জেনে নিন গ্রিন-টি নিয়মিত পানের উপকারিতা

চা একটি অতি সুস্বাদু এবং সতেজকারী পানীয় । চায়ের রয়েছে বিভিন্ন ঔষধি গুন। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যায় বাজারে। মূলত ব্ল্যাক টি আর গ্রীন টি ই বাজারে অধিক প্রচলিত। ব্ল্যাক টি এর চাইতে গ্রীন টি শরীরের জন্য অধিক উপকারী। কারণ গ্রীন টি এর মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। যেমন গ্রীন টি-তে রয়েছে ভিটামিন-এ, জিঙ্ক, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-বি, এন্টি অক্সিডেন্ট , ভিটামিন-ই, ভিটামিন-সি, বাইওটিন, ভিটামিন-কে, ইপিগ্যালকেটেচিন গ্যালাটে ইত্যাদি।

আজ গ্রীন টি এর এসব পুষ্টিগুণের ফলে আমাদের শরীরে কি কি উপকার সাধিত হয় সে সম্পর্কে জানব।

১। আথেরোসেক্লরোসিস এর ঝুঁকি কমায়ঃ

আথেরোসেক্লরোসিস এক ধরনের রোগ যা ধমনী বা শিরার ভেতরে প্লাক তৈরি করে রক্ত চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে । ধমনীর মাধ্যমেই হৃদপিণ্ড এবং শরীরের অন্যান্য অংগ প্রত্যঙ্গে রক্ত প্রবাহিত হয়। সুতরাং ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি হলে তা আমাদের শরীর এবং হৃদপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকর।

এক্ষেত্রে গ্রীন টি এর ভেতরে বিদ্যমান ইপিগ্যালকেটেচিন গ্যালাটে নামক উপাদানটি ধমনী বা শিরাতে এই প্লাক প্রতিরোধ করে আথেরোসেক্লরোসিস নামক রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

২। কোলেস্টোরেল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেঃ

গ্রীন টি শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে আনে । গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে ১০ কাপ গ্রীন টি পান করলে তা তাৎপর্যপূর্ণভাবে ক্ষতিকর কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।

৩। ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ

গ্রীন টি কিছু কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। যেমনঃ স্তন ক্যান্সার, যকৃতের ক্যান্সার, মূত্রথলির ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার,ত্বকের ক্যান্সার এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার।

তবে এমন কোন গবেষণা করা হয়নি যে ঠিক কত পরিমাণে গ্রীন টি পান করলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব কিন্তু তারা গ্রীন টি- তে ইপিগ্যালকেটেচিন গ্যালাটে নামক উপাদান খুঁজে পেয়েছে যা খুব কার্যকরী ক্যামো প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। ক্যামো প্রতিরোধক উপাদানটি ক্যান্সার ধরা পড়ার আগেই ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষগুলোর সাথে লড়াই করে এবং ক্যামো থেরাপির মতই এটি শরীরে ক্যান্সারের চিকিৎসা করতে থাকে।

৪। উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেঃ

গ্রীন টি আমাদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে সহায়তা করে কারন এর মধ্যে কিছু পরিমাণে ক্যাফেইন আছে। তবে এটা মনে রাখা জরুরী যে, গ্রীন টি-তে খুব অল্প পরিমাণে ক্যাফেইন আছে তাই কেউ যদি কফি পান করে অভ্যস্ত হয় তবে তার নিজের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করার জন্য বেশ কয়েক কাপ গ্রীন টি পান করতে হবে।

৬। গ্রীন টি কারডিওভাস্কুলার এর স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়তা করেঃ

গ্রীন টি বিভিন্নভাবে হৃদপিণ্ডকে ভাল রাখতে সহায়তা করে। এর মধ্যে একটি হল গ্রীন টি কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে কারডিওভাস্কুলার প্রক্রিয়াকে ভাল রাখতে সহায়তা করে।

৭। ত্বক প্রানবন্ত এবং সুস্থ রাখতে সহায়তা করেঃ

গ্রীন টি এর মধ্যে বায়োটিন নামক এক ধরনের ভিটামিন খুঁজে পাওয়া গেছে যা ত্বক প্রাণবন্ত রাখতে সহায়তা করে এবং ত্বক সুস্থ রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাছাড়াও গ্রীন টি এর মধ্যে যে এন্টি অক্সিডেন্ট আছে তা ত্বকে বয়সজনিত ছাপ প্রতিরোধ করে এবং সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি এর ফলে ত্বকের ক্ষতি হওয়া থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

৮। দাঁতের ক্ষয়রোধ করে এবং মুখের দুর্গন্ধ প্রতিরোধ করেঃ

গ্রীন টি বিভিন্নভাবে আমাদের মুখের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়তা করে। যেমনঃ গ্রীন টি আমাদের লালার মধ্যের অম্লতার পরিমাণ কমিয়ে আনে এবং এর ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক উপাদান আমাদের মুখের ভেতরের অংশকে পরিষ্কার এবং সুস্থ রাখতে সহায়তা করে যার ফলে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় না।

৯। বিষণ্ণতা প্রতিরোধে সহায়তা করেঃ

গ্রীন টি এর মধ্যের এমিনো এসিড এল- হিনিং শরীরে এক ধরনের শান্ত এবং প্রশান্তি অনুভূতি উৎপাদন করতে সক্ষম। তাই এটি একটি প্রাকৃতিক বিষণ্ণতা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

