নতুন সিলেবাসে ৩৫ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতিঃ বিষয়-বাংলা

bcs-exam-how-to-study-bangla৩৫-তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০০ নম্বরের। তাই পাটিগণিত বলছে – পড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে। পুরো সিলেবাস দেখে কথাটা সত্যি বলেই মনে হল। হ্যাঁ, প্রিলির পড়া বেড়ে গেছে। কিন্তু এটা তো আপনার একার জন্য না। সবাই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। পরীক্ষাটা প্রতিযোগিতার। পাশ-ফেল নয়। তাই পড়া বাড়ুক-কমুক, কিচ্ছু আসে যায় না। এখন যারা সময়কে কাজে লাগাবেন তাঁরাই হবেন লম্বা রেসের ঘোড়া।

সেজন্যেই আগে বলে দিচ্ছি –প্রিলির জন্য আপনাকে ২০০ পেতে হবে না। তাই কিছু শেষ না হলে না হবে। এসব পরীক্ষায় প্রস্তুতির শেষ বলে কিছু নেই। পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়ে পরীক্ষার হলে যায়, এমন লোক একজনও নেই। এই সন্তুষ্ট না হওয়া, এটাই আপনাকে পথে রাখবে।

তাই আত্মবিশ্বাসী হোন – বাংলাদেশের ১০০, ২০০, ৫০০ বা ১০০০ জনের মধ্যে আপনি আছেনই। আর প্রিলিতে তো আরও অনেক প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করবে। তো না হবার আসলেই কিছু নেই। আপনি চাইলেই সময় কথা বলবে।

বিষয়ভিত্তিক আলোচনার আগে কয়েকটা বেদবাক্য বা ফরজ বলে নেই। নইলে বলতে ভুলে যাব-

  • নতুন সিলেবাস বলে আগের বছরের প্রশ্নকে হেলাফেলা করবেন না, আগের প্রশ্নই আপনাকে লাইনে রাখবে।
  • নতুন গাইড বের হলেই কিনে ফেলুন। সিলেবাস আর আগের প্রশ্ন মাথায় রেখে পড়ুন। দেখুন গাইডে সিলেবাসের কোন কোন জিনিস বাদ দিয়েছে। আমি এখানে কোন বইতে সিলেবাসের কি আছে, সেটা দিতে চেষ্টা করেছি। গাইডে যে জিনিস বাদ দিয়েছে বা আপনার মনের মত হয় নাই, সেটা সময় পেলে ওখানে দেখুন, লিখে ফেলুন।
  • অনেক পড়া। তাই সিলেবাস আর আগের প্রশ্নের বাইরে এলোমেলো জিনিসে সময় দিয়েন না একেবারেই।
  • একটা ২০০ নম্বরের মডেল টেস্টের গাইড কিনবেন। যতবেশি সম্ভব মডেল টেস্ট নিজে নিজে সময় ধরে দিবেন।
  • পরীক্ষায় ভুল উত্তর করবেন না, মাইনাস নম্বরের কথা ভালভাবে মাথায় রাখুন।

সিলেবাসটা খুলে নিন, সুবিধা হবে

বাংলাঃ ৩৫ নম্বরঃ বাংলার সিলেবাসে দুটি অংশ। ভাষা – ১৫ নম্বর, সাহিত্য – ২০ নম্বর।

ভাষাঃ ১৫ নম্বর
প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বানান ও বাক্যশুদ্ধি, পরিভাষা, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দঃ এগুলো এইচএসসির যে কোন ব্যাকরণ বইয়ে আছে। এর মধ্যে ‘ভুল-শুদ্ধি’ আর ‘পরিভাষা’ আগের সিলেবাসে লিখিত পরীক্ষায় ছিল। তাই আগের বাংলা বিসিএস লিখিত পরীক্ষার গাইড (যে কোনটা) দেখতে পারেন। অবশ্যই লিখিত পরীক্ষায় যে বাক্যশুদ্ধি আর পরিভাষা এসেছিল, সেগুলো আগে দেখুন। সিলেবাসে ‘বানান ও বাক্যশুদ্ধি’ আছে। তো এর জন্য এইচএসসির ব্যাকরণ বই তো দেখবেনই। সেই সাথে অবশ্যই নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ডের ব্যাকরণ বই থেকে কয়েকটা অধ্যায় দেখতে পারেনঃ ণ-ত্ব বিধান, ষ-ত্ব বিধান, বাক্য (বাক্যের গুণ মানে আকাংক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতার চাপ্টারটা), বচনের চাপ্টারেও কিছু নিয়ম আছে।

ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, বাক্য, প্রত্যয়, সন্ধি, সমাস: এগুলোর জন্য নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ডের ব্যাকরণ বই যথেষ্ট। এখন কথা হলো – সিলেবাসে এই কয়টা জিনিস নির্দিষ্ট করে দেয়ায় একটা ধোঁয়াশা তৈরি হল। সিলেবাসে ‘শব্দ’ উল্লেখ আছে। এর মানে কি? শুধু শব্দের চাপ্টার নাকি শব্দতত্ত্ব বলতে ব্যাকরণে যা বুঝায় সেটা? আবার লক্ষ্য করুন প্রত্যয়, সমাস এগুলো উল্লেখ আছে। এগুলো দিয়ে কিন্তু শব্দই তৈরি হয়। কিন্তু উপসর্গ, বচন, লিঙ্গ এগুলো উল্লেখ নাই। এগুলোও শব্দতত্ত্বেরই অধীনে। আর আগের প্রিলিমিনারি প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উপসর্গ, বচন এগুলো থেকে অনেক প্রশ্ন এসেছে। তাই এখানে কি পড়বেন সেই সিদ্ধান্তে একটু জটিলতা আছে। তো আমার পরামর্শ হল – আগে সরাসরি যেগুলো উল্লেখ আছে, সেই চ্যাপ্টারগুলো পড়ুন, তারপর সেই সাথে এগুলোর সাথে সম্পর্কিত জিনিসও অবশ্যই পড়তে হবে।

ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ স্থান, ধ্বনি পরিবর্তন, শব্দ, শব্দের শ্রেণীবিভাগ (উৎপত্তি, গঠন ও অর্থ অনুসারে), পদ, বাক্য, প্রত্যয়, সন্ধি, সমাস এগুলোর জন্য আলাদা আলাদা চ্যাপ্টার নবম-দশম শ্রেণীর বইটায় আছে। আর এর সাথে সম্পর্কিত চাপ্টারগুলোও বাদ দেয়া যাচ্ছে না। তার মানে কি? আমার দৃষ্টিতে এর মানে হলো – এই অধ্যায়গুলোর গুরুত্ব বেড়ে গেল। আর আপনি নিশ্চয়ই এতদিনে আগের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করেছেন। সেই আলোকে অন্য অধ্যায় গুলোও পড়ুন।

সাহিত্যঃ ২০ নম্বর
সাহিত্যের জন্য আমার পছন্দের বই – সৌমিত্র শেখরের ‘জিজ্ঞাসা’।

সিলেবাসে সাহিত্যের জন্য আবার ২টা অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগ-৫ নম্বর, আধুনিক যুগ (১৮০০ থেকে বর্তমান)-১৫ নম্বর। এখন আগের রিটেনের সিলেবাসে বাংলার সাহিত্যের কিছু জিনিস উল্লেখ ছিল। এগুলো হলো (আমি আগের সিলেবাসটা থেকে কপি করে দিলাম) – চর্যাপদ, মঙ্গল কাব্য, রোমান্টিক কাব্য, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মধুসূদন, মীর মশাররফ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দীনবন্ধু মিত্র, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদদীন, বেগম রোকেয়া, ফররুখ আহমেদ, কায়কোবাদ, আধুনিক ও সমসাময়িক কালের কবি, লেখক ও নাট্যকার।

এখানে ১১ জন কবি-সাহিত্যিকের নাম সরাসরি দেয়া ছিল। আর সাথে আধুনিক ও সমকালীন কবি, সাহিত্যিকদের কথা উল্লেখ ছিল। এখন ২৭-৩৪ বিসিএসের প্রিলি প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখবেন বাংলার ২০ নম্বরের মধ্যে এগুলো থেকে ১৫ টার মত আসত। তাই এগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ন ছিল। তো ৩৫-তম বিসিএসের জন্য লিখিত পরীক্ষার বিস্তারিত সিলেবাস এখনো দেয়নি। যদি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ১৫ দিন আগেও (মানে প্রশ্ন করার সময় হিসেবে বলছি) লিখিত পরীক্ষার বিস্তারিত সিলেবাস দেয়, তাতে এরকম কয়েকজন কবি-সাহিত্যিকের নাম সরাসরি থাকার কথা। তাহলে সেগুলোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এখন আগের সিলেবাসের এই ১১ জনের সবকিছু পড়ে ফেলুন। আর আধুনিক ও সমকালীন কবি, সাহিত্যিকদের মধ্যে আগের প্রশ্ন দেখে বাছাই করুন – কারা গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকজনের নাম চোখ বন্ধ করেই বলে দেয়া যায় – শামসুর রাহমান, শহীদুল্লাহ কায়সার, জহির রায়হান, মুনির চৌধুরী, সুফিয়া কামাল, সেলিম আল দীন, সেলিনা হোসেন, নির্মলেন্দু গুণ এরকম আরো অনেকেই। আমি এই মুহূর্তে যা মাথায় আসল, তাঁদের নামই লিখলাম। মানে এখানে আরও অনেকেই আসবে।

আর যদি কোন কবি, সাহিত্যিক সাম্প্রতিক সময়ে মারা যান, তাঁর তথ্য যে কোন পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপুর্ণ। এছাড়া আগের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসটায় বড় একটা ফাঁক ছিল। সেটা হলো – প্রমথ চৌধুরী (চলিত ভাষায় অবদানের জন্য যাকে যে কোন বাংলা বিশেষজ্ঞ অনেক উপরে রাখেন), শরৎচন্দ্র (উপন্যাসকে যিনি দুপুরের ঘুমের ঔষধ বানিয়ে দিয়েছিলেন), ৩-বন্দ্যোপাধ্যায় (মানিক, বিভূতি, তারাশংকর), কবিতার পঞ্চ-পাণ্ডব (জীবনানন্দ, বুদ্ধদেব, সুধীন্দ্রনাথ, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী), সুকান্ত ভট্টাচার্য – এরা ছিল না। কিন্তু এদের থেকে প্রশ্ন সব সময়ই আসত। তাই এদেরকে হেলাফেলা না করাই উচিত।

পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে জীবনানন্দ আর বুদ্ধদেবের সব কিছু পড়ে ফেলুন, এরা বাংলাদেশের (পূর্ববংগের) মানুষ ছিলেন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি বাংলা সাহিত্যে আলট্রা-রোমান্টিসিজম থেকে বের হয়ে বাস্তব জীবনের ছোঁয়া দিয়েছিলেন। আর মানিকের লেখায় পূর্ববাংলা গুরুত্ব পেয়েছিল। তাই মানিকের সব কিছু পড়ে ফেলা উত্তম।

শিশু সাহিত্যের কথা ধরলে সুকুমার রায় বাংলার একাধিপতি। তাঁর সম্পর্কেও পড়া উচিত।

আরো পড়ুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।

Leave a Reply