইল= ৬৩,৩৬০ ইঞ্চি। তাহলে, Point-A থেকে Point-B এর দূরত্বঃ 1,500,000 ÷ 63,360 = 23.7 miles।

৪র্থ ধাপ- অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ চিহ্নিতকরণ

ধারেকাছে কোথাও যাওয়ার জন্য এটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু আপনি যদি অন্য কোন দেশে যান, অথবা কোন দুর্গম অঞ্চলে, তাহলে সেই জায়গার অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ আপনার জানা থাকা জরুরী।

map-4• পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষরেখা (ইংরেজি: Latitude বা φ) বা মেরু রেখা বলে।
• দ্রাঘিমাংশ (ইংরেজি: Longitude বা λ) স্থানাঙ্ক ব্যবস্থার কেন্দ্রে পূর্বে বা পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠের কোন বিন্দু বিষুব রেখার সাথে উল্লম্ব কোন পরিধির (যা উত্তর ও দক্ষিণ মেরুকে ছেদ করেছে) সাথে যে কোণ উৎপন্ন করে তার পরিমাপ।
• মানচিত্রের ডান/বাম পাশের সংখ্যাগুলো দ্বারা অক্ষাংশ প্রকাশ করা হয়।
• মানচিত্রের উপর/নীচের সংখ্যাগুলো দ্বারা দ্রাঘিমাংশ প্রকাশ করা হয়।

যে Point এ অক্ষরেখা এবং দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে Cross করবে, সেটিই হচ্ছে Point of Reference।

৫ম ধাপ- সমোন্নতি রেখা (Contour Line) বোঝাঃ

map-5একটি জায়গা কতটুকু উঁচু অথবা নিচু, সেটি সমোন্নতি রেখা (Contour Line) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। প্রতিটি রেখাই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে Standard Height প্রকাশ করে।
• যেখানে সমোন্নতি রেখাগুলোর অবস্থান কাছাকাছি, বুঝতে হবে সেখানে ঢাল অনেক উঁচু অর্থাৎ ভূমি অসমতল।
• যেখানে সমোন্নতি রেখাগুলোর অবস্থান পরস্পর থেকে দূরে দূরে, বুঝতে হবে সেখানে ঢাল নিচু অর্থাৎ ভূমি অপেক্ষাকৃত সমতল।

৬ষ্ঠ ধাপ- মানচিত্রে ব্যাখামূলক বর্ণনা বোঝা

map-6প্রায় সব মানচিত্রেই কিছু ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা (Legend) থাকে, যার মাধ্যমে সেই মানচিত্রগুলো সম্বন্ধে অনেক কিছু জানা যায়। সাধারণত নিম্নোক্ত Legend গুলো দেখা যায়ঃ
• বিভিন্ন রঙ এবং Size এর সম্পূর্ণ কিংবা Broken Lines, যেগুলোর মাধ্যমে রাস্তা, রেলপথ ইত্যাদি বুঝায়।
• বাদামী অথবা সবুজ রঙ দিয়ে পর্বত বুঝানো হয়।
• নদী, খাল, সমুদ্র ইত্যাদি নীল রঙ দিয়ে বুঝানো হয়।
• বন, গলফ কোর্ট, উদ্যান ইত্যাদি সবুজ রঙ দিয়ে বুঝানো হয়।
• ধূসর অথবা কালো রঙ বিল্ডিং নির্দেশ করে।

৭ম ধাপ- মানচিত্র ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানো

map-7আপনার কাছে একটি মানচিত্র আছে। এখন আপনি এটি ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত।
map-8• ম্যাপের দিকে লক্ষ্য করুন। আপনি কোথায় আছেন, এটি আগে চিহ্নিত করুন। তারপর কোথায় যেতে চান, সেই জায়গা মানচিত্রে চিহ্নিত করুন। তাদের A এবং B দ্বারা চিহ্নিত করুন।
map-9• পেন্সিল এবং রুলার ব্যবহার করে A এবং B বরাবর Route Line আঁকুন। যতগুলো ইচ্ছা। রুট লাইন আঁকার সময় Legends, Land marks, Rivers, Prominent Places ইত্যাদির দিকে খেয়াল রাখুন। যাতে আপনার চিনতে সুবিধা হয়।
map-10মানচিত্রের Index এর দিকে খেয়াল রাখুন। এভাবে প্রাপ্ত Route Line গুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে Shortest Route Line বেঁছে নিন। এটিই হবে আপনার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

