ব্যবসায়িক ব্যর্থতার কারণ জানুন,সফলতাকে রাখুন হাতের মুঠোয়

Smiley-IT-Business-Planজীবনে সফলতার জন্য প্রয়োজন লক্ষ্য স্থির করা (set a goal)। সে লক্ষ্যের সাথে জড়িত সকল কিছু সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা। যারা নিজেকে সফল ব্যবসায়ী (successful businessman) রুপে দেখতে চান। তাদের প্রথমেই ঠিক করা উচিত কোন ধরণের ব্যবসার সাথে যুক্ত হবেন। কেননা সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে শুরুতে ঘাটতি আর শেষে লাল বাতি জ্বলবে ।

যে বিষয়গুলো ব্যবসায়িক ব্যর্থতার জন্য দায়ী

যে কোন ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করার আগে তার প্রতিবন্ধকতা সমূহ চিহ্নিত করা বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা এটি বাধা অতিক্রম করার সক্ষমতা দেবে এবং মূলধণ ও সফলতাকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলতে সাহায্য করবে।

দূর্বল ব্যবস্থাপনা (poor management)

যেকোন ব্যবসায় ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হলো ব্যবস্থাপনায় দূর্বলতা। নতুন ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে এটি বেশ লক্ষ্যণীয়। মূলধন (capital) যোগান, দ্রব্য ক্রয়, বিক্রয়, উৎপাদন এবং লোকজন নিয়োগ দেয়া তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাব থাকলে খুব শীঘ্রই লোকসানের মুখ দেখতে হবে। তাই ব্যবসায়ী এবং কর্মচারী উভয় শিক্ষিত হওয়া, নিয়োগ পরবর্তী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, প্রতিদিনের বাজার ধরণ ও ক্রেতার চাহিদা বোঝা, বিভিন্ন রকমের জালিয়াতি ও প্রতারনার ব্যাপারে সজাগ থাকা জরুরী।

অপর্যাপ্ত মূলধন (insufficient capital)

অপ্রতুল মূলধন নিয়ে কোনপ্রকার ব্যবসা উঠে দাঁড়াতে পারে না। বরং মুখ থুবড়ে পড়তে হয়। ব্যবসা আরম্ভ করার সাথে সাথে রমরমা হবে তা ভাবা উচিত নয়। বরং মাথায় রাখতে হবে ব্যবসায় স্থির হতে এক বা দুই বছর লেগে যেতে পারে। সেজন্য ব্যবসার প্রাথমিক খরচ, বাজারের আবহাওয়ার সাথে ব্যবসাকে খাপ খাওয়ানোর মত তৎক্ষণাৎ অর্থের যোগানের পরিমাণ হিসেব করতে হবে। কেননা যতদিন পর্যন্ত না বিক্রয়মূল্য সকল খরচ এর সমমূল্য অতিক্রম করছে অর্থাৎ লাভ হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মূলধন প্রস্তুত রাখতে হবে।

অনুপযুক্ত স্থান (imperfect location)

ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী স্থান নির্বাচন করা না হলে দক্ষ ব্যবস্থাপনা কিংবা মোটা অংকের মূলধণ ব্যবসায় ধস ঠেকাতে পারে না। তাই প্রথমে দেখতে হবে আপনার পণ্যের (product) প্রতি মানুষের চাহিদা কেমন, এর ক্রেতার সমাগম কোথায় বেশি,আশে পাশে অন্য কেউ একই ব্যবসায় আছে কিনা,আপনার প্রতিষ্ঠান ভবনের অবস্থা ও নিরাপত্তা কেমন,তার সাথে সংযুক্ত রাস্তার পার্কিং সুবিধা ও ট্রাফিক সব কিছু বিবেচনা করতে হবে।

পরিকল্পনার ঘাটতি (lack of planning)

সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া কোন কিছু অর্জন সম্ভব হয় না। পরিকল্পনার উপর কাজের অর্ধেক সাফল্য-ব্যর্থতা। সেক্ষেত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিভাবে পরিচালিত হবে (strategy),আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসেব, বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া (marketing),যথাযথ প্রচারমূলক কার্যক্রম,বাজেট বন্টন (budget) ,ব্যাংকিং লেনদেন (transaction) সব কিছু পরিকল্পনার আওতায় রাখতে হবে।

অতিরিক্ত সম্প্রসারণ (overexpansion)

ব্যবসায় একটু লাভ হলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত দুর্দিন ঢেকে আনে। কেননা বাজারের উঠানামা ও মানুষের চাহিদা সব সময় এক থাকে না। তাই আগে নির্ভরযোগ্য ক্রেতা তৈরী করতে হবে এবং মূলধণের দিক থকে শক্ত অবস্থান তৈরী করতে হবে।

প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও নতুনত্বের অভাব (lack of technology)

যুগের সাথে তা্ল মিলিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আধুনিক করতে হবে যেমনঃ পণ্যের বিজ্ঞাপন। নতুবা অনেক কিছু হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে যেমন- ক্রেতা,প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের পরিচিতি ইত্যাদি। যদি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থাকে এবং সেখানে পণ্যের ধরণ-মান,সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ থাকে তবেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সঠিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার অভাবে অনেক উদ্যোগ (entrepreneurship) থেমে যায়। কতশত প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়ে দুই বছর/পাঁচ বছরে বন্ধ হয়ে যায়। সঠিক জ্ঞান ও সচেতন থাকলে সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হওয়া সহজ হয়।

আরো পড়ুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

আপনি কি প্রস্তুত নিত্য নতুন আইডিয়া ভিত্তিক ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য?

innovative ideaএকটা ইনোভেটিভ বা সম্পূর্ণ নতুন ধরণের আইডিয়া বা ধারণা (innovative idea) একজন আন্ডারগ্রাজুয়েট বা স্নাতক পাশ শিক্ষার্থীর জীবন, তার ক্যারিয়ার, গোটা একটা সমাজ, এমনকি একটা দেশ বদলে দিতে পারে; বদলাতে পারে পুরো ব্রহ্মাণ্ডকেও। পশ্চিমারা যেখানে হন্যে হয়ে লেগেছে আইডিয়ার পেছনে সেখানে আমরা এখনো খুঁজি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার এর মত সহজলভ্য (মাঝে মাঝে দুষ্প্রাপ্য) এবং আরামদায়ক ক্যারিয়ার।

আমাদের এখানে এইচএসসি পাশের পরই একটা তরতাজা যুবকের মগজে ঢুকিয়ে দেয়া হয় তুমি ডাক্তার হও, না হয়ত ইঞ্জিনিয়ার হও, কমার্স এ পড়লে ব্যাংকার হও। জগতের আর সবকিছু এগুলোর নিচে। সত্যটা অনেকের অজানা রয়ে যায়, অনেকে হয়তো জানতে পারে তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।

বাস্তব হলো- পৃথিবী চলছে এখন আইডিয়া বা ধারণার উপর। তোমার ইউনিক(নিজের) কোনো আইডিয়া আছে? নতুন কিছু করার চেষ্টা আছে? তুমি আত্মবিশ্বাসী? ব্যাস- হয়ে গেল। কথা বিশ্বাস হচ্ছে না? ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব বর্তমানের এই তিনটি সেরা টেকজায়ান্ট এর ইতিহাস পড়। বুঝতে পারবে।

pappuu-imageক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল আইডিয়া (creative idea) হলে তোমাকে কেউ থামাতে পারবেনা, টাকা তোমার পথের বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না, তোমার বিগত পরীক্ষার খারাপ ফলাফল তোমাকে ঘামাবে না আসলে এগুলো মুখ্য নয়, এগুলো গৌণ। আমাদের শেখানোই হয়েছে বা হচ্ছে উল্টোভাবে। যেখানে হংকং, সাংহাইয়ের ম্যাট্রিক/এস এস সি (সমমান) পাশ করা ছেলেমেয়েরা তৈরি করছে নতুন নতুন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন সেখানে আমাদের ম্যাট্রিক পাশ ছেলেমেয়েরা সেই অ্যাপগুলো ব্যবহার করে বিনোদন নিচ্ছে। তারা জানেই না এইগুলো চাইলে তারাও তৈরি করতে পারত (যদি তাদেরকে সেইভাবে গড়ে তোলা হতো)। তাদের বয়সের ছেলেমেয়েরা কত নতুন নতুন ইউনিক অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে কম্পিটিশনে অংশ নিচ্ছে শুধুই মজার জন্য নয়, নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য।