গ্রীন টি এর আরও অনেক উপকারীতা রয়েছে। তার কিছু মাত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু গ্রীন টি উপকারী বলেই যে একসাথে অনেক পরিমাণে পান করলেই এসব উপকারীতা দ্রুত পাওয়া যাবে তেমন নয়। প্রতিনিয়ত পান করলে ধীরে ধীরে এসব সুফল পাওয়া সম্ভব। তবে অবশ্যই এটা মাথায় রাখতে হবে যে, মাত্রাতিরিক্ত যেকোন জিনিসই ক্ষতিকর। তাই গ্রীন টি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও দিনে ১০ কাপের বেশী গ্রীন টি পান করা উচিত নয় কারণ দিনে ১০ কাপের চাইতে বেশী গ্রীন টি পান করলে তা যকৃতের ক্ষতির কারণ হয়।

আর্টিকেলটি cookingdetective.com তে প্রকাশিত এই লেখাটি অনুকরনে লিখা হয়েছে।

জেনে নিন ইতিবাচক চিন্তা করার পদ্ধতি ও এর সুফল সম্পর্কে

The Secrets of Positive Thinking

ইতিবাচক চিন্তা এমন একটি মানসিক মনোভাব যার জন্য আমরা ভাল এবং সন্তোষজনক ফলাফল আশা করে থাকি । অন্যভাবে বলা যায় যে, ইতিবাচক চিন্তা হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা আমাদেরকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাথা ঠাণ্ডা রেখে চিন্তা করতে সহায়তা করে । সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে ইতিবাচক চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

Mayo clinic in Rochester এর ১টি গবেষণায় কিছু রোগীকে পারসোনালিটি টেস্ট করা হয় যেখানে তাদের optimism ( আশাবাদ ) and pessimism ( দুঃখবাদ ) পরিমাপ করা হয় । ৩০ বছর ধরে এই রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং গবেষণার ফলাফলে এটা পাওয়া গেছে যে, optimistic দের গড় আয়ু বেশী এবং pessimistic দের গড় আয়ু তুলনামূলক কম । গবেষকেরা এটা খুঁজে পেয়েছেন যে, optimism মানুষের immune system কে শক্তিশালী করে এবং সুস্থ জীবন যাপনে সহায়তা করে । যারা optimistic তারা নিজেদের সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা করে এবং নিজেদের যত্ন নেয় । কিন্তু pessimistic রা অযথা নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা করে যা তঁদেরকে অসুস্থ করে ফেলে এবং তারা উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতায় ভুগে থাকে ।

অনেক গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে, যখন কেউ ইতিবাচক চিন্তা করতে থাকে তখন সে নিজেকে অনেক বেশী সুখী ভাবতে পারে এবং সে অনেক কিছুই অর্জন করতে পারে সহজেই । আসুন জেনে নেওয়া যাক যে আমরা কিভাবে ইতিবাচক চিন্তা করতে পারি ।

১. সময় নিনঃ

যখন আপনার সাথে খারাপ কিছু ঘটবে, সেই সময়টা অতিবাহিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন । নিজেকে সময় দিন। এটা আপনার ভেতরে ইতিবাচক চিন্তা তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এটা আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । সময় ক্ষত সারাতে সহায়তা করে এবং এটা আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে ।

২. ইতিবাচক মানুষের সাথে মিশুনঃ

এমন কিছু মানুষের সাথে মিশুন যারা আপনাকে আশা দেখায়, গঠনমূলক কাজ এবং আলোচনায় সাহস যোগায় । এমন মানুষের সঙ্গ পরিত্যাগ করুন যারা প্রতিনিয়ত আপনাকে আশাহত করে এবং আপনাকে নেতিবাচক চিন্তা করতে উৎসাহিত করে।

৩. অন্যদের সাহায্য করুনঃ

আপনার সাধ্যমত অন্যদের সাহায্য করুন । অন্যদের সাহায্য করলে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় যা আপনাকে আপনার জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক হতে সাহায্য করবে ।

৪. আপনার যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুনঃ

আপনার যা কিছু আছে প্রতিদিন ৫টি করে সেগুলোর নাম লিখুন এবং সেজন্য সন্তুষ্ট থাকুন কারণ আপনার যা আছে অনেকেরই তা নেই । আর যদিও বা থেকে থাকে তবে তাও চিন্তা করে দেখুন যে আপনার দুঃখিত হবারও কোন কারণ নেই যেহেতু অন্যদের যা আছে আপনারও তাই আছে । এটি আপনাকে ইতিবাচক হতে সাহায্য করবে । Joseph Campbell এর মতে,“Find a place inside where there’s joy, and the joy will burn out the pain. অর্থাৎ এমন কিছু খুঁজে বের করুন আপনার প্রতিদিনের জীবন যাপন থেকে যা আপনাকে সুখের অনুভূতি দিবে এবং আপনার কষ্টগুলোকে দূরে রাখবে ।

৫. ইতিবাচক উক্তি পড়ুনঃ

প্রতিদিন কিছু ইতিবাচক উক্তি পড়ুন । ইতিবাচক উক্তি পড়লে আশা জাগে,নিজের ভেতরের ভয় দূর হয়। আবার ইতিবাচক উক্তি আমাদের বিষণ্ণতাকেও দূর করে । নিচে কিছু ইতিবাচক উক্তি দেয়া হল উদাহরণস্বরূপঃ

“Work hard for what you want because it won’t come to you without a fight . You have to be strong and courageous and know that you can do anything you put your mind to. If somebody puts you down or criticizes you, just keep on believing in yourself and turn it into something positive.” (Leah LaBelle ).