জানুন USA ভিজিটিং ভিসা যা কিছু করার অনুমোদন দেয় আর যা দেয়না

Activities Thats Permitted And Not Permitted in USA On Visitor Visa

নন-ইমিগ্রান্ট ভিসার আবেদন করে কোন উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ সময়ের শর্তে আমেরিকা প্রবেশে পথ খোলা আছে সবার জন্য। ভিজিটিং ভিসা নিয়ে যে কেউ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্যবসা,চিকিৎসা ,পরিদর্শন বা অবকাশ যাপনের জন্য আমেরিকা আসতে পারেন। যেহেতু এটি অস্থায়ী ভিসা ক্যাটেগরির অন্তর্ভুক্ত, তাই মুক্ত বিচরণের সুযোগ থাকেনা। কিছু শর্তাবলী ও নিয়ম মেনে চলতে হয়।

ভিজিটিং ভিসায় যেসব কার্যক্রমের অনুমোদন রয়েছে:

পূর্বের সিরিজের লিখায় আবেদন,সাক্ষাৎকার,কাগজপত্র চিকিৎসা সেবা ইত্যাদি নিয়ে পরামর্শ লিখা হয়েছে। এবার জানবো ভিজিটিং ভিসার নানা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে। জানুন উদ্দেশ্যের ধরণ অনুযায়ী কিসের অনুমোদন আছে আর কিসের নেই। যার বিকল্প হলে নেতিবাচক অনেক কিছু হতে পারে।

ব্যবসায়িক (B-1)ভিসা হলে যা:

১) বিজনেস অ্যাসোসিয়েটস এর সাথে আলাপ আলোচনা করা যাবে।
২) ব্যবসায়িক,শিক্ষণীয়,পেশাগত কোন কনভেনশন বা কনফারেন্সে সামিল হতে পারবেন।
৩) ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদন করতে পারবেন।

টুরিস্ট ভিসা(B-2) হলে যা:

১) দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করা।
২) আত্মীয় ,বন্ধুর বাসায় সাক্ষাৎ করা।
৩) চিকিৎসা সেবা গ্রহণ।
৪) সামাজিক,ভ্রাতীয় সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা।
৫) বিভিন্ন খেলাধুলা,সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা । (তবে পারিশ্রমিক ব্যতীত হলে)।
৬) স্বল্প সময়ের (১/২ দিনের)অবকাশমূলক কোন প্রশিক্ষণ গ্রহণ। যা একাডেমিক ক্রেডিট সংশ্লিষ্ট না। যেমনঃ রান্নার প্রশিক্ষণ।

ভিজিটিং ভিসায় যেসব কার্যক্রমের অনুমোদন নেই:

১) একাডেমিক পড়াশুনা করা যাবে না।
২) বেতন ভিত্তিক কোন ধরণের কাজে যুক্ত হওয়া যাবে না।
৩) পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোন রকম কনসার্ট,প্রদর্শনী,অভিনয় করা যাবে না।
৪) প্রেস,রেডিও,সংবাদপত্র সহ অন্যান্য তথ্যমূলক মাধ্যমে কাজ করা যাবে না।
৫) অবৈধ পন্থায় স্থায়ী বসবাস করা যাবে না।

তথ্যসূত্র: travel.state.gov

আরো পড়ুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

আপনার জীবনকে বদলে দিবে ভ্রমণ

travel
শীতকাল এসে যাচ্ছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে শীতের পিঠা, জামা-কাপড়ের দোকানে শীতের কাপড়। টং দোকানের চাও যেন একটু বেশিই মিষ্টি লাগে। চারদিকে উৎসব উৎসব আবহ। শীতকাল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এভাবেই করা নাড়ে। আর যারা ভ্রমণপিয়াসী, তাদের মাথার ভিতরে পাগলাঘন্টি বাজিয়ে দেয়। শীতকালই যে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়! বছরের শেষের দিকে আসে শীত। অফিসের কাজের চাপ, পড়াশোনার চাপ অনেকটাই সহনীয় থাকে।

আর প্রাকৃতিক একটা উৎসবের আবহ তো আছেই। অনেকেই দেখা যায় কাঁধে ট্রাভেল ব্যাগ ঝুলিয়ে, হুডিওয়ালা জ্যাকেট পরে, হুডি মাথায় দিয়ে বেড়িয়ে পড়েন অজানার উদ্দেশ্যে। হয়তো দল বেঁধে, হয়তোবা জীবনসঙ্গীকে সাথে নিয়ে। এই যে বেড়িয়ে পড়া, কিছুটা সময় লোকালয় থেকে দূরে সম্পূর্ণ অচেনা একটা পরিবেশে থাকা, এর কিন্তু সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে আমাদের জীবনে। তো কিভাবে ভ্রমণ আমাদের জীবনাচরণ বদলে দেয়?