আমরা জানি এবং বিশ্বাসও করি এই দেশে যে আর্টস বা কলা নিয়ে পড়বে সে সবচেয়ে খারাপ মেধার শিক্ষার্থী। এমনকি সেই শিক্ষার্থী নিজেও বিশ্বাস করে সে নিতান্তই মেধাহীন, তার পরীক্ষার ফলাফল ভালো না, তাই সে আর্টস নিয়েছে কল্পনায় পর্যন্ত দেখতে/জানতে পারে না পৃথিবীর কত কত সৃজনশীল ক্ষেত্রে (creative sector) রয়েছে যেগুলো আর্টসের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর, আর্টস বা কলার একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য কত মজার, কত আকর্ষণিয় সব বিষয় পড়ে আছে এই পৃথিবীতে তা আমাদের দেশের ওনেক আর্টস শিক্ষকেরা (বিশেষ করে স্কুল শিক্ষকেরা) নিজেই জানেন না। তারা শুধু জানেন, এখানে কিছু “গাধার পাল” পড়ে, তিনি গাধার পালের রাখাল এই বিষ মগজে ঢুকিয়ে দেয়া হয় স্কুল বেলাতেই।

দোষ দিয়ে লাভ নেই, দোষা-দোষী করে লাভ নেই। সময় হারিয়ে যায় নি। নিজেকে আবার প্রস্তুত করতে হবে আমাদের নিজেদেরকেই শিখতে হবে, জানতে হবে; জ্ঞানবৃক্ষে আরোহণ করতে হবে। দেখতে হবে সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষে উঠলে কি দেখা যায় তবেই নিজের মুক্তি সম্ভব, নিজেদের মুক্তি সম্ভব।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

যে ৫ টি উপায়ে আপনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের অভিযোগ সামলাবেন

Handling-customer-complaintsযে কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের অভিযোগ নিঃসন্দেহে একটি অতীব পীড়াদায়ক ব্যাপার। কিন্তু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মের সুবাদে আপনাকে এইসব গ্রাহকের অভিযোগের বিপরীতে আপনার করণীয় বা অভিযোগ সামাল দেওয়ার ছোটখাটো কৌশল সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন।

১) গ্রাহকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন(listen carefully to what the customer has to say)

কোন রকম তাড়াহুড়া বা বাধা প্রদান ছাড়াই আপনার গ্রাহকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তার বক্তব্য শেষ না হওয়া অবধি অপেক্ষা করুন। সে আপনাকে কোনরূপ আক্রমণ করছে না বরং আপনার সার্ভিস সম্পর্কে তার হতাশার কথাগুলো আপনার সাথে আলোচনা করছেন মাত্র তাই কোন রকম সাফাই গাওয়া ছাড়াই তার বক্তব্য শেষ হওয়ার অপেক্ষা করুন।

২) মার্জিত ও সহানুভূতিশীল ভাষায় আপনার প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করুন(ask questions in a caring and concerned manner)

তার বক্তব্যর বিপরীতে আপনার কোন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকলে সেটা অত্যন্ত মার্জিত ও আন্তরিকতার সাথে তাকে জিজ্ঞেস করুন। যেখানে আপনার নিজের প্রয়োজনে দরকারি ইনফরমেশনগুলো ভোক্তার কাছে থেকে জানতে হবে সেখানে চড়া মেজাজ না দেখিয়ে সহানুভূতিশীল ভাষায় এগোনোয় উত্তম।