“Take chances, make mistakes. That’s how you grow. Pain nourishes your courage. You have to fail in order to practice being brave.” – (Mary Tyler Moore)

“Hope is a waking dream.” – (Aristotle)

“Today is a new beginning, a chance to turn your failures into achievements & your sorrows into so goods. No room for excuses.” – (Joel Brown)

“If you think you can do a thing or think you can’t do a thing, you’re right.” –( Henry Ford )

“No matter what the situation, remind you “I have a choice.” – (Deepak Chopra)

“We are all here for some special reason. Stop being a prisoner of your past. Become the architect of your future.” – (Robin Sharma)

৬. নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুনঃ

কোন এটা ভুল হলে আমরা নিজেদের অনেক দোষারোপ করি । নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনা । এতে করে আমাদের মধ্যে নেতিবাচক চিন্তা আরও দৃঢ় হয় । সবার আগে নিজেকে নিজে ক্ষমা করা শিখতে হবে। যখন আমরা নিজেকে ক্ষমা করতে পারব তখন আমরা অন্যদের সম্পর্কেও ইতিবাচক হতে পারব । আমরা যদি নিজেরা নিজেদের ভুলের জন্য নিজেকে ক্ষমা করতে না পারি তাহলে অন্যদেরও ভুলের জন্য ক্ষমা করতে পারবনা । যদি এটা ভাবা যায় যে ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে তাহলে নিজেকে ক্ষমা করাটা সহজ হয় ।

এ সম্পর্কে John Wooden বলেছেন, “If you’re not making mistakes, then you’re not doing anything. I’m positive that a doer makes mistakes.”
অর্থাৎ,তুমি যদি ভুল না কর তবে তুমি কোন কাজই করোনা । আমি মনে করি কর্মঠ লোকেরাই ভুল করে । কোন কাজ করতে গেলে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ আমরা কেউই সম্পূর্ণ নিখুঁত নই, তাই এ কথাটা মেনে নিলে ক্ষমা করাটা সহজ হয় ।

৭. খুঁজে দেখুন ভুলটা হচ্ছে কোথায়ঃ

ইতিবাচক চিন্তা করার অর্থ এই নয় যে, আপনি আপনার ভুলগুলো এড়িয়ে যাবেন,ভুলগুলো শোধরানোর চেষ্টা করবেন না । বরং ইতিবাচক চিন্তা করার অর্থ হচ্ছে বর্তমানে যে সমস্যা হচ্ছে তা বোঝার জন্য সময় নেয়া, কোথায় এবং কেন ভুলগুলো হচ্ছে তা খুঁজে বের করা যেন ভবিষ্যতে সফলভাবে এসব সমস্যা এড়ানো যায় । তাই কোন নেতিবাচক বিষয় ঘটতে থাকলে তার পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধান করার চেষ্টা করুন আর যদি সমাধান করার কোন পথ খুঁজে না পাওয়া যায় তবে হতাশ না হয়ে সেই সময়টা কেটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন দুঃসময়য়ের পর সুসময় আসবেই ।
“You’re going to go through tough times – that’s life. But I say, ‘Nothing happens to you, it happens for you.’ See the positive in negative events.” ( Joel Osteen ).

৮. ব্যর্থতাকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুনঃ

কথিত আছে, failure is the pillar of success . আসলেই কিন্তু তাই । মাঝে মাঝে আমাদের জীবনের সব চেয়ে নেতিবাচক ব্যর্থতাগুলো আমাদেরকে বড় বড় সাফল্য অর্জনের পথ তৈরি করে দেয়। যেমনঃ যখন আপনি আপনার চাকরি হারাবেন তখন সুযোগ তৈরি হয় নিজের কোন ব্যবসা শুরু করার যা থেকে আপনি অনেক বেশী লাভবান হতে পারবেন অথবা আরও সম্মানজনক কোন কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন । ভেবে দেখুন আপনার জীবনেও এমন কিছু ব্যর্থতা আছে যার কারণে আপনি পরবর্তীতে আরও বড় কিছু সাফল্য হয়ত পেয়েছেন যা আপনি হয়ত কখনই ভাবেননি ।

সুতরাং ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে সেই ব্যর্থতার পেছনের সাফল্য আসার জন্য অপেক্ষা করুন । এ সম্পর্কে Marla Gibbs বলেছেন,
“I truly believe that everything that we do and everyone that we meet is put in our path for a purpose. There are no accidents; we’re all teachers – if we’re willing to pay attention to the lessons we learn, trust our positive instincts and not be afraid to take risks or wait for some miracle to come knocking at our door.”