  • অজানাকে জানাঃ এক জীবনে মানুষ সবকিছু জানতে পারে না। জানা সম্ভবও নয়। তারপরও সবারই চেষ্টা থাকা উচিৎ যতটুকু সম্ভব, নতুন কিছু জানতে। সেটা হতে পারে জীবনবোধ, হতে পারে বৈষয়িক, আবার হতে পারে একেবারেই তুচ্ছ কোন ব্যাপার। আদতে যা তুচ্ছ নয় মোটেও।
  • বৃত্তের বাইরে আসাঃ আপনি হয়তো অনেক বড় চাকুরে। অথবা ব্যবসায়ী। সারাক্ষণ শুধু কাজ আর কাজ। জীবনটা যেন আপনার বাঁধা পড়ে আছে এক অদৃশ্য শিকলে। আপনি হয়ে পড়েছেন বৃত্তবন্দী। এই বৃত্তকে ভাঙতে পারে ভ্রমণ। ঘুরে আসুন না কয়েকদিনের জন্য। আপনি বেঁচে থাকার নতুন শক্তি পাবেন।
  • নতুন পরিচিত বাড়ানোঃ ভ্রমণে গেলে আপনি যেমন নতুন একটা জায়গার সাথে পরিচিত হবেন, ঠিক তেমনিভাবে পরিচিত হবেন নতুন কিছু মানুষের সাথেও। নতুন কিছু বন্ধু হবে আপনার। ভাগ্য যদি বেশি ভালো থাকে, আপনি হয়তো পেয়ে যেতে পারেন আজীবনের সঙ্গীও! তাহলে দেরি কেন? বেড়িয়ে পড়ুন এখনই!
  • বাস্তবে বাস করতে শেখাঃ হতে পারে, আপনার প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেছে। আপনি প্রতারণার শিকার। আবার হতে পারে, ব্যবসায় অনেক বড় একটা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বেঁচে থাকার কোন মানে খুঁজে পাচ্ছেন না। আমি বলবো, বেড়িয়ে পড়ুন। প্রকৃতির বিশালতার কাছে ধরা দিন। প্রকৃতি যখন আপনাকে তার স্নেহময় আলিঙ্গনে জড়াবে, আপনি দুঃখ ভুলে যাবেন। বাস্তব জগতে বাস করতে শিখবেন নতুনভাবে।
  • জীবনবোধের পরিবর্তনঃ আপনি হয়তো টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। সারাদিন, সারাক্ষণ মাথায় শুধু একটাই চিন্তা। কিভাবে আরো বেশি টাকা কামানো যায়। এতে করে আপনি কখনোই সন্তুষ্ট হবেন না। ক্রমাগত হয়ে যাবেন জীবনের কাছে জিম্মি। একটু কষ্ট করে কয়েকদিন ছুটি ম্যানেজ করে কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। পাহাড়ের চূড়ায় উঠুন, অথবা সাগরের নীল জলে সাঁতার কাটুন। সবুজ, বিস্তীর্ণ মাঠের বুকে শুয়ে আকাশটার দিকে তাকিয়ে থাকুন। জোছনা রাতে বনে গিয়ে জোছনা দেখুন। জীবন সম্পর্কে আপনার ধারণা বদলে যাবে।

জীবনটা ক্ষণিকের। ছোট্ট এই জীবনটাকে যতটকু পারুন, রাঙিয়ে দিন। জীবনও আপনাকে রাঙাবে।

ছবি- দ্য গার্ডিয়ান (Bangladesh is one of the last places where fishermen still use trained otters to herd fish into nets. Photograph: Pierre Torset/Biosphoto)

