৬ অসাধারণ চলচ্চিত্র, যা আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে

Untitled

কিছু কিছু মুভি আছে যেগুলো বক্স অফিসে হয়ত আহামরি কোন সাফল্য পায় না, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে একটা স্থায়ী আসন তৈরি করে নেয়। এই মুভিগুলো আপনাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়, প্রচলিত কোন বিষয়ে আপনার দীর্ঘদিনের ধারণা ভেঙ্গে দেয়, অবসাদে আপনাকে প্রেরণা যোগায়, কিছু নির্মল আনন্দে ভাসায়। আজ আপনাদেরকে এমনই ৬টি বিশ্বসেরা চলচিত্রের কথা বলব-

Life is Beautiful: ইতালিয়ান পরিচালক Roberto Benigni পরিচালিত চলচ্চিত্রটিকে তার ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ট কাজ এবং সমগ্র মুভি জগতের বিষ্ময় বলা হয়। ২য় বিশ্বযুদ্ধের উপরে নির্মিত এই মুভিটির দুইটি অংশ। প্রথম অংশটা কমেডি আর রোমান্টিজমের সংমিশেল, দ্বিতীয় অংশে আছে যুদ্ধের গ্যাঁড়াকলে ফেঁসে যাওয়া এক পরিবারের করুণ কাহিনী। শুরুতে দেখা যাবে- Guido, সদা হাস্যোজ্জল এক ইহুদি তরুণ যে কিনা প্রেমে পড়ে ইতিমধ্যেই এনগেজমেন্ট হয়ে যাওয়া এক স্কুল শিক্ষিকার। Dora নামের এই শিক্ষিকাকে প্রেমে ফেলতে তার চলে নিরন্তর চেষ্টা।

একসময় শিকার টোপ গিলে। গুইডোর একনিষ্ঠতায় মুগ্ধ ডোরা তার আগের এনগেজমেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে তাকেই বিয়ে করে। সময় বয়ে যায়, ছোটখাটো খুনসুটির মধ্য দিয়ে চার বছরের সন্তান Joshua কে নিয়ে ভালই চলছিল Guido আর Dora-র সংসার। তারপরই কাহিনীতে আসে নাটকীয় পরিবর্তন। শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ইহুদী হবার কারণে Guido আর Joshua কে আটক করা হয়, খ্রিস্টান হবার কারণে Dora কে ছেড়ে দেয়া হয়, কিন্তু স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে সে যেতে রাজি না হওয়ায় তাকেও অন্যান্য নারী বন্দিদের সাথে আটকে রাখা হয়। শুরু হয় তাদের বন্দি জীবন।

Guido কিছুতেই তার চার বছরের ছোট্ট ছেলেকে যুদ্ধের ভয়াবহতা বুঝতে দিতে নারাজ। তাই সে পুরো ব্যাপারটা Joshua-র কাছে একটি রিয়েলিটি শো-র মত উপস্থাপন করে। এভাবেই কাহিনী এগিয়ে যায়। মুভির শেষ ক্লাইমেক্সটা আপনাকে নির্ঘাত কাঁদাবে। Guido চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন পরিচালক Roberto নিজেই, তার স্ত্রী Dora-র চরিত্র স্বার্থক ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন Nicoletta Braschi আর চার বছরের শিশু Joshua-র চরিত্রে অন্যবদ্য অভিনয় করেছে Giorgio Cantarini. ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ১১৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবিটি ৩টি অস্কার জিতেছিল। IMDb-র বর্তমান সেরা ২৫০ এর তালিকায় এই ছবিটির অবস্থান ২৯তম।

Into The Wild: বাবা মায়ের রোজকার ঝগড়ায় বিরক্ত হয়ে ঘর ছাড়ল ক্রিশ। মনে ক্ষীণ আশা- সে চলে যাওয়ায় তার অভাব বুঝতে পেরে বাবা-মায়ের ঝগড়াগুলোর একটা হিল্লে হবে। সে ফিরে এসে সব আবার আগের মত ঠিকঠাক দেখতে পাবে, মাঝখান দিয়ে পূর্ণ হবে তার দীর্ঘদিন ধরে পুষে রাখা আলাস্কা অভিযানের স্বপ্ন। শুরু হল তার অভিযান, শুরু হল এক বন্য জীবন যেখানেই প্রতিনিয়তই বেঁচে থাকার জন্য লড়তে হয়। এক সময় সে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরতে চায়।

কিন্তু সে কি পারবে ফিরতে ? IMDb-র সেরা ২৫০ এর তালিকায় স্থান পাওয়া (১৫৯ তম) ২০০৭ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ১৪৮ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন মার্কিন পরিচালক Sean Penn. ক্রিশ চরিত্রে অন্যবদ্য অভিনয় করেছেন Emile Hirsch.

Children of Heaven: ছোটবোন Zahra-র জুতা হারিয়ে যায়। জুতা ছাড়া স্কুলে যাওয়া বারণ। তাই ঝামেলা এড়াতে Ali তার জুতাজোড়া দুই ভাই-বোন মিলে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। একদিন আলী ইন্টার স্কুল দৌড় প্রতিযোগিতার কথা জানতে পারে যেখানে ২য় পুরস্কার হিসেবে একজোড়া জুতা দেয়া হবে। সেকেন্ড হবার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে আলী, কিন্তু মূল প্রতিযোগিতায় দূর্ভাগ্যক্রমে (!) সে প্রথম হয়ে যায়। প্রথম হবার দুঃখে ছোট্ট আলীর কান্না দেখে চোখ অশ্রুসজল হবে না এমন দর্শক পাওয়া দুষ্কর।

আলী চরিত্রে Amir Farrokh এবং জারা চরিত্রে Bahare Seddiqi এর অভিনয় দর্শক কোনদিনও ভুলতে পারবে না। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি পরিচালনা করেছেন ইরানি পরিচালক Majid Majidi. ৮৯ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটির IMDb রেটিং ৮.৫/১০।

Love Letter: একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রেমকাহিনীকে নিয়ে এই জাপানি মুভিটি তৈরি করা হয়েছে। স্কি করতে গিয়ে বরফ ঘেরা পাহাড়ে হারিয়ে যায় বন্ধু Akiba (Etsushi Toyokawa), কিন্তু তাকে কিছুতেই ভুল থাকতে পারে না তার বান্ধবী Hiroko (Miho Nakayama). তাই তাকে খুঁজতে বারবার সেই পাহাড়ে চলে আসে হিরাকো। আর এইভাবেই সে একদিন আবিস্কার করে এক অজানা সত্য।

রোমান্টিক মুভিগুলোয় কষ্টের পর্বটা এক সময় ফিকে হয়ে যায়, লাভ লেটার তার ব্যতিক্রম। জাপানি ভাষায় নির্মিত এই মুভিটি শুধু রোমাঞ্চ নয়, টুইস্টেও ভরপুর। ১০৪ মিনিট দৈর্ঘের এই মুভিটি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল। Shunji Iwai পরিচালিত ছবিটির IMDb রেটিং ৮/১০।