৩) কোনরূপ দোষারোপ ব্যতিরেকে গ্রাহকের কাছে ক্ষমা চান(apologize without blaming)

আপনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সুনাম আর গ্রাহক দুইই রক্ষা করতে গ্রাহককে কোন প্রকার দোষ দেওয়া ছাড়াই তাকে সরি বলুন। আপনার এই সহজ একটি শব্দ হাজার সমস্যার সমাধান হিসেবে কাজ করবে।

৪) গ্রাহকের পছন্দসই সমাধান জানতে চান(ask the customer, “What would be an acceptable solution to you”)

সমস্যার দ্রুত সমাধানে আপনার গ্রাহকের ইচ্ছেমত সমাধানের চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে তাকে তার মতামত প্রকাশের সুযোগ দিন, তাকে জানাতে অনুপ্রাণিত করুন কোন উপায়ে সমাধানে গেলে তিনি খুশী হবেন।

৫) সমস্যার সমাধানে আসুন(solve the problem)

আপনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সমস্যার মূলে গিয়ে তা সমাধান করুন। এক্ষেত্রে আপনার প্রথম করণীয় হবে ভোক্তার অগ্রাধিকার দেওয়া। আপনার ভোক্তাকে খুশী রাখতে যা প্রয়োজন সে অনুযায়ী সমস্যার হাল করার চেষ্টা করুন।

আপনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভোক্তার অধিকার আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন। আপনার সার্ভিসের গুনগত মাণ বাড়াতে অভিযোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করুন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

গুগল প্লাসের মাধ্যমে ক্রেতা আকর্ষণ: ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কিছু পরামর্শ

g+ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইনের পাশাপাশি প্রথম সারির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে উচ্চারিত হয় গুগল প্লাসের নামও। আর তাই যে কোন ব্যবসায়ে (google plus for business) ক্রেতা আকর্ষণ করার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে গুগল প্লাস। আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি কিছু পদ্ধতি যার মাধ্যমে সহজেই গুগল প্লাস থেকে ক্রেতা আকর্ষণ করতে পারবেন (how to use google plus to get more clients)।

১. যোগ দিন বিভিন্ন কমিউনিটিতে (join communities):

গুগল প্লাসে (google plus) ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো কমিউনিটি। এর মধ্য থেকে আপনার ব্যবসার সাথে সম্পর্কযুক্ত কমিউনিটিতে (community) যোগ দিন। অথবা নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন নতুন একটি কমিউনিটি। কমিউনিটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। এই কমিউনিটির মাধ্যমে অনেক বেশি মানুষের ধ্যান ধারণা, চাহিদা এবং মতামত জানতে পারবেন, যা আপনার ব্যবসায়ের প্রচার এবং উন্নতির জন্য সহায়ক।

২. ব্যবসার সাথে সম্পর্কযুক্ত পোস্টে কমেন্ট করুন (comment on posts that are relevant):

কমিউনিটিতে থাকা বিভিন্ন মানুষের পোস্টে ইতিবাচক কমেন্ট করুন। এবং চেষ্টা করুন আলোচনাকে তথ্যবহুল করতে। যেহেতু গুগল প্লাস গুগলেরই অংশ তাই কেউ যখন সার্চ করবে তখন এই লেখাগুলোই প্রাধান্য পাবে। অন্যান্য ব্যক্তিদের পোস্টে কমেন্ট করলে দেখা যাবে তারা আপনাকে তাঁদের সার্কেলে যুক্ত করছে। এতে করে আপনার ফলোয়ার বৃদ্ধি পাবে। তবে কমেন্ট করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে তা যেন আপনার ব্যবসার সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়।

৩. হ্যাংআউট হোস্ট করুন (host a hangout):