সুতরাং ইতিবাচক চিন্তা করুন,ইতিবাচক কাজ করুন এবং অন্যদের প্রতিও ইতিবাচক হন তাহলে আপনিও ইতিবাচক ফল পাবেন । আর গবেষণায় প্রমাণিত যে, ইতিবাচক চিন্তার মানুষ অনেকদিন বেঁচে থাকে,অনেক রোগ থেকে মুক্তি পায় । শুধু ইতিবাচক চিন্তা করলেই যদি এত উপকার পাওয়া যায় তাহলে ইতিবাচক চিন্তা করাটাই তো বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক ।

এ ধরণের আরও লেখা পড়ুনঃ

কফি পান করলে পাবেন এই ৭ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

Usefulness-Of-Drinking-Coffee-compressor-compressorপানীয় হিসেবে আমরা সবাই কম বেশী চা পান করে থাকি। কফির তুলনায় চা আমাদের দেশে বেশি জনপ্রিয়। চা এবং কফি কোনটি অধিক উপকারী এটা বলা কঠিন যখন কিনা এই উভয় পানীয়েরই কিছু নিজস্ব গুনাগুন আছে।

তাই চা অধিক উপকারী না কফি অধিক উপকারী এই তর্কে না গিয়ে আসুন এখানে আমরা কফি পানের কিছু উপকারিতা জেনে নিই যা কিনা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য দরকারি, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

Anti-Oxidant এর উৎস

২০০৫ সালে পরিচালিত এটি গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, অন্য কোন কিছুতেই এতটা antioxidant নেই যা কফিতে আছে। যদিও ফলমূল ও শাকসবজিতে প্রচুর antioxidant আছে কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে মানব দেহ কফি থেকে অধিক পরিমাণে antioxidant শোষণ করে। তাই কফি থাকতে পারে আপনার প্রিয় পানীয়ের তালিকায়।

ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়

The American Chemical Society এর মতে, কফি Type-2 ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। গবেষকেরা এটা খুঁজে পেয়েছেন যে যারা প্রতিদিন ৪ কাপ অথবা তার চাইতেও অধিক কাপ কফি পান করে তাদের মধ্যে
Type-2 ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা ৫০শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, কফির  antioxidant এর cholorogenic acid and quinides কোষের সংবেদনশীলতা কমিয়ে ইনসুলিনের গঠনে সাহায্য করে যা কিনা blood sugar নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আর এভাবে কফি ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে ডায়বেটিস রোগীরা কফি পান করতে পারেন।

Parkinson’s disease এর ঝুঁকি কমায়

Science Daily ২০১২ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে বলা হয়েছে, যারা Parkinson disease এ আক্রান্ত তারা যদি কফি পান করে তবে তা তাদের চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। সুইডেন এর একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, যদিও পারকিন্সন ডিজিজ এর ক্ষেত্রে বংশগত কারণ বিদ্যমান তবুও কফি পান করলে পারকিন্সন ডিজিজ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

কফি আত্মহত্যার প্রবণতা কমায়

Harvard School of Public Health পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ২-৪ কাপ কফি মহিলা এবং পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কমায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কারণ কফি মধ্যম ধরনের বিষণ্ণতা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে । আর যারা বিষণ্ণতায় ভোগে তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশী দেখা যায়। এভাবে কফি বিষণ্ণতা প্রতিরোধ করে আত্মহত্যার প্রবণতা কমায়।

কফি ত্বকের ক্যান্সারের  ঝুঁকি কমায়

Brigham and Women’s Hospital and Harvard Medical School ২০ বছর ধরে ১১২,৮৯৭ জন নারী ও পুরুষের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করে এবং দেখতে পায় যে যেসব মহিলা দিনে তিন অথবা তার অধিক কাপ কফি পান করে তাদের ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে যারা কফি পান করেনা তাদের তুলনায়।

আয়ু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে

কফি আয়ু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। একটি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় যে, যেসব মহিলারা কফি পান করে তাদের ক্যানসার, হার্টের অসুখ কম হয় যা তাদের আয়ু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

মস্তিস্কের কোষের ক্ষতিসাধন হতে রক্ষা করে

বিশেষজ্ঞদের মতে, কফির anti-oxident মস্তিস্কের কোষের ধ্বংস হওয়া রোধ করে এবং neurotransmitter এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে যা জ্ঞানীয় প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত। প্রাথমিক পরীক্ষণে এটা পাওয়া গেছে যে কফি glioma নামে এক ধরনের মস্তিস্ক ক্যান্সার এর ঝুঁকি কমায়। কফি ক্যান্সার এর কোষ গঠনে বাধা প্রদান করে। এভাবে কফি মস্তিষ্ককে সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে থাকে।

সুতরাং, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কফি আমাদের বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করে আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

আরো পড়ুন

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

আত্মহত্যার প্রবণতা বা চিন্তা করা থেকে বের হয়ে আসার কিছু কৌশল

How-To-Save-Someone-From-Suicideআপনি কি আত্মহত্যার কথা চিন্তা করেন? জীবনটা কি মাঝে মাঝেই অর্থহীন মনে হয়? মনে হয় বেঁচে থেকে আর কি লাভ? তাহলে বলব আপনি একা নন অধিকাংশ মানুষই জীবনের কোন না কোন অসহায় মুহূর্তে আত্মহত্যা করার চিন্তা করে থাকে। আত্মহত্যা করার চিন্তা আসা মানে এই নয় যে আপনার ব্যক্তিত্ব ত্রুটিপূর্ণ এবং এটার মানে এই নয় যে আপনি পাগলাটে ধরনের অথবা আপনি দূর্বল চিত্তের।