Schindler’s List: জার্মানরা পোল্যান্ড দখল করার পর যখন পোল্যান্ডের সব ইহুদিদের বিভিন্ন শহরে পুনর্বাসিত করছিল, ঠিক তখনই ব্যবসায়ের উদ্যেশে পোল্যান্ড আসেন জার্মান ব্যবসায়ী অস্কার সিন্ডলার, যার আগমনের একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ শরণার্থী ক্যাম্পে পশুর মত বসবাস করা ইহুদীদেরকে যাতে নিজ কারখানায় শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

কিন্তু এক সময় সিন্ডলার বুঝতে পারেন পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান হলো মানুষ আর মানবতা। গণহত্যা থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি ইহুদিদের নামের তালিকা তৈরি করেন এবং তার সব সম্পত্তির বিনিময়ে তিনি এই তালিকার সকল ইহুদিদের কিনে নেন। এই তালিকাই মূলত schindler’s list. এই মুভিটিরও শেষ দৃশ্য আপনাকে কাঁদতে বাধ্য করবে। IMDb-র সেরা ২৫০ এর তালিকায় থাকা মুভিটির স্থান ৮ম। ১৯৫ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটি ৭টি ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতেছিল। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি পরিচালনা করেন বিখ্যাত পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ।

Tae Guk Gi: The Brotherhood of War:  কোরীয়-যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত “ব্রাদারহুড” মুভির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে দু’ভাইয়ের মাঝে চিরস্থায়ী ভ্রাতৃত্ববোধকে কেন্দ্র করে। দেশভাগের সময় আলাদা হয়ে যায় তারা, তারপর পঞ্চাশ বছর পর যখন তাদের আবার দেখা হয়, তখন বড় ভাইটি আর এই দুনিয়ায় নেই।

বড় ভাইয়ের দেহাবশেষের পাশে ছোট ভাইয়ের কান্নায় ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখে আপনি না কেঁদে পারবেন না। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নির্মিত মুভিগুলোর মাঝে তুলনামূলক বিচারে ব্রাদারহুড অন্য সব মুভিকেই ছাড়িয়ে যায়। Je-kyu Kang এর পরিচালনায় মুভিটি ২০০৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল। ১৪০ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটির IMDb রেটিং ৮.২/১০।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

ছুটির দিনে দেখতে পারেন অ্যানিমেশন মুভি সিরিজ- ‘Tinker Bell’

 

10567961_771345126271653_874820633_nকখনো কি ভেবে দেখেছেন- ছোট্ট শিশু কাঁদতে কাঁদতে হঠাৎ হেসে উঠে কেন? একের পর এক ঋতু আসে, ঋতু যায়- এটা কিভাবে সম্ভব? ডিম ফুটে বের হওয়া ছোট্ট পাখির ছানা কেমন করে উড়তে শেখে? এই যে প্রজাপতির পাখায় এত রঙের সমাহার- কারা রাঙায় এসব? হঠাৎ করেই দেখলেন- আপনার নষ্ট হয়ে যাওয়া কোন গেজেট আবার কাজ করতে শুরু করেছে! এটা কি এমনি এমনিই সম্ভব? নাকি আড়ালে থেকে কেউ আমাদের জন্য এসব করে দেয়?

বলা হয়ে থাকে- এসব পরীদের কাজ। তারাই আড়ালে থেকে নিরলস পরিশ্রম করে পৃথিবীটা আমাদের জন্য আরো বাসযোগ্য করে তোলে। আর তাদের জন্ম হয় কিভাবে? যখন কোন ছোট্ট শিশু খিলখিলিয়ে হেসে উঠে, সে হাসি বাতাসে কিছু পরাগ রেণু ছড়িয়ে দেয়। আমাদের চেনাজানা পৃথিবীর বাইরে ‘পিক্সি হলো’ নামে পরীদের আলাদা একটা দুনিয়া আছে। পিক্সি ডাস্টের সংস্পর্শে কোন পরাগরেণু এলে জন্ম হয় একটি পরীর। তারপর সে তার প্রতিভা বাছাই করে পৃথিবীটাকে আরো খানিকটা সুন্দর করতে লেগে পড়ে- এমন উপকথার উপর ভিত্তি করেই Tinker Bell অ্যানিমেশান সিরিজটি তৈরি হয়েছে।

চলচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান “Walt Disney Pictures” এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান “DisneyToon Studio” এই সিরিজটি তৈরি করেছে। বাচ্চাদের জন্য অ্যানিমেশন সিরিজটি তৈরি হলেও এর পূর্ণবয়স্ক দর্শকও কিন্তু কম নেই ! ২০০৮ সালে সিরিজের প্রথম চলচিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এর পরবর্তী সিক্যুয়েলটার জন্য। অ্যানিমেশন মুভি সিরিজ হিসেবে ‘Tinker Bell’ কে নিঃসন্দেহে ডিজনীর সেরা কাজ বলা যায়। এখন পর্যন্ত Tinker Bell সিরিজের ৫টি পূর্ণাঙ্গ মুভি এবং ১টি টেলিভিশন শর্টফিল্ম মুক্তি পেয়েছে।

Tinker Bell: ২০০৮ সালে Bradley Raymond-এর পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছিল সিরিজের প্রথম মুভি Tinker Bell. IMDb তে ৬.৯/১০ রেটিং পাওয়া ৭৮ মিনিট দৈর্ঘের এই মুভিটিতে টিংকার বেলের জন্ম, তার ট্যালেন্ট নির্বাচন, সদা চটপটে স্বভাবের কারণে সবসময়ই কোন না কোন বিপদে পড়া এবং বন্ধুদেরকেও সবসময় দৌড়ের উপর রাখা, মেইন ল্যান্ডে পৌঁছানোর জন্য তার অপ্রাণ চেষ্টা এবং সবশেষে তার স্বপ্নের মেইন ল্যান্ডে পৌঁছাতে পারার গল্প দেখানো হয়। সেই সাথে একটা সূক্ষ বার্তাও ছিল- পৃথিবীতে কোন কাজই অসম্মানের নয়। ঠিকঠাক মত নিজের কাজটি কর, সফলতা আসবেই।

Tinker Bell and the Lost Treasure: পরীদের উড়ার জন্য পিক্সি ডাস্টের প্রয়োজন হয়। আর পিক্সি ডাস্টের গাছকে জীবিত রাখার জন্য দরকার ব্লু পিক্সি ডাস্ট। চাঁদের নীলাভ আলো যখন মুনস্টোনের উপর পড়ে তখন এই ডাস্ট তৈরি হয়। ব্লু ডাস্ট প্রতি আট বছরে একবারই সংগ্রহ করা যায়, অটামের শেষ দিনে। তাই পরীদের রাজ্য পিক্সি হলোতে মহা ধুমধামের সাথে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। মুনস্টোন ধরে রাখার জন্য দরকার মুন কেইস। একেকবার একেক পরী এই কেইস তৈরি করে, এইবার এই দায়িত্ব পড়েছে টিংকের উপর। মুন কেইস তৈরি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে তখন অসাবধানতাবশত মুনস্টোনই ভেঙ্গে যায়। এদিকে নিজের বদমেজাজের জন্য বন্ধু টেরেন্সকেও হারায় সে। Tinker Bell-এর এই ছবিতেও বাচ্চাদের জন্য একটা বার্তা আছে- পৃথিবীতে সবচেয়ে দামি জিনিস হল বন্ধুত্ব। তোমার যদি একজন প্রকৃতবন্ধু থাকে তবে পৃথিবীর কোন সমস্যাই তোমার জন্য সমস্যা না। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি পরিচালনা করেছেন Klay Hall. ৮১ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটির IMDb রেটিং ৬.৯/১০।