গুগল প্লাসের হ্যাংআউট (google plus hangout) ব্যবসা প্রসারের জন্য উল্লেখযোগ্য একটি পদ্ধতি। এখানে আপনি নিজে কথা বলতে পারবেন এবং আপনার ব্যবসা সম্পর্কে সরাসরি গ্রাহকদের মতামতও জানতে পারবেন। হ্যাংআউট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। হ্যাংআউট অনেক ব্যক্তির টেক্সট কনভারসেশনের মাধ্যমে যেমন করা যায় তেমনি সরাসরি ভিডিও কনভারসেশনেও যোগ দেয়া যায়। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে হ্যাংআউটে আয়োজন করতে পারেন কোন অনুষ্ঠানের যা আপনার ব্যবসার প্রতিনিধিত্ব করবে। এতে করে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আপনার ব্যবসা সম্পর্কে জানতে পারবে এবং প্রচারেও ভূমিকা রাখবে।

এ ধরণের আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোগ নেয়ার জন্য কিছু পরামর্শ

Small Business Market 720x470কোন ব্যবসায় উদ্যোগ কিন্তু কোটি টাকা দিয়ে শুরু হয় না। শুরু হয় আপনার আমার মত সাধারণ মানুষের সাধারণ স্বপ্ন আর ইচ্ছা শক্তি নিয়ে। আর এই স্বপ্ন সফলতা পায় কিছু মৌলিক বিষয় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে।

যে কোন ব্যবসায় উদ্যোগ নেবার জন্য যে বিষয় পরিপালন করতে হবে তা হলোঃ

  • চাহিদা চিহ্নিত করন
  • বাজার চিহ্নিত করন
  • বাজার গবেষণা
  • পণ্য বা সেবা ধারনা
  • পণ্য বা সেবা উৎপাদন, উপযোগিতা দান  বা সংগ্রহ
  • দাম নির্ধারণ
  • বাজারজাতকরণ
  • পণ্য বা সেবা বিক্রয়
  • ক্রেতা অভিঙ্গতা গবেষণা
  • পণ্য উন্নয়ন
  • অতঃপর পুনরায় পণ্য বা সেবা উৎপাদন, উপযোগিতা দান  বা সংগ্রহ

১) ধরা যাক আপনি ছাত্র-ছাত্রী দের কেন্দ্র করে কোন ব্যবসা করতে চান। তাহলে তাদের চাহিদা হলো খাতা-কলম-বই ইত্যাদি ষ্টেশনারী দ্রব্য। আপনি কিন্তু ইতিমধ্যে ১ম ও ২য় ধাপ পার করে ফেলেছেন। অর্থাৎ চাহিদা হলো চিহ্নিতকরন আর বাজার হল ছাত্র-ছাত্রী।

২) এইবারে ৩য় ধাপে আপনি চিন্তা করুণ এই সকল ছাত্র-ছাত্রী কি ধরনের পণ্য বেশি পছন্দ করে বা ক্রয় করে। খাতা-কলম? কি মানের-দামের খাতা-কলম। তাদের গড় ক্রয় ক্ষমতা কত? ইত্যাদি।

৩) বোধ করি বাজার সম্পর্কে আপনি একটি ধারনা দাঁড় করাতে পেরেছেন। এবার ৪র্থ ধাপে ঠিক করুণ আপনি কি পণ্য বা সেবা নিয়ে বাজারে উপস্থাপন করবেন। আপনি কি পাইকারি বাজারে যা পাওয়া যায় তাই উপস্থাপন করবেন? নাকি নতুন উপযোগিতা সৃষ্টি করে তা বাজারে আনবেন নাকি মূল্য যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন। ধরা যাক আপনি নতুন উপযোগিতা নিয়ে লেখার খাতা বাজারে নিয়ে আসবেন ঠিক করেছেন।

৪) ৫ম ধাপে আপনি যা করবেন তা হল পণ্যের উৎপাদন। আপনি হয়তো শক্ত মলাট যুক্ত বিভিন্ন মনিষীর জীবনী প্রিন্ট-কৃত খাতা তৈরি করলেন।

৫) ৬ষ্ট ধাপে আপনি যা করবেন তা হল ধাম নির্ধারণ। উৎপাদনে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যয় সূক্ষ্ম ভাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং এর যোগফলের উপর যুক্তি সঙ্গত মুনাফা ধরে দাম নির্ধারণ করতে হবে।