অনেক ধরনের আবেগিয় অনুভূতি বা কষ্ট এর জন্য আত্মহত্যার চিন্তা আসতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের কাছেই এই কষ্টগুলো অনেক বড় এবং এই কষ্টগুলোর সাথে মানিয়ে চলার ক্ষমতাও আমাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা। সুতরাং কেউ যদি বলে, তোমার কষ্টগুলো আত্মহত্যা করার মত যথেষ্ট বড় নয় তাহলে তার কথায় কান না দেয়াই ভাল। কারণ আমরা প্রত্যেকেই আলাদা এবং আমাদের নিজের কষ্টগুলো আমাদের নিজের জন্য অনেক বড়।

আপনি আত্মহত্যা করার চিন্তা করছেন তার মানে হচ্ছে আপনার কষ্টের মাত্রা এতটাই বেশি যে সেই মুহূর্তে আপনি এত কষ্টের ধাক্কাটা সামলিয়ে ওঠার মত মানসিক অব্থায় নেই। হয়ত সেই মুহূর্তে আপনার কষ্টগুলোকে খুব বেশী অপ্রতিরোধ্য এবং স্থায়ী মনে হচ্ছে।

কিছু কিছু সময় যদিও এটা মনে হতে থাকে যে আমাদের এই কষ্টগুলো আর কখনই শেষ হবেনা এবং আমরা সবসময়ই এমন অসুখী থাকব কিন্তু পাশাপাশি এটাও অনুধাবন করা জরুরী যে সাধারণত সব সঙ্কটই সাময়িক। প্রায়ই অপ্রত্যাশিত ইতিবাচক ঘটনা ঘটতে থাকে, আমাদের অনুভূতি পরিবর্তন হয় এবং অধিকাংশ সময় সেই সংকটময় সমস্যার সমাধানও পাওয়া যায়। আর এজন্য নিজেকে সময় দিতে হবে বিষয়গুলো পরিবর্তন হওয়ার জন্য এবং কষ্টগুলো প্রশমিত হওয়ার জন্য।

আসুন জেনে নেয়া যাক যখন এমন আত্মহত্যার চিন্তা আসবে তখন আমরা কিভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারি।

১) মাদক এবং মদপান করা থেকে বিরত থাকুন

যদি কেউ মাদক এবং মদ্যপান করে থাকে তবে আত্মহত্যা করার চিন্তা আরও শক্তিশালী হয়। কেউ যখন আশাহীন অনুভব করে বা আত্মহত্যা করার চিন্তা করে তবে সেই সময়টায় ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ বা মদ্যপান অথবা মাদক না গ্রহন করাটাই উত্তম।

২) নিজের থাকার জায়গাটি নিরাপদ রাখুন

নিজের ক্ষতি করতে পারে এমন সব জিনিস ঘর থেকে সরিয়ে রাখুন যেমন: ঘুমের ঔষধ, ছুরি, কাঁচি, রেজর অথবা যেকোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র এগুলো সরিয়ে রাখুন। যদি এগুলো সরিয়ে রাখা সম্ভব না হয় তবে এমন কোন জায়গায় চলে যাওয়া যেখানে নিজেকে নিরাপদ ভাবা যায়। যদি কেউ কোন অসুখের জ্ন্য ঔষধ গ্রহণ করতে থাকে এবং যদি তা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করার সম্ভাবনা থাকে তবে সেগুলো এমন কাউকে দিয়ে দেয়া যারা শুধু প্রয়োজনীয় পরিমাণে ঔষধ দিবে।

৩) প্রতিদিন সামনাসামনি কারো সাথে কথা বলুন

যদিও সংকটময় সময়টাতে নিজেকে গুটিয়ে রাখতেই বেশি ভাল লাগে কিন্তু তারপরেও কিছু বিশ্বাসী বন্ধু অথবা প্রিয়জনকে বলুন কিছুটা সময় আপনার সাথে কাটানোর জন্য। অথবা এমন কাউকে যদি কাছে না পাওয়া যায় তবে suicide crisis helpline এ ফোন করুন এবং আপনার অনুভূতিগুলো তাদের সাথে বলুন। আপনার সঙ্কট ময় মুহূর্তে তারা আপনাকে প্রয়োজনীয় মানসিক সেবা প্রদান করে যথাসম্ভব আপনার পাশে থাকার চেষ্টা করবে।

বাংলাদেশে suicide crisis helpline number হচ্ছে :-

“কান পেতে রই ”

ফোন:

Gp ; 01779554391 , 01779554392

Airtel ; 01688709965 , 01688709966

Blink ; 01985275286

Robi ; 01852035634

৪) একটি নিরাপত্তা তালিকা তৈরি করুন

বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপের একটি তালিকা তৈরি করুন যেগুলো আপনি আত্মহত্যার চিন্তা আসলে তা থেকে বের হওয়ার জ্ন্য অনুসরণ করতে পারবেন। যেমন: ডাক্তার অথবা আপনার যদি কোন থেরাপিস্ট থাকে তার ফোন নাম্বার হাতের কাছেই রাখুন। আপনার কাছের কোন বন্ধুর ফোন নাম্বার অথবা আপনার পরিবারের সদস্যদের ফোন নাম্বার লিস্ট করে দেয়াল বা অন্য কোথাও ঝুলিয়ে রাখুন যেখানে সহজেই আপনার চোখে পরবে। যেন সংকট মুহূর্তে চাইলেই আপনি যে কারও কাছে ফোন করে আপনি আনার অনুভূতি জানাতে পারেন। আর উপরোক্ত কারও কাছে যদি সাহায্য চাইতে দ্বিধাবোধ করেন তবে suicide crisis helpline number টাও আপনার লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করুন। হেল্প লাইন এর সেচ্ছাসেবকরা আপনার পাশে থেকে আপনাকে সংটময় পরস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে সহায়তা করবে।