Tinker Bell and the Great Fairy Rescue: পিক্সি হলোর সব পরীরা ঠিক করল তারা পিকনিক করবে। যে ভাবা সেই কাজ, সবাই মিলে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ক্যাম্পিং এ বেরিয়ে গেল। পরীরা ক্যাম্পিং এর জন্য যে স্থানটি বেছে নিল, তার পাশেই একটা কটেজে ছুটি কাটাতে এসেছিল ড. গ্রিফিথস এবং তার মেয়ে লিজি গ্রিফিথস। অতিরিক্ত কৌতূহল আর সাহসের কারণে লিজির কাছে বন্দি হল টিংকার বেল। তার বন্ধুরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করার মিশনে রওনা দিল। ততক্ষণে অবশ্য লিজি আর টিংকের বেশ ভালোই বন্ধুত্ব হয়েছে। কিন্তু লিজির জীববিজ্ঞানী বাবা হাতের কাছে বিখ্যাত হওয়ার এমন অপূর্ব সুযোগ পেয়ে তা কিছুতেই খোয়াতে চান নি। টিংককে বাঁচাতে গিয়ে বন্দি হল ভিদিয়া। তারপর টিংকার বেল ও তার বন্ধুরা অপর বন্ধু ভিদিয়াকে বাঁচাতে নতুন এক মিশনে নামল। Bradley Raymond পরিচালিত মুভিটি মুক্তি পায় ২০১০ সালের ২১শে ডিসেম্বর। ৭৬ মিনিট দৈর্ঘের এই অ্যানিমেশন মুভিটির INDb রেটিং ৭/১০।

Tinker Bell- Secret Of The Wings: ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল Tinker Bell সিরিজের চতুর্থ মুভি Tinker Bell and the Mysterious Winter Woods”, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুভিটি আর মুক্তি পায়নি। পরে এই ছবিটিই “Secret of the Wings” নামে ২০১২ সালে মুক্তি পায়। ৭৫ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন Roberts Gannaway এবং Peggy Holmes. পরীদের রাজ্য ‘পিক্সি হলো’ দুইটি অংশে বিভক্ত। এক অংশে থাকে বাকি সব পরী আর অন্য অংশে শুধু উইন্টার পরী। বাকি সব পরীদের উইন্টার পরীদের অংশে যাওয়া নিষেধ। কিন্তু টিংকারবেল সে নিষেধাজ্ঞা মানবে কেন? চুপিচুপি সে উইন্টারদের অংশে গিয়ে আবিস্কার করে তার একজন যমজ বোন আছে যে কিনা হুবাহু দেখতে তার মত। বোনকে তার নিজের রাজ্য দেখাতে এনে সে পুরো পিক্সি হলোকেই বিপদের মুখে ফেলে দেয়। IMDb তে মুভিটির রেটিং ৭.১/১০।

The Pirate Fairy: ডাস্ট কিপার পরী জেরিনা পিক্সি ডাস্ট নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে পুরো পিক্সি হলোকেই ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে যায়, ফলশ্রুতিতে তাকে পিক্সি হলো ছাড়তে হয়। জেরিনা পিক্সি হলো ছেড়ে ডাকাত দলে গিয়ে যোগ দেয়। পিক্সি হলোর প্রতি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে জেরিনা এক উৎসবের রাতে ফিরে এসে পিক্সি ডাস্ট তৈরির মূল উপাদান ব্লু পিক্সি ডাস্ট চুরি করে নেয়। তখন টিংকার বেল আর তার বন্ধুদের শুরু হয় ব্লু ডাস্ট ফিরিয়ে আনার মিশন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪তে মুক্তিপ্রাপ্ত Tinker Bell সিরিজের ৫ম মুভি The Pirate Fairy পরিচালনা করেন Peggy Holmes. IMDb তে ৭৮ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ছবিটির রেটিং ৬.৭/১০।

২০১৫ সালের মার্চে সিরিজের ষষ্ঠ মুভি Tinker Bell and the Legend of Never Beast মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালে এই সিরিজের ২১ মিনিট দৈর্ঘের “Pixie Hollow Games” নামে একটি টিভি সিরিজও রিলিজ করা হয়।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

মুভি রিভিউ- X Men সিরিজ: অ্যাডভেঞ্চার, সাই-ফাই, অ্যাকশন আর ফ্যান্টাসি

x-menসৃষ্টির শুরুতে মানুষ কি এখনকার মত ছিল ? এখনকার মত গড়ে সাডে পাঁচ ফিট লম্বা, দুই হাত-দুই পা-দুই চোখ-এক মাথাওয়ালা ? চালর্স ডারউইনের বিবর্তনবাদ বলে- এক সময়ে মানুষ অর্থাৎ আমাদের পূর্বপুরুষরা চার পায়ে হাঁটত। ধীরে ধীরে তারা দাঁড়াতে শিখেছে, বেঁচে থাকার তাগিদে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি আর ঘ্রাণশক্তির অধিকারী হয়েছে, কথা বলা শিখেছে, আস্তে আস্তে সভ্য হয়েছে। কিন্তু বিবর্তন কি থেমে গেছে ?

বিজ্ঞানীদের মতে বিবর্তন একটি ক্রম চলমান প্রক্রিয়া। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি প্রজাতি আরো শক্তিশালী হয় কিংবা বিলুপ্ত হয়ে নতুন কোন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। মূলত বিজ্ঞানীদের এই ধারণার উপর ভিত্তি করেই এক্স ম্যান সিরিজটি তৈরি হয়েছে। এখানে দেখানো হয়েছে- কিছু মানুষের ডিএনএ পরিবর্তিত হয়ে তারা অদ্ভুত কিছু শক্তি লাভ করেছে। সাধারণ মানুষ তাদের নাম দিয়েছে- মিউটেন্ট। মিউটেন্ট আর সাধারণ মানুষের ক্রম চলমান দ্বন্ধ সংঘাতই এক্স-ম্যান সিরিজটির মূল উপজীব্য। অ্যাকশন, ফ্যান্টাসি, সায়েন্স ফিকশন এই তিন ঘরানার মিশেল সিরিজটির প্রথম মুভিটি মুক্তি পায় ২০০০ সালে আর সপ্তমটি এই বছরই, ২০১৪তে। সিরিজটি প্রযোজনা করেছে Marvel Enterprises আর ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্বে ছিল 20th Century Fox।

