জেনে নিন গর্ভাবস্থায় মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচ যত্ন সম্পর্কে

pregnant-woman
গর্ভাবস্থায় নিজেকে সুস্থ রাখা শুধু আপনার নিজের জন্যই যে গুরুত্বপূর্ণ তা নয়, আপনার গর্ভস্থ সন্তানের জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ। আপনি এতদিন যেভাবে জীবনযাপন করেছেন সেই রুটিনে আনতে হবে বেশকিছু পরিবর্তন। গর্ভাবস্থায় মায়েদের অনেক ধরণের নিয়ম মেনে চলতে হয় যার মধ্যে আমরা শুধুমাত্র ৫ টি অতি দরকারী বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।

১) আপনার ডাক্তারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুনঃ
গর্ভাবস্থায় প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে আপনার ডাক্তারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং চেকআপ করানো। আপনি সবসময়য় যে ডাক্তারকে দেখিয়ে থাকেন তাকেই দেখাতে পারেন অথবা আপনার নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকতে পারেন। আপনার ডাক্তার দেখানোর নিয়মটি হতে হবে এমনঃ
• গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহ হওয়ার আগে প্রতি ৪ সপ্তাহে একবার ডাক্তার দেখাবেন।
• গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহ হওয়ার পর থেকে প্রতি ২ সপ্তাহ পরপর ডাক্তার দেখাবেন।
• গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহ হওয়ার পর থেকে প্রতি ১ সপ্তাহ পরপর ডাক্তার দেখাবেন।

২) নিয়মিত শরীর চর্চার মাধ্যমে নিজেকে সক্রিয় রাখুনঃ
যদিও গর্ভাবস্থায় ভারি কাজ করতে নিষেধ করা হয় তবে হালকা কিছু ব্যায়াম এই সময় আপনাকে অনেক সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে। গর্ভাবস্থায় মাংসপেশিতে প্রায় সময় যে অস্বস্তিকর ব্যথা হয় তা কমাতে, সন্তান প্রসবের পর শরীর পুনরুদ্ধারে ব্যায়াম সাহায্য করে। এই ক্ষেত্রে মনে রাখবেন
• ৩০ মিনিটের বেশি ব্যায়াম করবেন না।
• খুব ভারি ব্যায়াম করা যাবে না।
• গর্ভাবস্থায় যে ব্যায়ামগুলো করা যাবে শুধু সেগুলোই করতে হবে।
• গর্ভাবস্থায় যদি শরীর অতিরিক্ত ঘামে কিংবা গরম হয়ে যায় তা আপনার সন্তানের জন্যে খুবই ক্ষতিকর। তাই ব্যায়াম করার সময় খেয়াল রাখতে হবে শরীর যেন অতিরিক্ত গরম না হয়।

৩) পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিনঃ
গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের কোন বিকল্প নেই। আপনাকে রাতে অবশ্যই ৮ ঘণ্টা ঘুমোতে হবে আর দুপুরে খাওয়ার পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা ঘুমালে ভাল। ঘুমানোর সময় খেয়াল রাখবেন দুটি বিষয়।
• গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার চেষ্টা করবেন। কেননা এই সময় বাম কাত হয়ে শোয়াটাকেই বিশেষজ্ঞরা বেশি সমর্থন করেন।
• গর্ভাবস্থায় ঘুমের ওষুধ না খাওয়াটাই ভাল। তারপরেও খেতে হলে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৪) আপনার ওজনের দিকে লক্ষ্য রাখুনঃ
গর্ভাবস্থায় আপনার ওজন বেড়ে যাবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই বাড়ার একটি নিয়ম আছে। আপনার উচ্চতা, BMI, আপনার গর্ভাবস্থার সময় সব কিছু মিলিয়ে ওজন দেখা হয়। সবচেয়ে ভাল হয় এই সময় বাসায় একটি ওজন মাপার যন্ত্র থাকলে।

৫) দাঁতের ডাক্তার দেখানঃ
গর্ভাবস্থায় দাঁতের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া এবং দাঁতের ডাক্তারকে দেখানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে এই ব্যাপারটা অনেক মহিলাই জানেন না। এই সময় আপনার শরীর অতিরিক্ত estrogen এবং progesterone উৎপন্ন করে যা আপনার দাঁতের এবং দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন রোগ হওয়ার জন্যে দায়ী। গর্ভাবস্থায় ২-৩ মাস পরপর অবশ্যই আপনার ডেন্টিস্ট এর সাথে যোগাযোগ করুন।

গর্ভাবস্থায় যে ব্যাপারটি মনে রাখতে হবে সেটি হল আপনি কিন্তু এখন আর একা নন। আপনার মধ্যে বড় হচ্ছে আপনার সন্তান। তাই সবসময় নিরাপদে থাকতে হবে আর সব নিয়ম কানুন ঠিকঠাক মেনে চলতে হবে। এতে আপনি যেমন সুস্থ থাকবেন, সুস্থ থাকবে আপনার সন্তানও।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

Leave a Reply