৫) একটি দৈনন্দিন কাজের লিখিত তালিকা তৈরি করুন

প্রতিদিন পুরো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আপনি কি কি কাজ করবেন তার লিখিত এটি তালিকা তৈরি করুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করুন এমনকি কাজটা যত সামান্য কাজই হোক না কেন রুটিন অনুসরণ করে তা করার চেষ্টা করুন। যতটা সম্ভব প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরি করুন এমনকি আপনার অনুভূতিগুলো যদি আপনার নিয়ন্ত্রনের মধ্যে না থাকে তবুও রুটিন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৬) বাইরে ঘুরতে যাওয়া

প্রতিদিন সকাল বিকাল এবং রাতে অন্তত ৩০ মিনিট করে ঘুরতে বের হওয়া। এমন কোন জায়গায় যাওয়া যেখানে লোক সমাগম রয়েছে। এই সময়টাতে জনশূন্য কোন জায়গায় গেলে আত্মহত্যার প্রবণতা আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই এই সময় লোক সমাগমের মাঝে থাকলে আত্মহত্যার চিন্তা থেকে অনেটাই দূরে থাকা যায়।

৭) এমন কিছু করুন যা করতে ভাল লাগে

যদি এমন হয় যে খুব অল্প জিনিস আছে যা আপনাকে আনন্দ দিতে পারে তাহলে সেই কাজটি বা সেই বিষয়টিই করতে থাকুন যদিও তা করতে ইচ্ছা না করে তবুও জোর করেই করুন দেখবেন আসতে আসতে আপনার ভাল লাগা শুরু করবে।

৮) নিজের যত্ন নিন

নিয়মিত খাবার গ্রহন করুন এবং পরিমিত ঘুমান। ব্যায়াম করুন, এটা এন্ড্রফিন নিঃসরণ করে আমাদের চাপ কমায় এবং আবেগিয় অনুভূতিকে ইতিবাচক করে।

৯) নতুন নতুন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হোন :

নিজের নতুন নতুন শখ খুঁজে বের করুন অথবা এমন কোন কাজে নিজেকে নিযুক্ত করুন যেগুলো আপনাকে আতম তৃপ্তি প্রদান করবে। এগুলো আপনাকে নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা করতে শেখাবে এবং আপনি আপনার জীবন সম্পর্কে আশাবাদী হতে শিখবেন।

এটা মনে রাখা জরুরী আত্মহত্যা কোন সমস্যার সমাধান নয়। আমাদের জীবনে কোন সমস্যাই স্থায়ী নয়। যদি কেউ আত্মহত্যা করা ছাড়া সমস্যার কোন সমাধান খুঁজে না পায় তবে তার মানে এটা নয় যে সেখানে অন্য কোন সমাধান নেই কিন্তু সংকটময় মুহূর্তে হয়ত আমরা সেই সমাধান গুলো খুঁজে পাইনা। তাই আমাদের সংকটময় মুহূর্তগুলোতে সমস্যা সমাধানের অন্যান্য পথগুলো ও খুঁজে দেখতে হবে কারন আমাদের প্রত্যেকের জীবন অনেক বেশি মূল্যবান। আত্মহত্যার প্রবনতার পেছনে হতাশা, আশাহীনতা এবং বিষণ্ণতা সহ আরও নানাবিধ মানসিক কারন থাকতে পারে।

তাই কারও যদি আত্মহত্যার প্রবণতা খুব বেশি থেকে থাকে এবং সে কোন ভাবেই সেই প্রবণতা থেকে বের হতে না পারে তবে তাকে অবশ্যই দ্রুত কোন অভিজ্ঞ মন চিকিৎসক অথবা মনোবিজ্ঞানীর কাছে থকে মানসিক সহায়তা নিতে হবে।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

উদ্বিগ্নতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কিছু পরামর্শ

Get Rid From Anxiety

উদ্বেগ কি

উদ্বেগ হচ্ছে উৎকণ্ঠা এবং ভয়ের এটি সম্মিলিত অনুভূতি। এই অবসথায় উৎকণ্ঠা হয় ভবিৎষ্যত নিয়ে আর ভয় হয় বর্তমান পরিস্থিতিতি চিন্তা করে। আমরা সাধারণত কোন চ্যালেঞ্জিং বিষয়ের সম্মুখীন হলে উৎকণ্ঠা এবং ভয়ের সম্মুখীন হই; যেমন -কোন পরীক্ষা, চাকরির ইন্টারভিউ, অথবা মঞ্চ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ইত্যাদি সময়। তখন এমন চিন্তা আসে যে কি হবে যদি পরীক্ষা খারাপ হয়? মানুষ কি ভাববে যদি উপস্থাপনা খারাপ হয়? কি হবে যদি ভাইভা বোর্ডে প্রশ্ন শুনে ঘামতে থাকি ইত্যাদি।

এসব চিন্তা করে তখন আমাদের উদ্বেগের মাত্রা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তখন আমাদের প্রস্তুতি ভাল থাকা সত্ত্বেও কাজটি ঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়না ।