X-Men

এক্স ম্যান সিরিজের প্রথম মুভি X Men মুক্তি পায় ১৪ জুলাই, ২০০০ সালে। ১০৪ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটির পরিচালক ছিলেন ব্রায়ান সিঙ্গার। মুভিটি সিরিজের প্রথম ছবি হলেও এতে কিছু পূর্বকাহিনী বাকি থেকে যায়। ট্রিলজি ভিত্তিক মুভিগুলোর মাঝে এমন স্টার্টিং ব্যতিক্রম। পরিচালক এক্ষেত্রে যথেষ্ট মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন বলা যায়। মুভিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছে লোগান (Hugh Jackman) নামের স্মৃতিহারা এক চিরতরুণ যার হাত মুষ্টিবদ্ধ করলেই তলোয়ার বেরিয়ে আসে, রোক (Anna Paquin) নামের এক অভাগা তরুণী যে কাউকে স্পর্শ করলেই সে মৃত্যু-দুয়ারে পৌঁছে যায়, চার্লস জ্যাবিয়ার (Patrick Stewart) নামের একজন প্রফেসর যে মানুষের ভাবনা পড়তে পারে, ম্যাগনিটো (Ian McKellen) নামের এক ভয়ানক ভিলেন যে ধাতু নির্মিত যেকোন কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, মিস্তিক (Rebecca Romijn) ম্যাগনিটোর সর্বক্ষণিক সহযোগী যে কারো রূপ ধারণ করতে পারে, যে কারো স্বর নকল করতে পারে। আরো আছে জ্বিন (Famke Janssen) যে ধীরে ধীরে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা শিখছে, স্কট (James Marsden) যে চোখের আগুনে সব ভস্ম করে দিতে পারে আর স্ট্রম (Halle Berry) যে মূহুর্তেই আবহাওয়া বদলে দিয়ে ঝড় তুলতে পারে। লোগান আর রোককে আক্রমণ করে বসে ম্যাগনিটোর লোকজন, উদ্দেশ্য রোককে ছিনিয়ে নেয়া। সেখান থেকে স্ট্রম আর স্কট তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু ম্যাগনিটো রোককে পেতে মরিয়া, অবশেষে সে সফলও হয়। তার উদ্দেশ্য ভয়ংকর, রোকের শক্তি ব্যবহার করে মিউটেন্ট ডিএনএ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া। এদিকে এক্স-ম্যানরা তাকে রুখতে মরিয়া। শুরু হল লোগান, জ্বিন, স্কট আর স্ট্রমের ভয়ংকর মিশন। তারা কি পারবে মানব জাতিকে বাঁচাতে ? মুভিটির IMDb রেটিং ৭.৪/১০।

X2 (X-Men United)

এক্স ম্যান সিরিজের দ্বিতীয় মুভি X2। ১৩৪ মিনিটের এই মুভিটি মুক্তি পায় ২ মে, ২০০৩।ব্রায়ান সিঙ্গার পরিচালিত এই মুভির প্রথমে দেখা যায় ক্রুট ওয়াগনার (Alan Cumming) নামের এক মিউটেন্ট ইউএস প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে বসে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কর্ণেল উইলিয়াম স্টাইকার (Brian Cox) মিউটেন্টদের স্কুল আক্রমণ করে, সেখানকার বাচ্চাদের ধরে নিয়ে যায়। এদিকে মিস্তিক ম্যাগনিটোকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্টাইকারের এক ভয়াবহ পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। স্টাইকার একটা দ্বিতীয় সেরিব্রো তৈরি করে যেটা দিয়ে দুনিয়ার সকল মিউটেন্টকে এক সাথে মেরে ফেলা যাবে। এই সেরিব্রো চালানোর জন্য তার দরকার প্রফেসর জ্যাবিয়ারকে। বন্ধু ম্যাগনিটোর সাথে দেখা করতে গিয়ে স্টাইকারের হাতে আটক হন জ্যাবিয়ার। মিস্তিকের বুদ্ধিতে ম্যাগনিটো মুক্ত হয় ঠিকই, কিন্তু প্রফেসর ওদের হাতে বন্দি থাকায় দুনিয়ার সকল মিউটেন্টের জীবন হুমকির মুখে পড়ে যায়। এক্স ম্যানরা কি পারবে তাদের সবাইকে বাঁচাতে ? মুভিটির IMDb রেটিং ৭.৫/১০।

X-Men: The Last Stand

২০০৬ সালে মুক্তি পায় এক্স ম্যান সিরিজের তৃতীয় মুভি X Men: The Last Stand. ১০৪ মিনিট দৈর্ঘের এই মুভিটি পরিচালনা করেন ব্রিট রাটনার। জিমি, ছোট্ট একটা বাচ্চা। তার আরেকটা পরিচয় সে একজন মিউটেন্ট এবং তার ক্ষমতা হচ্ছে তার সংস্পর্শে অন্য কোন মিউটেন্টের শক্তি কাজ করে না। জিমির ডিএনএ দিয়ে একটা কিউর তৈরি করা হয়, মিউটেন্টরা চাইলে এই কিউর ব্যবহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। জিমিকে মারার জন্য উঠে পড়ে লাগে ম্যাগনিটো, এবার তার সঙ্গ দিচ্ছে আরো ভংকর কিছু মিউটেন্ট। এদিকে জিনকে খুঁজতে গিয়ে নিখোঁজ হয় স্কট। জ্বিন ফিরে আসে, কিন্তু তার ভেতর জন্ম নেয় নতুন একটা সত্ত্বা, যে সত্ত্বার সাথে এক্স ম্যানরা পরিচিত নয়। আগের দুইটি মুভিতে এক্স ম্যানদের হয়ে কাজ করা জ্বিন এবার ম্যাগনিটোর দলে। এক্স ম্যানরা কি পারবে জ্বিনের ধ্বংসলীলা থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে ? IMDb তে মুভিটির রেটিং ৬.৮/১০।

X-Men Origins: Wolverine

এক্স ম্যান সিরিজের চতুর্থ মুভি X Men Origins: Wolverine পরিচালনা করেন গেভিন হুড। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ১০৪ মিনিটের এই মুভিতে লোগানের কাহিনী দেখানো হয়েছে। X Men-এ লোগানকে পাওয়া গিয়েছিল স্মৃতিভ্রষ্ট অবস্থায়। ১৫ বছর ধরে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিল সে। এই মুভিতে তার গল্প বলা হয়, তার স্মৃতি হারানোর পেছনের কাহিনী দেখানো হয়। কর্ণেল উইলিয়াম স্টাইকারের (Danny Huston) সাথে তার শত্রুতা, তার শরীরে সেই ভয়াবহ অপারেশানের মাধ্যমে বসানো উত্তপ্ত ধাতু বসানো, তার ভাই ভিক্টর ক্রেডের (Liev Schreiber) সাথে তার শত্রুতার শুরু, তার স্ত্রী কায়লা সিলভারফক্সের (Lynn Collins) মৃত্যু এবং সবশেষে তার স্মৃতি হারানোর কাহিনী দেখানো হয়। IMDb তে মুভিটির রেটিং ৬.৮/১০।

X-Men: First Class

এক্স ম্যান সিরিজটা শুরু হয়েছিল একটি অসমাপ্ত কাহিনী থেকে। প্রথম মুভি X Men এ অনেক কিছু দেখানো হয়নি। এখানে সেই ব্যাপারগুলো দেখানো হয়। চার্লস আর এরিক তখন বন্ধু ছিল, তাদের সাথে ছিল এক অসাধারণ তরুণ বিজ্ঞানী হ্যাঙ্ক, যে সেরিব্রো তৈরি করে। এই মুভিতে কিছুটা ইতিহাসও ঢুকানো হয়। ১৯৬২ সাল, আমেরিকা আর রাশিয়ার মধ্যে তখন টান টান উত্তেজনা, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আবশ্যম্ভাবী- ঠিক সেই সময়ের কাহিনী। তখন এক্স ম্যানদের প্রথম টিম টা গঠিত হয়। তারপর টিম ভেঙ্গে এরিক কিভাবে ম্যাগনিটো হল, চালর্সের বোন রেভেন মিস্তিক নাম নিয়ে কেন ম্যাগনিটোর সাথে যোগ দিল, এক্স ম্যানদের ভেতর কিভাবে দলাদলি শুরু হল এসব দেখানো হয়। এখানে তরুণ চালর্স চরিত্রে অভিনয় করেন James McAvoy, ম্যাগনিটো চরিত্রে Michael Fassbender আর মিস্তিক চরিত্রে Jennifer Lawrence. ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটির পরিচালক ছিলেন Mattew Vaughn. ১৩২ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটির IMDb রেটিং ৭.৮/১০।