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

পাহাড় ভ্রমণ বা হাইকিং এ যাওয়ার আগে যে জিনিসগুলো অবশ্যই সাথে নেবেন

Essential Things Before Going For Hikingহাইকিং (hiking) বা ট্র্যাকিং (tracking) শব্দদুটির সাথে অনেকেই পরিচিত। আজকাল অনেকের মধ্যেই পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ক্লাব যারা নিয়মিত পাহাড়ে ভ্রমণের আয়োজন করে চলেছে। আপনি হয়তো একজন অভিজ্ঞ হাইকার অথবা একদমই নতুন। তাই নিজের নিরাপত্তার (safety) জন্য কিছু জিনিস সাথে নিন যা আপনার হাইকিং বা ট্র্যাকিংকে করে তুলবে অনেকটাই নিরাপদ আর আনন্দময় । এসব জিনিস সাথে রাখা শুধু হাইকিং এর জন্যই নয় বরং যে কোন অপরিচিত স্থানে বেড়াতে যাবার জন্য অপরিহার্য।

হাইকিং এ যাওয়ার আগেই সে স্থান সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নিন। যাতায়াত ব্যবস্থা কেমন (transport), কেমন খরচ হবে (cost), থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা (residence), কোন বিপদের সম্ভাবনা আছে কি না ইত্যাদি। জেনে নিন আবহাওয়ার অবস্থা। বেশি গরমের দিনে বা বর্ষাকালে হাইকিং এ যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

  • ব্যাগ (bag) সাথে নিন একটি মজবুত এবং বড় সাইজের ব্যাকপ্যাক। কারণ আপনার যাবতীয় জিনিসপত্র এখানেই রাখতে হবে। মজবুত এবং ভাল ব্র্যান্ডের ব্যাকপ্যাক (backpack) কিনুন কারণ আপনি নিশ্চয় চাইবেন না বেড়ানোর মাঝপথে আপনার জিনিসপত্র ব্যাগ ছিঁড়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাক।
  • ম্যাপ এবং কম্পাস (map and compass) সাথে নিন একটি ম্যাপ (map) এবং কম্পাস (compass)। এই দুটি জিনিসকে আলাদা না ভেবে একটি টিম হিসেবে দেখুন। কারণ শুধুমাত্র এদের যে কোন একটি আপনাকে পথ দেখাতে পারবে না।
  • পানি(water) সাথে অবশ্যই পানি রাখুন। এমনকি আপনি ১ ঘণ্টার জন্য হাইকিং এ গেলেও। কারণ যে কোন পরিস্থিতিতে আপনার পানি দরকার হতে পারে। পানি রাখার জন্য মজবুত ফ্লাক্স বা বোতল কিনে নিন।
  • টর্চ লাইট (torch light) অবশ্যই একটি টর্চ নিন সাথে। যদি আপনার বেড়ানোর সময়সীমা দিনের আলো থাকা অবস্থাতেই শেষ হয়ে যায় তারপরেও। সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আপনি আগেভাগে জানতে পারবেন না। তাই সতর্ক থাকাটা জরুরি। টর্চ ব্যাগে নেয়ার আগে দেখে নিন তাতে ফুল চার্জ আছে কি না।
  • খাবার (food) হাইকিং এ যাওয়ার আগেই ভালভাবে পানি এবং খাবার খেয়ে নিবেন। কারণ আপনি একটি পরিশ্রমের কাজ করতে যাচ্ছেন, তাই শক্তি দরকার। এছাড়াও সাথে নিন প্যাকেট করা খাবার। হালকা, শুকনো এবং পুষ্টিকর খাবারকে এই ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিন।
  • ম্যাচ বা অন্যান্য আগুন জ্বালানোর উৎস (match or lighter) অবশ্যই ম্যাচ বা অন্যকোন আগুন জ্বালানোর উৎস সাথে নিন। ম্যাচ ভিজে যাওয়ার আশংকা থাকতে পারে। তাই ম্যাগনেশিয়াম লাইটার কিনে নিতে পারেন। হাইকিং এর সরঞ্জাম বিক্রি করে এমন যে কোন দোকানেই এটা পেয়ে যাবেন।
  • ছুরি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম (knife and first aid box) সাথে নিয়ে নিন একটি ধারালো ছুরি। ৩-৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের ছুরি ই যথেষ্ট। নিন প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামও। পাহাড়ে থাকা অবস্থায় কোনভাবে আঘাত পেলে এটা কাজে লাগবে।
  • হুইসেল বা বাঁশি (whistle) খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই জিনিসটি ব্যাগে নয় বরং নিজের পকেটে বা গলায় ঝুলিয়ে রাখুন। আপনি পা পিছলে পড়ে যেতে পারেন অথবা পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তখন এই বাঁশি ই আপনাকে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে আপনার সঙ্গীদের।