৬) ৭ম ধাপে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ করতে হবে। অর্থাৎ পণ্য সম্পর্কে বাজার কে অবহিত করতে হবে, পণ্য কে বাজারে সহজ প্রাপ্য করতে হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে।

৭) ৮ম ধাপে আপনি গুরুত্ব দিবেন পণ্য বিক্রয়ে। নিরবিচ্ছন্ন যোগাযোগ, বিবিধ প্রণোদনার মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়ে সচেষ্ট হতে হবে।

৮) ৯ম ধাপ। বেশির ভাগ সময়ে ৮ম ধাপেই অনেকে ব্যবসায় চক্র সম্পন্ন করেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল। আপনার পণ্য ক্রেতার প্রয়োজন সফল ভাবে মেটাতে পারলো কিনা তা জানার দায়িত্ব আপনার রয়েছে। কারণ, ক্রেতা-পছন্দ না হলে সেই ক্রেতা দ্বিতীয় বার আপনার পণ্য ক্রয় করবে না বরং বাজারে পণ্য সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য ছড়াবে। তাই ক্রেতা অভিঙ্গতা সম্পর্কে জানতে হবে।

৯) ১০ম ধাপে ক্রেতা অভিজ্ঞতার আলোকে পণ্য উন্নয়ন করতে হবে।

১০) ১১তম ধাপে আবার পণ্য উৎপাদনে যেতে হবে।

উপরোক্ত ধাপ সমূহ মেনে চললে একটি ব্যবসা এক সময় না এক সময় সফল হতে বাধ্য। পাঠক তার মন্তব্য দিয়ে লেখাটি প্রাণবন্ত করবেন আশা রাখি।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

ই-কমার্স বিজনেস যে ভাবে শুরু করবেন

opening-ecommerce-businessঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করা আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম অবদান। সারা বিশ্বের মত বর্তমানে বাংলাদেশেও ই কমার্স বিজনেস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দোকানে বা শপিং মলে না গিয়ে, নিজের পছন্দ মত পণ্য ঘরে বসে কিনতে অনেকে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করে। এতে সময় এবং শ্রম বেচে যায়। ই-কমার্স বিজনেসের জনপ্রিয়তার এটি অন্যতম কারণ।

যেভাবে শুরু করবেনঃ

আপনি যদি নতু্ন উদ্যোক্তা হিসাবে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে চান, প্রথমে আপনাকে পণ্য নির্বাচন করতে হবে। যে পণ্য খুব সহজে আপনি ক্রেতার নিকট পৌঁছে দিতে পারবেন, সেই ধরনের পণ্য নিয়ে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে পারেন। পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অনলাইন ক্রেতার চাহিদার কথা বিবেচনা করতে হবে। যারা অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার করে পণ্য কিনবে, তারা কি ধরনের পণ্য কিনতে আগ্রহী সেই বিষয়ে খেয়াল রেখে পণ্য নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া আপনি যদি কোন পণ্য বিক্রয় বা সরবরাহ করে থাকেন তাহলে আপনার পণ্য নিয়েই ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে পারেন।

যা যা প্রয়োজনঃ

ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে হলে প্রথমে কোম্পানির জন্য ভাল একটি নাম পছন্দ করতে হবে এবং নামের সাথে মিল রেখে একটা ডোমেইন কিনতে হবে। অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করার মূল শর্ত হল ওয়েবসাইট থাকা । আপনার পণ্যগুলো ছবি সহ বর্ণনা করে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। যেখানে আপনার সকল পণ্যের দাম উল্লেখ থাকবে। পণ্য বাছাইয়ের মাধ্যমে সহজে ক্রয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যে কোন প্রয়োজনে তাৎক্ষনিক ক্রেতাদের সহায়তা দেবার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