The Wolverine

এক্স ম্যান সিরিজের তৃতীয় মুভি The Last Stand এর পর থেকে এর কাহিনী শুরু হয়। জ্বিনকে নিজ হাতে খুন করে লোগান পাগল প্রায়, কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। একদিন সে জানতে পারে জাপানের একজন মৃত্যুপথযাত্রী সৈনিক (Master Yashida) তাকে একবার শেষবারের মত দেখতে চায় যাকে সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নাগাসিকায় ভয়াবহ নিউক্লিয়ার বোমা বিস্ফোরণে অনিবার্য মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। মৃত্যুপথযাত্রী সৈনিকের শেষ ইচ্ছা পূরণে লোগান বিমানে চেপে বসে, সাথে থাকে তার সর্বক্ষণিক সঙ্গী ইয়্যুকিও (Rila Fukushima). কিন্তু জাপানে পৌঁছেই লোগান এক ভয়ংর ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়। লোগান কি পারবে সেই ষড়যন্ত্রের জাল চিহ্ন করে বেরিয়ে আসতে নাকি এখানেই তার খেল ক্ষতম ? ১২৬ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটি পরিচালনা করেন জেমস ম্যাঙ্গোল্ড। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির IMDb রেটিং ৬.৮/১০।

X-Men: Days of Future Past

সম্ভবত এক্স ম্যান সিরিজের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি এটি। দীর্ঘ বিরতির পর এই ছবির মাধ্যমেই আবার এক্স ম্যান সিরিজে ফিরেন পরিচালক ব্রায়ান সিঙ্গার। এই মুভির প্লটটি ছিল দুর্দান্ত, আগের সবগুলো কাহিনীকেই বদলে দেয় এটি। First Class এর পর থেকে এর কাহিনী শুরু হয়। First Class এর পর ম্যাগনিটো, মিস্তিক আর তাদের সকল সঙ্গীরা ড. টাস্কের হাতে ধরা পড়ে। টাস্ক দীর্ঘদিন ধরে মিউটেন্টদের উপর গবেষণা করছিলেন। সঙ্গীদের করুণ মৃত্যু মিস্তিক মেনে নিতে পারে নি। সে ড. টাস্ককে হত্যা করতে গিয়ে ধরা পড়ে। তার ডিএনএ দিয়ে বানানো হয় ভয়ানক কিলিং মেশিন যা মিউটেন্টদের ভবিষ্যতকে বিপন্ন করে তুলে, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় মিউটেন্টরা। ভবিষ্যতকে বাঁচাতে মিউটেন্টরা সবাই মিলে লোগানকে অতীতে পাঠায়, ৫০ বছর অতীতে। লোগান কি পেরেছিল মিউটেন্টদের বাঁচাতে ? ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ১৩১ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটির IMDb রেটিং ৮.২/১০ যা এক্স ম্যান সিরিজের মুভিগুলোর মাঝে সর্বোচ্চ।

২০১৬ সালে এক্স ম্যান সিরিজের অষ্টম মুভি X Men: Apocalypse মুক্তি পাওয়ার কথা আছে। অ্যাডভেঞ্চার, সায়েন্স ফিকশন, অ্যাকশন আর ফ্যান্টাসি সম্বলিত এই অসাধারণ সিরিজটি মিস করে যান নি তো ?

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

১০ অনন্য সাধারণ বাংলাদেশী চলচ্চিত্র- আপনি দেখেছেন কি?-২য় পর্ব

bd muvi 2বাংলাদেশী চলচিত্র নিয়ে আমি আমার আগের আর্টিকেলে এমন কিছু চলচ্চিত্রের কথা বলেছিলাম যেগুলো শুধু এদেশের মানুষের মনই জয় করে নেয় নি, বিশ্বব্যাপীও ব্যাপক প্রশংশিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের সেরা ছবির তালিকাটা সেখানেই শেষ নয়। আজ আমি পরামর্শ.কমের পাঠকদের জন্য আরো কিছু অসাধারণ বাংলাদেশী মুভির কথা বলব যেগুলো সত্যিই বিশ্বমানের।

 দীপু নাম্বার টুঃ মুহাম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে শিশুতোষ এই চলচিত্রটি পরিচালনা মোরশেদুল ইসলাম। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় ছবিটিতে অভিনয় করেন বুলবুল আহমদ, ববিতা, আবুল খায়ের এবং গোলাম মোস্তফা। দীপুর বাবার বদলীর চাকরি। ছোটবেলায় তার বাবা-মার ডিভোর্স হয়ে যাওয়ায় সে তার বাবার সাথে থাকে, তার সাথেই দেশের নানান প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়। এজন্য তার এক বছর কাটে এক স্কুলে। সম্প্রীতি সে যে স্কুলে এসেছে সেখানে আগেই দীপু নামের একজন থাকায় তার নাম হল দীপু নাম্বার টু ! দীপু এবং তার বন্ধুদের নিয়েই এই ছবি। দীপু চরিত্রে অরুণ আর তারেক চরিত্রে শুভাশীষের অভিনয় এদেশের শিশু-কিশোররা অনেক দিন মনে রাখবে। এখনো দেশে নির্মিত শিশুতোষ চলচিত্রের কথা আসলে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া ১৫৩ মিনিটের এই ছবিটির কথাই সবার আগে আসে।

শ্রাবণ মেঘের দিনঃ হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে এই ছবিটি পরিচালনা করেন হুমায়ূন স্যার নিজেই। জাহিদ হাসান, শাওন, মাহফূজ আহমেদ, আনোয়ারা, গোলাম মোস্তফা এবং মুক্তি এই ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করেন। এই ছবিতে ব্যবহৃত গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। একটা ছিল সোনার কন্যা, শুয়াচান পাখি, পূবালী বাতাসে, আমার ভাঙ্গা ঘরের মত গানগুলোর জৌলুস এখনো কিছুটা কমেনি বৈকি। নুহাশ চলচিত্র প্রযোজিত এই ছবিটি ১৯৯৯ সালে মুক্তি পায়।

চিত্রা নদীর পাড়েঃ ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর পূর্ব বাংলার হিন্দু ও মুসলমানদের জীবনে এর যে বিরূপ প্রভাব পড়েছিল, তাকে উপজীব্য করেই এই ছবির কাহিনী আবর্তীত হয়েছে। পরিচালক তানভীর মোকাম্মেলের রচনা ও পরিচালনায় ১১০ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায়। আফসানা মিমি, তৌকির আহমেদ, মমতাজউদ্দিন আহমদ, রওশন জামিল প্রমুখ এতে অভিনয় করেছেন। ছবিটি একাধিক বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায়।