এগুলো ছাড়াও আরও কিছু দরকারি জিনিস যেমনঃ নাইলনের দড়ি, বড় প্লাস্টিক ব্যাগ, আপনার পরিচয় পত্র, টয়লেট টিস্যু সাথে নিয়ে নিন। আর উপভোগ করুন নিরাপদ এবং দুশ্চিন্তা মুক্ত হাইকিং (hiking)

আরো পড়ুন
ভ্রমণে যাওয়ার আগে যে কয়টি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

ঈদে বেড়াতে গেলে সাথে নিতে হবে যে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো

How To Pack For A Trip On Eid

eid2
ধরুন ঈদের ছুটি (eid vacation) কাটাতে যাচ্ছেন। বাসে ওঠার পর মনে হল মোবাইলের চার্জার ফেলে এসেছেন। অথবা সাথে নেননি হেডফোন। কেমন লাগবে তখন? ছুটি উপভোগ করবেন নাকি কাউকে গিয়ে মুখ সরু করে বলবেন, “ভাই আপনার কাছে কি নকিয়ার চিকন পিনের চার্জার হবে?”পাঠক হাসবেন না। এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হতেই পারে। তাই বেড়াতে যাওয়ার (before going to trip) আগে চোখ বুলিয়ে নিন নিচের প্রয়োজনীয় জিনিসের লিস্টে। উপভোগ করুন ছুটি।

১) টুথব্রাশ, পেস্ট
২) শেভিং ক্রিম,রেজার।
৩) ফেসওয়াশ
৪) শ্যাম্পু (যদি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ছাড়া ব্যবহার না করেন)
৫) বডি স্প্রে
৬) চিরুনি
৭) তোয়ালে
৮) রুমাল
৯) টয়লেট টিস্যু
১০) অতিরিক্ত চশমা (যদি চশমার পাওয়ার বেশি হয়)
১১) স্যান্ডেল (যদি কেডস, স্নিকার পরে যান)
১২) চার্জার সমূহ (মোবাইল,ট্যাব, ল্যাপটপ)
১৩) হেডফোন
১৪) ডিজিটাল ক্যামেরা
১৫) প্যারাসিটামল, বমির ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন, ব্যক্তিগত কোন ওষুধ থাকলে
১৬) এটিএম কার্ড (ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড)
১৭) টিকেট (ট্রেন,বাস,বিমান)
১৮) পাসপোর্টের ফটোকপি (দেশের বাইরে গেলে)
১৯) বই, ম্যাগাজিন
২০) নোটবুক, কলম
২১) ছাতা, রেইনকোট (যদি বৃষ্টির মৌসুম হয়)

এছাড়া আপনার সাথে যদি বাচ্চা কিংবা বয়স্ক ব্যক্তি থেকে থাকে তবে তাদের জন্যে আলাদা কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে হতে পারে। এই লিস্টে যদি আর কিছু যোগ করার প্রয়োজন মনে হয় জানান আমাদের। আপনার ভ্রমণ (trip) হয়ে উঠুক সুন্দর, নির্মল, ঝামেলামুক্ত।

ঈদের ছুটি নিয়ে পড়ুন পরামর্শ.কম এ প্রকাশিত আরো একটি লেখাঃ
ঈদের ছুটির আনন্দ বাড়িয়ে তুলবেন যেভাবে

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

ঈদের ছুটির আনন্দ বাড়িয়ে তুলবেন যেভাবে

How To Have The Best Eid Vacation

eid
“ভোজবাজির মত ছুটিগুলো চলে গেল!”
ঈদের ছুটি (eid vacation) শেষে বেশিরভাগ লোককেই এই কথাটি বলতে শোনা যায়। আসলেই কিভাবে কিভাবে যেন পার হয়ে যায় ছুটিগুলো। তারপর আবার সেই ব্যস্ততা, অবিরাম ছুটে চলা, নিয়ন আলোর শহরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকা। ছুটি শেষে আফসোস যেন না থাকে সেজন্যেই আমাদের এই পরিবেশনা। জেনে নিন কিভাবে কাজে লাগাবেন ঈদের ছুটি।

১) নিখুঁত পরিকল্পনা করুন(make a perfect plan)