পেমেন্ট ওয়ে বা টাকা পরিশোধের মাধ্যমঃ

ক্রেতাদের জন্য পণ্যের দাম পরিশোধের মাধ্যমটা খুব গুরুত্বপূর্ণ । কয়েকটা উপায়ে পণ্যের দাম আপনি গ্রহণ করতে পারেন। বাংলাদেশে বর্তমানে পে অন ডেলিভারি/ক্যাশ অন ডেলিভারি ব্যবস্থাটা খুব জনপ্রিয়। এক্ষেত্রে পণ্য হাতে পেয়ে ক্রেতারা টাকা পরিশোধ করবে। এছাড়া অন্যান্য পেমেন্ট মাধ্যমেও টাকা গ্রহণ করতে পারেন। মোবাইল ব্যাংক বা সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা গ্রহণ করেও পণ্য পাঠাতে পারেন।

ক্রেতার কাছে যে ভাবে পণ্য পৌছাবেনঃ

ক্রেতার কাছে নিরাপদে পণ্য পৌঁছানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন ক্রেতা পণ্য অর্ডার করার পর, যত দ্রুত আপনি পণ্যটি তার কাছে পৌঁছাতে পারবেন আপনার ব্যবসার জন্য তত সুফল বয়ে আনবে। তাই পণ্য সরবরাহের বিষয়টি আপনাকে সব থেকে বেশি খেয়াল রাখতে হবে। আপনি ক্রেতার কাছে কয়েকটি উপায়ে পণ্য পাঠাতে পারেন।

১) নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থার মাধ্যমে
২) থার্ড পার্টি কুরিয়ারের মাধ্যমে
৩) ই-কমার্স পণ্য সরবরাহকারীদের মাধ্যমে।

ই-কমার্স বিজনেসের শুরুতে থার্ড পার্টি কুরিয়ার ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে কুরিয়ার কোম্পানিদের সাথে আগে থেকে চুক্তি করে নেয়া ভাল।

প্রচারই প্রসারঃ

প্রথম অবস্থায় যখন আপনি ই-কমার্স বিজনেস শুরু করবেন তখন আপনার কোনো ক্রেতা থাকবে না। এক্ষেত্রে আপনাকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। অনলাইন, অফলাইন উভয় ক্ষেত্রে আপনাকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। অনলাইনে বিজ্ঞাপনের জন্য আপনি ফেসবুক, গুগল এডওয়ার্ড, নিউজসাইট বা জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্লগে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এছাড়া অফলাইনেও প্রচার করতে হবে। যত বেশি গ্রাহকের কাছে আপনি পৌঁছাতে পারবেন আপনার পণ্যের বিক্রয় তত বেশি বেড়ে যাবে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শঃ

ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে হলে মোটামুটি ভাল অংকের টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। তাই ই-কমার্স বিজনেস শুরু করা আগে বিষয়টা ভাল করে ভেবে নিবেন। মার্কেট রিসার্স করে গ্রাহকদের মতামত বিবেচনা করে পণ্য নির্বাচন করা যুক্তিযুক্ত হবে। আপনি চাইলে কম খরচেও ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে পারেন । কিছু কিছু কোম্পানি আছে যারা ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের পণ্য সরবরাহ করে থাকে। এজন্য আপনাকে অনেক পণ্য স্টক করে রাখার প্রয়োজন হবে না। বর্তমানে বাংলাদেশে কিছু কুরিয়ার আছে যারা ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের পণ্য সরবরাহ করতে সহায়তা করে। এছাড়াও একটা ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে ৫০,০০০/- টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তাই প্রথমে ফেসবুক এপসের মাধ্যমে অনলাইন শপ তৈরি করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্স খুব চ্যালেঞ্জিং একটা বিজনেস। ই-কমার্স বিজনেসে পণ্যের মান নিশ্চিত করা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি ভাল মানের পণ্য সরবরাহ করেন তাহলে আপনার ক্রেতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এছাড়া পণ্যের দাম পরিশোধ ও সরবরাহের বিষয়ে যথেষ্ট খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিনিয়ত প্রচার এবং প্রসারের মাধ্যমে আপনার ই-কমার্স কোম্পানিটি জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করতে হবে।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।