লাল সালুঃ সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর উপন্যাস অবলম্বনে লালসালু ছায়াছবিটি পরিচালনা করেন তানভীর মোকাম্মেল। একাধিক জাতীয় পুরস্কার পাওয়া এই ছবিতে অভিনয় করেন তৌকির আহমেদ, চাঁদনী, রাইসুল ইসলাম আসাদ, চিত্রলেখা গুহ, রওশন জামিল, আলী জাকের প্রমুখ। ধর্মভীরু বাঙালীকে ধর্মের দোহাই দিয়ে কত সহজে যে প্রতারিত করা যায় এই ছবিতে মূলত তাই দেখানো হয়েছে। ১১০ মিনিট দৈর্ঘের ছবিটি ২০০১ সালে মুক্তি পায়।

মাটির ময়নাঃ তারেক মাসুদ পরিচালিত মাটির ময়না প্রথম বাংলাদেশী ছবি হিসেবে আন্তর্জাতিক কান চলচিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয় এবং এখনো পর্যন্ত একমাত্র বাংলাদেশী চলচিত্র হিসেবে ‘সেরা বিদেশী ভাষার চলচিত্র’ বিভাগে অস্কারে মনোনয়ন পাওয়া ছবি। মজার ব্যাপার হচ্ছে- ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত এই ছবিটি বিএনপি-জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিল ! ষাটের দশকের শেষভাগে ধর্ম ও দেশপ্রেমের দৌলাচালে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবার করুণ কাহিনী দেখানো হয়েছে এতে। ছবিটিতে জয়ন্ত চটোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, নুরুল ইসলাম বাবলু, মঈন আহমেদ, আব্দুল করিম প্রমুখ অভিনয় করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছবিটিকে ৮ টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার প্রদান করা হয়।

হাজার বছর ধরেঃ জহির রায়হানের অমর উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’ অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিটি পরিচালনা করেন তারই সহধর্মিনী এককালের দর্শকনন্দিত অভিনেত্রী কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। সরকারি অনুদানে নির্মিত এই ছবিটিতে অভিনয় করেন সুচন্দা নিজে, রিয়াজ, শশী, শাহনূর এবং এ টি এম শামসুজ্জামান। ২০০৫ সালে নির্মিত ১৪০ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটি ৬ টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার এবং ৪ টি ক্যাটাগরিতে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জ়ন করে। এছাড়াও ছবিটির জন্য সুচন্দাকে আমেরিকার ‘ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটি’ প্রশংসাসূচক শুভেচ্ছাসনদ প্রদান করে।

মনপুরাঃ গিয়াসউদ্দিন সেলিমের রচনা ও পরিচালনায় এই ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন চঞ্চল চৌধুরী ও ফারহানা মিলি। এছাড়া মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, শিরীন আলম এবং মনির খান শিমুলের অভিনয় ছিল দেখার মত। প্রেম, বিরহ, কুসংস্কার এবং গ্রামীণ পারিবারিক ষড়যন্ত্রই ছিল এই ছবির মূল উপজীব্য। অর্ণবের সঙ্গীতায়োজনে এই ছবির গানগুলো ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয় হয়েছিল। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ১৩৮ মিনিটের মনপুরা ৫ টি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। IMDb তে ৮.২/১০ রেটিং পাওয়া ছবিটি ভারতে রিমেক হওয়ার কথা রয়েছে।

রানওয়েঃ ধর্মকে ঢাল বানিয়ে জঙ্গিবাদ কিভাবে বিস্তার লাভ করে প্রয়াত চিত্রপরিচালক তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’তে তাই দেখানো হয়েছে। ছবিটি যৌথভাবে রচনা করেছেন তারেক মাসুদ ও তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, এর চিত্রগ্রাহক ছিলেন তারেক মাসুদের দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং তার সাথে একই সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত প্রয়াত মিশুক মনীর। ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ৯০ মিনিটের এই ছবিতে অভিনয় করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, নাজমূল হুদা বাচ্চু, মোসলেম উদ্দীন, নাসরিন আক্তার এবং রিকিতা নন্দীনী শিমু।

মনের মানুষঃ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘মনের মানুষ’ পরিচালনা করেন ভারতের বিখ্যাত পরিচালক গৌতম ঘোষ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটিতে অভিনয় করেন প্রসেনজিৎ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, চঞ্চল চৌধুরী, শুভ্র কুন্ড, পাওলি ধাম এবং চম্পা। ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ১৫০ মিনিট দৈর্ঘের ছবিটি ভারতে ডিস্ট্রিবিউশন করে ভেস্কটেশ ফিল্মস প্রাঃ লিঃ এবং বাংলাদেশে ইমপ্রেস টেলিফিল্মস। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেই ছবিটি প্রশংসিত হয়েছে।

গেরিলাঃ সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ লেবান’ অবলম্বনে গেরিলা ছবিটি পরিচালনা করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই ছবিতে অভিনয় করেন ফেরদৌস, জয়া আহসান, এ টি এম শামসুজ্জামান, শম্পা রেজা, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীষূজ বন্দোপাধ্যায়, আহমেদ রুবেল এবং শতাব্দী ওয়াদুদ। ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ১৪০ মিনিটের এই ছবিটি ‘১৭তম আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচিত্র উৎসবে’ এশিয়ার সেরা চলচিত্রের মর্যাদা পায়। জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও রেকর্ড গড়ে গেরিলা, সর্বোচ্চ ১০টি শাখায় পুরস্কৃত হয়।

তথ্যসূত্র
ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট
উইকিপিডিয়া
ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ (IMDb)

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

১০ অনন্য সাধারণ বাংলাদেশী চলচ্চিত্র- আপনি দেখেছেন কি?

bd muvi 1আমি তো সব সময় বাইরের ছবিগুলো নিয়ে লিখি। তবে আজ ভাবলাম আমাদের দেশী ছবি নিয়ে লিখব। বাংলাদেশী চলচিত্র নিয়ে লিখতে গিয়ে আমি অবাক হয়ে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি- আগে আমাদের দেশে যথেষ্ট ভাল ভাল মুভি হত। আমাদের প্রযুক্তি ততটা উন্নত ছিল না, কিন্তু আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রী আর পরিচালকরা যথেষ্ট প্রতিভাবান ছিলেন। তারা তাদের স্বীয় দক্ষতা দিয়ে প্রযুক্তিগত অপ্রতুলতাটুকু ঢেকে দিয়েছিলেন। দিন দিন আমাদের প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে আর মুভির মান পড়েছে।

তারপরও আমাদের কিছু মাস্টারপিস মুভি আছে যেগুলো বিশ্বের যেকোন দেশের চলচিত্রের সাথে টেক্কা দিতে সক্ষম। ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট, উইকিপিডিয়া, কয়েকটি বাংলা ব্লগ এবং ইন্টারনেট মুভি ডাটাবেজ ঘেঁটে সে মুভিগুলোর কথা পরামর্শ.কমের পাঠকদের জানাতেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