আসুন দেখি কীভাবে আমরা এই অহেতুক উদ্বেগ থেকে বের হয়ে আসতে পারি ।

১) গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন

“The Mindfulness workbook for OCD” বইটির সহযোগী লেখক টম করবী বলেছেন , যখনই আপনি উদ্বিগ্ন হবেন তখনি প্রথমে বুক ভরে শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। বুক ভরে শ্বাস নেয়া এবং ছাড়া খুবই শক্তিশালী উদ্বেগ প্রশমনকারী পদ্ধতি কারণ এটা শরীরের শিথিলিকরন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তাই যখনই উদ্বেগ অনুভব করবেন তখনই বুক ভরে শ্বাস নিন এবং মুখ দিয়ে শ্বাস বের করে দিন।

২) আপনি যে উদ্বিগ্ন এটা মেনে নিন

যখন আমরা উদ্বিগ্ন বোধ করি তখন তা আমরা মেনে নিতে পারিনা। এই না মেনে নেয়াটা আমাদের মধ্যে আরও চাপ সৃষ্টি করে যা আমাদের উবিগ্নতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। “The Mindfulness workbook for OCD” বইটির সহযোগী লেখক টম করবী বলেছেন যখন নিজেকে এটা মনে করিয়ে দেয়া যাবে যে উদ্বিগ্নতা শুধুই একটি আবেগিয় প্রতিক্রিয়া তখন এটা মেনে নেয়া সহজ হয় এবং উদ্বেগ কমে আসে। “Therapy That works” ব্লগের লেখক চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী Deiblar বলেছেন, উদ্বিগ্নতা শুধু একটা অনুভূতি অন্যান্য সব অনুভূতির মতই।
তাই যখন আপনি উদ্বিগ্ন হবেন তা জোর করে অবদমন না করে সেই অনুভূতিটাকে সহজভাবে গ্রহন করুন।

৩) আপনার চিন্তাকে প্রশ্ন করুন

যখন মানুষ উদ্বিগ্ন থাকে তখন নানারকম অদ্ভুত চিন্তা করতে থাকে যেগুলোর বেশিরভাগই অবাস্তব এবং হয়ত কখনই সেরকম কিছু ঘটবেনা। এরকম চিন্তা মানুষের উতবিগ্নতাকে আরও দিগুণ বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী Deiblar এ অবস্থায় নিজেকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে বলেন। যেমন –

  • এই চিন্তাটা কি বাস্তবসম্মত?
  • এটা কি সত্যিই ঘটবে?
  • যদি সত্যিই সম্ভাব্য খারাপ কিছু ঘটে, তবে আমি কিভাবে এটাকে সামলাব?
  • আমি কি কি করব পরিস্থিতিকে সামলানোর জন্য?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চিন্তা করলে উদ্বেগ থেকে বের হয়ে আসাটা সহজ হয়।

৪) visualization অনুশীলন করুন

মনোচিকিৎসক Kelly Heiland, উদ্বিগ্নতা কমানোর জন্য নিচের ধ্যানটি করার পরামর্শ দিয়েছেন। “কোন নদীর পাড় অথবা কোন প্রিয় পার্কের ভেতরে অথবা কোন সমুদ্র তীরে নিজেকে কল্পনা করুন। দেখুন নদীর জলে পাতা ভেসে যাচ্ছে অথবা আকাশে মেঘ ভেসে যাচ্ছে। নিজের আবেগ, চিন্তা এবং সংবেদন দিয়ে আকাশ এবং পাতাগুলোর দিকে মনোনিবেশ করুন এবং শুধু তাদের ভেসে যাওয়া দেখতে থাকুন। অন্য কোন চিন্তা আসলে তা সরিয়ে দিয়ে আকাশ এবং পাতাগুলোর ভেসে যাওয়া দেখতে থাকুন মনোযোগ দিয়ে।

যখন খুব বেশি উদ্বিগ্নতা ভর করবে তখন এই ধ্যানটি আপনার মনকে শান্ত করতে সহায়তা করবে।

৫) নিজেকে ইতিবাচক কথা বলুন

উদ্বিগ্নতার সময় নানারকম নেতিবাচক কথোপকথন চলতে থাকে নিজের মধ্যে। তখন নিজেকে ইতিবাচক বাক্য বলতে থাকুন। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী Deilar বলেছেন, এ সময় নিজেকে এটা বলা যেতে পারে যে, এই উদ্বিগ্নতা খারাপ অনুভূতি দিচ্ছে কিন্তু আমি এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে পারি যা আমাকে এই উদ্বিগ্নতা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এটা মনে রাখা জরুরী যে উদ্বিগ্নতার সময় ইতিবাচক চিন্তা করলে অনেকটাই আরাম বোধ করা যায়।

৬) বর্তমানের ওপর জোর দেয়া

টম করবী বলেছেন, মানুষ যখন উদ্বিগ্ন হয় তখন সে সাধারণত এমন কোন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে থাকে যা কিনা ভবিৎষ্যতে ঘটতে পারে। তিনি বলেন, এরকম দুশ্চিন্তা করার পরিবর্তে থামুন, নিঃশ্বাস নিন এবং এই মুহূর্তে কি ঘটছে সেদিকে মনোযোগ দিন। এমনকি বর্তমানে যদি কোন গুরুতর বিষয়ও ঘটে তাতে মনোযোগ নিবিষ্ট করলে তা পরবর্তী পরিস্থিতিকে সামলে নেয়ার জন্য আপনার দক্ষতাকে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। তাই অহেতুক অজানা ভবিৎষ্যতের কথা চিন্তা না করে বর্তমানের ওপর মনোনিবেশ করুন।