নিজেকে আগে জিজ্ঞাসা করে নিন কিভাবে ছুটি কাটাতে চাইছেন? ঝামেলামুক্ত নিরুদ্বেগ হয়ে? নতুন কোন স্থান দেখতে গিয়ে? নাকি পুরনো কোন বন্ধু বা আত্মীয়স্বজনের সাথে দেখা করে? ঠিকঠাক প্রশ্নের জবাব পেলে তবেই বসে ঠিক করুন কোথায় যাবেন। এরকম যেন না হয় আপনি ঝামেলামুক্ত ছুটি (eid vacation) কাটাতে চাইছেন, কিন্তু এমন একটি স্থানে যাওয়ার জন্যে পরিকল্পনা করলেন যেখানে যেতে দীর্ঘ ও জটিল পথ পাড়ি দিতে হবে।

২) প্রিয়জনকে সময় দিন(give time for your special one)

আপনার ব্যস্ততার দিকে চোখ রেখে আপনার প্রিয়জন হয়তো মুখ ফুটে বলে না, কিন্তু একান্ত কিছু সময় দূরে কোথাও ঘুরে আসতে সবাই চায়। যেখানে শুধু আপনি আর আপনার প্রিয়জন ছাড়া থাকবে না আর কেউ। তাই সম্পর্কের বাঁধন মজবুত করার জন্যে এমন একটি ছুটির পরিকল্পনা করুন, যেখানে আপনার প্রিয়জনকে উপহার দিতে পারবেন কিছু অসাধারণ মুহূর্ত।

৩) জমে থাকা কাজ সেরে ফেলুন(finish your pending tasks)

জমে থাকা কাজ বলতে কিন্তু অফিসের কাজ কিংবা পড়ালেখা বলা হচ্ছে না। আপনার হয়তো ছাদে খুব সুন্দর একটা বাগান ছিল। সময় আর যত্নের অভাবে যা হারিয়েছে সৌন্দর্য। এই ছুটিতে এরকম জমে থাকা শখের কাজগুলো সেরে ফেলুন। জেনে রাখুন, শখের কাজ কিন্তু বাড়িয়ে তোলে মানুষের কর্মস্পৃহা।

৪) প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে রাখুন(keep necessary things with you)

দুশ্চিন্তা মুক্ত ছুটি কাটাতে চাইলে আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো রাখতে হবে সাথে। কোথাও বেড়াতে গিয়ে মোবাইল চার্জ দিতে পারলেন না কিংবা ডিজিটাল ক্যামেরাটি ভুলে সাথে নেননি বলে সুন্দর মুহূর্তগুলো ধরে রাখতে পারছেন না। এমন হলে মেজাজ কারই বা ভাল থাকবে? তাই ক্যামেরা, চার্জার, এক্সট্রা ব্যাটারি সাথে রাখুন। এছাড়া আরো কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা দেখুন এ লেখাতে

৫) পছন্দের মানুষদের সাথে রাখুন(stay with your beloved ones)

আপনার বাসার ছাদে আপনার পছন্দের কিছু বন্ধু এনে একটি পার্টির ব্যবস্থা করলেন। প্রচুর খাওয়াদাওয়া হল, আড্ডা হল। শেষ বিকেলে আকাশ যখন লাল হচ্ছে কোন এক বন্ধু হয়তো তুলে নিলো গিটার, বেসুরো গলা মেলালেন আপনারাও। দৃশ্যটি ভেবে বলুন, ছুটি উপভোগ্য করতে সবসময় দূরে কোথাও যাওয়ার দরকার আছে?

৬) স্বতঃস্ফূর্ত থাকুন(be spontaneous)

টাকা, সময় সবই খরচ করলেন। অনেক সুন্দর একটা স্থানে ঘুরেও আসলেন। তারপরেও মনের গহীনে থাকা ধুলোগুলো পরিষ্কার হয়নি? এর কারণ আপনি ছুটি কাটাতে গিয়েও ফর্মাল ছিলেন। সমুদ্রের গর্জে ওঠা ঢেউ এর বুকে ঝাঁপ দেননি, ঘাম ঝরাতে ঝরাতে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে চিৎকার করেননি, মেঠোপথে সাইকেলের রেস দিতে গিয়ে আছাড় খাননি। তাহলে আর কিভাবে উপভোগ করবেন ছুটি? সাহসী, স্বতঃস্ফূর্ত থাকুন। মনে রাখুন ছুটি (eid vacation) কাটাতে এসেছেন, অফিসে নয়।

পাঠক লেখাটি পড়ে নিশ্চয় রোমাঞ্চিত হয়ে পড়েছেন? তো আর দেরী কেন বের হয়ে পড়ুন, রোমাঞ্চকে রুপ দিন বাস্তবে।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।