 জীবন থেকে নেয়াঃ জহির রায়হানের প্রযোজনা ও পরিচালনায় ১৯৭০ সালের ১০ই এপ্রিল “জীবন থেকে নেয়া” চলচিত্রটি মুক্তি পেয়েছিল। ভাষা আন্দোলন, তৎকালীন দেশের অশান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প চিত্রিত হয়েছে এই ছবিতে। এই ছবিতেই প্রথম “আমার সোনার বাংলা” গানটি চিত্রিত হয়েছিল যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ছবিটির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন খান আতাউর রহমান। এতে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, বেবি জামান, রওশন জামিল, আনোয়ার হোসেন সহ আরো অনেকে। জহির রায়হান নির্মিত সর্বশেষ চলচিত্র ছিল এটি।

ওরা ১১ জনঃ চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ১৯৭২ সালে নির্মিত এই ছবিটিকে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত সেরা ছবি বলে বিবেচনা করা হয়। রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, আলতাফ, মুরাদ, নান্টু বেবী সামাদ, খলিলউল্লাহ খানসহ আরো অনেক নামকরা শিল্পী এতে অভিনয় করেন। কথিত আছে এই ছবির শ্যুটিং এর সময় মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত সত্যিকারের বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল। ছবিটি ১৯৭২ সালে জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার লাভ করে।

ধীরে বহে মেঘনাঃ মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত ‘ধীরে বহে মেঘনা’ ছবিটি রচনা ও পরিচালনা করেন প্রখ্যাত চলচিত্রকার আলমগীর কবীর। এটি ছিল তার পরিচালিত প্রথম ছবি, মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। প্রথম ছবিতেই তিনি জাত চিনিয়েছিলেন। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ, ববিতা, আনোয়ার হোসেন সহ আরো অনেকে।

তিতাস একটি নদীর নামঃ অদ্বৈত মল্লবর্মণের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন পশ্চিম বাংলার নামকরা পরিচালক ঋত্বিক ঘটক। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় ১৯৭৩ সালে নির্মিত এই ছবিটিকে ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট সর্বকালের সেরা ১০ বাংলা ছবির তালিকায় স্থান দিয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন গোলাম মোস্তফা, কবরী, রোজী সামাদ, প্রবীর মিত্র সহ অনেক বিখ্যাত শিল্পী।

সীমানা পেরিয়েঃ এই ছবির কাহিনীটি আপনার পরিচিত মনে হবে। জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়ে দুজন মানব মানবী ভাসতে ভাসতে এক নির্জন দ্বীপে এসে পড়ে। তারপর জন-মানবহীন সে দ্বীপে তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম শুরু হয়। বহুদিন পর নৌবাহিনীর একটি টহল জাহাজ তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে মূল ভূ-খন্ডে নিয়ে আসে। সাথে কিছু পারিবারিক নাটকীয়তা ছবিটিকে করেছে অনন্য। কি, কাহিনীটি পরিচিত না ? একই রকম কাহিনী নিয়ে পৃথীবীর নানা দেশে আরো অনেক ছবি তৈরি হয়েছে। ১৯৭৩ সালে নির্মিত ছবিটির পরিচালক ছিলেন আলমগীর কবীর আর এতে অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ, জয়শ্রী কবীর, তনুজা ও গোলাম মোস্তফা। গুরত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অতিথি শিল্পী হিসেবে আরো অভিনয় করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ভূপেন হাজারিকা।

রূপালী সৈকতেঃ ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটিকে পরিচালক আলমগীর কবীরের জীবনের সেরা কাজ বলে গণ্য করা হয়। কথিত আছে- এই ছবিটি তিনি নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে তৈরি করেছেন। এতে অভিনয় করেছেন- বুলবুল আহমেদ, জয়শ্রী কবীর, আনোয়ার হোসেন, শর্মিলী আহমেদ, অঞ্জনা রহমান সহ আরো অনেকে। ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট বাংলাদেশের সর্ব কালের সেরা ১০ চলচিত্রের মাঝে এটিকেও স্থান দিয়েছে।

সূর্য দীঘল বাড়ীঃ আবু ইসহাকের উপন্যাস অবলম্বনে ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ চলচিত্রটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী। ১৯৭৯ সালে নির্মিত ছবিটিতে ডলি আনোয়ার, জহিরুল হক, রওশন জামিল, কেরামত মাওলা, এ টি এম শামসুজ্জামান সহ আরো অনেকেই অভিনয় করেন। ১৯৮০ সালে জার্মানির ‘ম্যানহেইম চলচিত্র উৎসবে’ অংশ নিয়ে ছবিটি ৩টি ক্যাটাগরিতে পুরষ্কৃত হয়। এছাড়া পর্তূগালের ‘ফিগুয়েরা চলচিত্র উৎসব’ থেকেও একটি পুরষ্কার ছিনিয়ে আনে ছবিটি। বাংলাদেশের প্রথম সরকারি অনুদানে নির্মিত ছবিটি জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কারও লাভ করে।

বেদের মেয়ে জ্যোৎস্নাঃ ঐতিহাসিক কাহিনী নির্ভর ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’ বাংলাদেশের চলচিত্র ইতিহাসের অন্যতম ব্যবসাসফল ছবি। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছবিটি ১.৫ কোটি টাকা আয় করে। তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত এই ছবিটিতে ইলিয়াস কাঞ্চন, অঞ্জু, ফারজানা ববি, নাসির খান, প্রবীর মিত্র, রওশন জামিল, দিলদার সহ আরো অনেকেই অভিনয় করেন। ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটের বিচারে বাংলাদেশের সেরা ১০ চলচিত্রে স্থান পাওয়া এই ছবিটিকে পরে ভারতে রিমেক করা হয়।

পদ্মা নদীর মাঝিঃ মানিক বন্দোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছবিটি পরিচালনা করেন প্রখ্যাত ভারতীয় চলচিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ। এতে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের রাইসুল ইসলাম আসাদ, চম্পা ও হুমায়ূন ফরিদী আর ভারতের রবি ঘোষ এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ছবিটি বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেই জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার লাভ করে।

আগুনের পরশমনিঃ হুমায়ূন আহমদের উপন্যাস অবলম্বনে এবং তারই পরিচালনায় ১১৯৪ সালে নির্মিত ‘আগুনের পরশমনি’ বাংলাদেশের অন্যতম সেরা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচিত্র। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গেরিলা সংগঠন ‘ক্রাক প্লাটুনের’ একটি সত্য অভিযান অবলম্বনে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়ান, আবুল হায়াত এবং ডলি জহুর। সরকারি অনুদানে নির্মিত এই ছবিটি ১৯৯৪ সালে ৮টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরষ্কার জিতে নেয়। IMDb তে মুভিটির রেটিং ৮.৭/১০ এবং রটেন টম্যাটোসে ৬২% দর্শক ছবিটি দেখার ইচ্ছা পোষণ করেন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

অসাধারণ কিছু মানবিক চলচিত্র যেগুলো আপনাকে কাঁদতে বাধ্য করবে

Some Movies That Will Make You Cry

একটি সার্থক চলচিত্র আপনি কাকে বলবেন ? প্রযোজকের পকেটে কোটি কোটি ডলার এনে দিয়ে বক্স অফিস মাতানো ছবিকে ? নাকি যে ছবিটি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে, আপনাকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে, আপনার মনে একটুখানি বিষাদের জন্ম দেবে- তাকে ?
আজ আপনাদের আমি বিশ্বসেরা ৫টি চলচিত্রের কথা বলব যেগুলো বক্স অফিসে হয়ত খুব একটা নাম কামাতে পারেনি, কিন্তু বিশ্বব্যাপী মানুষের ভালবাসা জয় করেছে। এই মুভিগুলো আপনাকে কাঁদাবে, তবে ভেঙ্গে পড়তে দেবে না। প্রতিনিয়ত কঠিন সংগ্রামের পথে আপনাকে নিরলস অনুপ্রেরণা যোগাবে।