৭) অর্থপূর্ণ কাজে মনোনিবেশ করুন

টম করবী বলেছেন যখন মানুষ উদ্বিগ্ন থাকে তখন কোন অর্থপূর্ণ কাজে মনোনিবেশ করলে উদ্বিগ্নতা অনেকাংশেই কমে যায়। নিজেকে সেই সময়টায় জিজ্ঞাসা করা যে যদি সে উদ্বিগ্ন না থাকত তবে সে কি করত যদি মনে হয় মুভি দেখতেন তাহলে এখনও মুভি দেখতে যান। যদি কেউ বলে ঘুরতে যেতেন তাহলে ঘুরতে চলে যান। কিন্তু কোন কিছু না করে যদি উদ্বিগ্নতা নিয়ে অযথা বসে বসে দুশ্চিন্তা করতেই থাকেন তবে তা আপনার জন্য নেতিবাচক ছাড়া ইতিবাচক কোন ফলাফল বয়ে আনবেনা।

“The bottom line is, get busy with the business of life. Don’t sit around focusing on being anxious–nothing good will come of that.”

যদি কারও অতিরিক্ত উদ্বিগ্নতা সমস্যা থেকে থাকে এবং যদি কেউ তার উদ্বিগ্নতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তবে তাকে অতি দ্রুত অভিজ্ঞ মনরোগ চিকিৎসক অথবা মনোবিজ্ঞানীর কাছে থেকে মানসিক সেবা গ্রহণ করতে হবে। কেননা উদ্বিগ্নতা আমাদের জীবনে খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয় কিন্তু যখন তা চরম আকার ধারণ করে তখন তা মানসিক ব্যাধির পরিচায়ক।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার হতাশা থেকে বের হয়ে আসুন

How to Deal with Frustration of A Broken Relationshipদীর্ঘ দিনের ভালবাসার সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলে বা বহু পুরনো বন্ধুত্ব যখন ভেঙে যায় স্বাভাবিকভাবেই আমরা সবাই ভেঙে পড়ি। জীবনটা তখন অর্থহীন মনে হয়। হতাশা এসে ভর করে। আসুন জেনে নেয়া যাক এমন নাজুক সময়ে আমরা কিভাবে হতাশা কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারি।

  • ইতিবাচক চিন্তা করা: যখন কোন সম্পর্ক ভেঙে যায় তখন বিভিন্ন নেতিবাচক চিন্তা আসে। নিজেকে দোষারোপ করতে থাকি নানা কারণে। যা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে কমিয়ে দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথকে বন্ধ করে দেয় । তাই এ সময় নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা করুন, নিজের ইতিবাচক গুণগুলোকে খুঁজে বের করুন।
  • প্রিয় মানুষের সাথে সময় কাটান: এ সময় এমন কিছু মানুষের সাথে সময় কাটান যারা আপনাকে বোঝার চেষ্টা করে এবং আপনার ভাল লাগা, মন্দ লাগাকে মূল্যায়ন করে । সর্বোপরি যে আপনাকে সম্মান করে এবং আপনাকে আবেগিয় দিক দিয়ে মানসিক সমর্থন দেয়।
  • লেখার অভ্যাস গড়ে তোলা : নিজের মনের যে কোন কথা বা কষ্ট বা আবেগ যেগুলো অন্য কাউকে বলতে চান না বা অনেক সময় বলার মত কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না তখন নিজের কথাগুলো লিখে ফেলুন মনের মাধুরী মিশিয়ে। অনেক সময় যখন কোন বন্ধু খুঁজে পাওয়া যায় না তখন খাতা কলম হতে পারে সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু ।
  • সুখী হবার অন্যান্য পথ গুলো খুঁজে বের করা: নিজের পছন্দনীয় কাজগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোতে মনযোগী হওয়া। যেমন- হতে পারে গান শেখা, রান্না করা, ছবি আঁকা ইত্যাদি। যে কাজগুলো করে আনন্দ পাওয়া যায় এমন কিছু কাজ খুঁজে বের করা। এতে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়বে ।
  • শারীরিক পরিশ্রম করা: ব্যায়াম আমাদের মেজাজ ঠিক রাখতে সহায়তা করে। দিনের কিছুটা সময় শরীরচর্চায় ব্যয় করা। যেমন: দৌড়ানো, হাঁটতে যাওয়া ইত্যাদি। এতে সময়ও কাটবে এবং কিছুটা সময় নিজেকে নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে রাখা যাবে এবং শরীরও সুস্থ থাকবে ।

এখানে সম্পর্ক ভাঙ্গার কারণে সৃষ্ট হতাশা থেকে বের হয়ে আসার কিছু উপায় বলা হল মাত্র। কিন্তু কারও হতাশা যদি খুব বেশি হয় যে তার জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এমন হলে অবশ্যই সময় ব্যয় না করে একজন অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীর কাছে থেকে মানসিক সেবা গ্রহণ করাটাই অধিক ফলপ্রসূ হবে।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।