Departures (ডিপার্চারস)

মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নির্মিত সবচেয়ে হৃদয় স্পর্শী মুভির নাম ডিপার্চারস। হঠাৎ করে চাকরি হারানো প্রতিভাবান যন্ত্র-বাদক দাইগোর টোকিও ছেড়ে পিতৃ ভিটায় আশ্রয় নেয়া, পেশা বদলে মৃত মানুষের শেষকৃত্যের আগে সাজ-সজ্জার নতুন পেশা গ্রহণকে কেন্দ্র করে মুভির ঘটনা এগিয়ে যেতে থাকে। শেষ দিকে এসে দাইগো খুঁজে পায় নিজের জন্মদাতা বাবাকে। বাবাকে নিয়ে তার অনেক অভিমান। ছোটবেলায় পিতাকে হারিয়ে ফেলা দাইগোর মনস্তত্ব এবং পিতা-সন্তানের ভালবাসার গভীরত্ব আপনাকে অশ্রুসিক্ত করে তুলবে। আবহ সংগীতের অভিনবত্ব আপনাকে মোহাবিষ্ট করে রাখবে পুরোটা সময় জুড়ে। নিজের অজান্তেই বুকের ভেতর জমা হবে চাপা কষ্ট। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই জাপানি ছবিটি একটি অস্কার জিতেছিল। ড্রামা জেনারের এই ছবিটির IMDb রেটিং ৮.১/১০।

Ballad of a Soldier (ব্যালাড অফ অ্যা সোলজার)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপর নির্মিত এই রাশিয়ান মুভিটিকে ঠিক যুদ্ধের ছবি বলা যায় না। যুদ্ধের ছবিগুলোতে সাধারণত যেটা দেখা যায়- প্রচুর অ্যাকশন, এই ছবিটি ঠিক তেমন না। বরং ছবিতে দেখানো হয়েছে যুদ্ধের ভয়াবহতা, পারিবারিক আবেগ আর মায়ের প্রতি সন্তানের গভীর ভালবাসা। বিশেষ করে ১৯ বছরের তরুণ সৈনিক আলিয়োশা যখন টানা পাঁচ দিনের ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে মায়ের বুকে কেবল একটি বার মাথা রাখার সুযোগ পায়, তখন অশ্রু ধরে রাখা কার সাধ্য ? IMDb তে ৮/১০ রেটিং পাওয়া ১৯৫৯ সালে নির্মিত এই ছবিটির রাশিয়ান নাম Ballade Du Soldat.

The Colour of Paradise ( দ্য কালার অফ প্যারাডাইস)

একটি বাচ্চা ছেলেকে ঘিরে এই ছবির গল্প। একটি বাচ্চা ছেলে, নাম মুহাম্মদ, যে কিনা চোখে দেখতে পায় না, সামারের ছুটিতে তার বাবার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, তার বাবা তাকে বাড়িতে নিতে আসার কথা, যেখানে তার জন্য তার দাদী আর ছোট বোন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে। এক সময় সে বুঝতে পারে পরিবারের কাছে সে একটা বোঝা। অভিমানে ঢুঁকরে কেঁদে উঠে সে, এই অভিমান নিয়েই পৃথিবী ছাড়ে। পার্সিয়ান এবং আজার্বাইজানি ভাষায় নির্মিত ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া এই ইরানি ছবিটি IMDb তে ৮.২/১০ রেটিং পেয়েছিল।

Innocent Voices (ইনোসেন্ট ভয়েসেস)

‘ইনোসেন্ট ভয়েসেস’ ড্রামা ঘরানার একটি যুদ্ধভিত্তিক মুভি। মধ্য আমেরিকান প্রজাতন্ত্র এল সালভাদরে গৃহযুদ্ধে শিশুরা যে নির্মমতা আর নৃশংসতার শিকার হয়েছিল, এই ছবিতে তাই দেখানো হয়েছে। ডিরেক্টর লুইস মান্ডকি এই মুভিটির মাধ্যমে যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে ক্ষমতালোভী শাসক গোষ্ঠীকে একটা বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, বলা যায় এই ক্ষেত্রে তিনি শতভাগ সফল। ১১ বছর বয়সী শাভা চরিত্রে কার্লোস পাডিল্লার দূর্দান্ত অভিনয় আপনাকে নির্ঘাত কাঁদাবে। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ১২০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ম্যাক্সিকান ছবিটির INDb রেটিং ৮/১০।

Bicycle Thieves (বাইসাইকেল থিভস)

নাম দেখে এটিকে কোন সাই-ফাই ধর্মী মুভি মনে করলে আপনি মস্ত বড় একটা ধরা খাবেন। মুভিটিতে একজন চোরের গল্প বলা হয়েছে, যে আসলে ঠিক চোর নয়- একজন অসহায় পিতা। ট্রিপিক্যাল মধ্যবিত্ত পরিবারের চিরন্তন কাহিনী বলা হয়েছে- যেখানে অভাব বোধ, নৈতিকতা আর আত্মসম্মানবোধ সদা সংঘর্ষে লিপ্ত। দারিদ্রের কাছে অসহায় পিতা অ্যান্টোনিওকে চৌর্যবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত হতে দেখে ছোট্ট ছেলে ব্রুনোর নিষ্পাপ অশ্রুসজল মুখচ্ছবি আপনার কাঁদিয়ে ছাড়বে। ১৯৪৮ সালে নির্মিত ৯৩ মিনিটের এই ইটালিয়ান ছবিটি IMDb তে ৮.৪/১০ রেটিং পেয়েছিল।

A Moment To Remember (অ্যা মোমেন্ট টু রিমেম্বার)

রোমান্টিক মুভি নির্মাণে কোরিয়া বরাবরই বিশ্বসেরা। কোরিয়ান মুভির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এই মুভিগুলো আপনাকে হাসাবে, আপনাকে কাঁদাবে, আপনাকে ভালবাসার সকল রঙ দেখাবে এবং সবশেষে মারাত্মক কোন টুইস্ট দিয়ে আপনাকে বাকরুদ্ধ করে দেবে। ‘অ্যা মোমেন্ট টু রিমেম্বার’ মুভিটিও তার ব্যতিক্রম নয়। যারা প্রেমে পড়েছিলেন, পড়বেন বলে ভাবছেন, কিংবা পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছেন তারা এই ফিল্ম মিস করবেন না, করা উচিত হবে না। দেখতে দেখতে মনে হবে- আহ ! জীবন কত সুন্দর ! তবে শেষটা দেখে আপনি স্তব্ধ হয়ে যাবেন। যতই কঠিন হৃদয়ের অধিকারী হোন না কেন, এই মুভিটি আপনার চোখ অশ্রু সজল করতে বাধ্য। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ১১৭ মিনিটের এই অসাধারণ ছবিটির IMDb রেটিং ৮.৩/১০।

আরো পড়ুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।